Skip to main content

Full text of "Srima-prasanga Ed. 1st"

See other formats




ড৪ কে, আর, আশীনিবাস আয়েঙ্গার 





শ্রীঅরবিন্দ পাঠমন্দির 
১৫, বক্ষিম চ্যাটাঞ্জি দ্বীট 
কন্দিক্কা11”১২ . 


'অনগবাদক £ শ্রীনিত্যানন্দ বস 


শ্রীসত্যকুমার বস্থ্‌ 
শ্রীঅরবিন্দ পাঠমন্দির 
১৫, বঙ্কিম চ্যাটাজি স্ত্রী 
কলি কাতা-১২ 


গর্কাশক 


প্রথম সংস্করণ : আগস্ট ১৯৫৫ 


মুদ্রাকর £ শ্রীক্ছনীলকষ্ পোদ্দার 
শরগোপাল প্রেস 
১২১, ঝাজা দীনেজ্দ্র স্রীট 
কলিকাতা-৪ ' 


শ্রীমার শ্রীচরণে_ 


“আমার বোধি যদি সীমিত হয়, তারে প্রসারিত কর; 
আমার জ্ঞান যদি তমসাচ্ছুন্ন হয়, তাঁরে উদ্ভাসিত কর? 
আমার হৃদয় যদ্দি উদ্দ্যমবিহীন হয়, তারে প্রোজ্জলিত 

করে ভোল। 

আমার প্রেম যদি তুচ্ছ হয়, তারে প্রগাঢ় করে তোল? 
আমার অনুভূতি যদি অজ্ঞানাচ্ছন্ন ও অহৃমিকা পূর্ণ হয়, 
তারে সত্যের পূর্ণ-চেতন] দাও ।” 


ছু” একটি কথ। 


বইটি ডঃ: কে, আর, শ্রীনিবাস আয়েক্গারের ইংরাঁজী বই 
“অন্‌ দি মাদার” এর অন্থবাদ। এর অধ্যায়গুলি বাংলা 
ব্রেমাসিক পত্রিক1 “বপ্তিকায় ধারাবাহিকভাবে শ্শ্রীম। প্রসঙ্গ” 
নামে বেরিয়েছিল__এগুলি তারই সংকলন মাত্র। 

এ প্রয়াসের পিছনে ছিল শ্রীমার পরম আশীর্বাদ, অশেষ 
করুণ । 

আমার কৃতজ্ঞতা জানাই শ্রীসমীরকান্ত গুধ্ধকে, যাঁর অকু 
সহযোগীতা ও অন্ুপ্রেরণ। ন1 থাকলে পুস্তিকাটি অন্নবাদ করা 
সম্ভব হ'ত না। আর কৃতজ্ঞতা জানাই তাঁদের যার! পুস্তাকাঁকারে 
প্রকাশ করায় সাহায্য করেছেন-__তার! হলেন শ্রীঅরবিন্দ 
পাঠমনিরের কার্ধ্য নির্বাহক মণ্ডলী, শ্রীসোমনাথ মুখোপাধ্যায় 
ও মতী পূর্ণিম! বন্থু। 


অনুবাদক 


সুচীপত্র 


অধাযয় 


১ম £ 
২য় £ 
৩য় £ 
৪র্থ £ 
৫ম £ 
৬ষ্ঠ ঃ 
৭ম £ 


মানবীয় ধারায় 

ত্রয়োদশ বৎসরের শিশু 
বিপ্রবীকে উপদেশ 

উপকথা 

কারণবহুলতা 

দছুঃখ আছে” 

*"ভগবদ সম্ভানের জাতি” 
বিশ্বকশ্মে আমার স্থান কোথায়? 
ধ্যান ও প্রার্থনা 

সাহিত্যিক ও আধ্যাত্মিক সম্পদ 
“অভাগা ছুঃখপূর্ণ পৃথিবী” 
“ভীতিবিহ্বল চিত্তে সমুদ্র বক্ষ হ'তে উদ্ভুত” 
ভারতের পথে 

সভা ও সম্মেলন 

মহান ত্যাগ 
মধ্যস্থা-সহযোগিনী-হ্্টি কত্রা 
“আর্য” পত্রিকার অভিযান 
বিশ্বযুদ্ধব-শোঁণিতাপ্রুত বিনাশ 
পূর্ণীযোগী 

ফ্রান্সে প্রত্যাবর্তন 

জাপান যাত্রা 


পৃষ্ঠা 


১৯ 
৯৫ 
১৮ 


৫ 


৩ ৫ 
৪০ 
৪৬ 
৫১ 
৫৬ 


৬ 


৭১ 
৭৬ 
৮১ 
৮৬ 
৪১ 


৪৬ 


[ ৮০ এ 


অধ্যাঁয় 
২২ংশঃ ভক্ত ও ভগবান 
২৩শ £ “মাতৃবাণী” 
২৪শ £ যোগা শ্রমের শ্রীম। 
২৫শ £ গুরুদেব ও শ্রীম। 
শেষ £ “একেলাই তিনি বিরাট কম্মের সম" 


শ্রীম! প্রসঙ্গ 


এক 


“তুমি তে শ্রীঅরবিন্দের “জীবনী' লিখেছ, কেনই বা তুমি 
শ্রীমায়েরও একটি জীবনী পরিবেশন করবে না |» ূ্‌ 

এরূপ মুদছু আহ্বান করত, অনুনয় জানাত আভাসে ইঙ্গিতে 
আমার বন্ধুরা । কিন্তু এ কাজ কি বাস্তবিকই সম্ভব? অনীমের 
ইতিহাস ব! চিরস্তনীর জীবনালেখ্য রচনার প্রচেষ্টা কেউ কি 
করে? শ্রীমার জীবনী লেখায় সাহস কেউ কি করে? শ্রীম। 
শুধু মা-ই, এর বেশী তার সম্বন্ধে কেউ জানে বলে ত সন্দেহ 
হয়। 

কিন্ত তবু কেনই বা নয়? একটি শিশু তার ক্ষুত্র ক্ষীণ 
ছুটি বাহু বাড়িয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে যখন ঘোষণা করে : “অসীম, 
সে তো এত বড়।” তখন সে-সত্য তার জ্ঞানের পরিমাপে। 
অল্পতর জ্ঞান বৃহত্বর জ্ঞানের অন্তরায় তো কোনদিনই নয়। 
কষত্রতর যা তা নিজেকেই অতিক্রম করতে পারে কালে এবং 
বৃহতের কোঠায় পৌছাতেও পারে। সত্যের কাঞ্চনজজ্ঘা 
একক সরল ক্রেত পদক্ষেপে উত্তীর্ণ হওয়া, হায়, সে আমাদের 
নয়, তাই আমাদের প্রয়োজন ধীরে. সততর্কভাবে উততঙ্গ পাহা- 
ডের পিচ্ছিল ও খাড়াই গা বেয়ে ছুর়ারোহ মন্থর আরোহণ 


২ শীমা-গ্রসক্ক 


পা রেখে শিলাগাত্রের উপর, উৎফুল্ল চোখ রেখে মেঘমুকুট 
শোভিত শিখরের উপর, অদম্য সংকল্পভরে সাহসের সাথে, 
হতবুদ্ধিতা» ক্লান্তি, সন্দেহের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে'-1। 

ত1 হ'লে মানুধীভাবের দিক থেকে শ্রীঅরবিন্ন ও শ্রীমার 
জীবনালেখ্য রচনার বাধা নেই। অপরপক্ষে এও হ'বে 
অপ্রাসঙ্িক যদি শুধু বাহা ঘটনাবলীই বণিত হয়। শুধু 
নিত্যনৈমিত্তিক খুঁটিনাটি দিয়ে তা পূর্ণ কর! হয়, শুধু যদি 
“ইউক্লিডিয়ান” জগতের ওজন ও মাপকাঠি দিয়ে আলোচন। 
চালানে। হয়। জন্ম, বৃদ্ধি, পরিণতি, শৈশব, কিশোর, নারীত্ব, 
পূর্বপুরুষের প্রভাব,পারিপান্থিক অবস্থা শিক্ষাদীক্ষার ছাপ,-_- 
এ সব সাধারণ শ্রেণী গুলিকে পর্ধ্যায়ভূক্ত করার সাথে অস্ত- 
রাত্মার জীবনের কোনই অচ্ছেছ্য সম্পর্ক নেই । অস্তরাত্ম। স্থান 
কাল অতিক্রম করে চলে, তার নেই আদি, নেই অন্ত; 
নেই বিকাশ নেই কোন বিশীর্ণতা।; এ হিন্দু বা ইউরোপীয় 
নয়, এমন কি পুরুষ ব1 নারীও নয়। আত্মা একাস্তভাবে সং, 
চিরস্তন ছিল, চিরস্তনই থাকবে । 

সিদ্ধার্থ, যিশু, রামকৃষ্ণ অগ্ডাল, তেরেসা, রাবিয়! : এর! 
সকলেই পুরুষ বা নারী এতে কোন সন্দেহ নেই ; তবুও একই 
দেবত্ব তাদের ঘিরে, তারা সকলেই আমাদের সাধারণ বোধ 
ও অনুভূতিকে ছাড়িয়ে বু উদ্ধে। নিছক মান্ুযত্ব ত্যাগ করে 
তার! হয়ে উঠেছেন অসীমের বিভূতি, পুর্ণের রাজদূত, অনস্তের 
তীর্থযাত্রী। এমন কি সিদ্ধার্থও জন্মেছিলেন, দিনে দিনে 
সুর্যের আলো ও বৃষ্টির ধারার মধ্য দিয়ে বয়ঃপ্রাণ্ড হয়েছিলেন, 


শীমা-প্রসঙ্গ ৩ 


তিনি ভালবেসেছিলেন, বিবাহ করেছিলেন, তিনিও জেনেছেন 
প্রচেষ্টা সাফল্য ও নৈরাশ্ট। তবুও তার যতকিছু পাধিব 
জীবনের তথাকথিত “ঘটনা” কতই ন] তুচ্ছ, কতই ন1 নিরর্থক 
প্রতিবন্ধক মনে হয়। বুদ্ধ বলতে যখন বুঝি এক সমুজ জ্বল 
অলামান্তা, তখন যেটি সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপুর্ণ প্রয়োজনীয় 
তা হ'ল বহিজশীবনের যত ঠাসা নক্লার অন্তরালে আছে যে 
অধ্যাত্ম জীবনের সত্য তারই নিগুঢ় অধ্যাত্ম ইতিহাস, বহি- 
জর্বনের সেসব কাহিনীও স্থান পায় আমাদের অন্তরে ও 
স্মতিকোঠায়। 

ক্ীমায়ের কথাও ঠিক এরূপই। তিনি একান্তই ম! যখন 
আমর! তার সমীপত্থ হই মানবীয় ভাব নিয়ে।১ মধুময়ী ও 
জগন্মোহিনী মানবী এই মা-ই আবার অনন্ত প্রেম, পাধিব 
প্রজ্ঞার প্রতিমুত্ি হয়ে তিনি আবার শাশ্বত আলো; তবুও 
এই মানুধীভাবে দেখার মধ্যেও, এই বিন্ময়মাখা শিশুসুলভ 
আদর, বিস্ময় ও ভক্তি শ্রদ্ধা! নিয়ে দেখার মধ্যেও এক নিবিড় 


১। ১৯৩৮ সালে কোন এক প্রশ্নের প্রত্যুত্তরে শ্রীমরবিন্দ 
বলেছিলেন-_“ভগবান পরিধান করেন মানুষের সাজ, ধারণ করেন 
মানবীয় প্রকৃতি শুধু মানবীয় পথে বিচরণ করার জন্তে ও মানবকে 
দেখাবার জন্তে, কিন্ত তবুও তিনি তার “ঈশ্বরত্ব* থেকে বিচ্ছিন্ন হন ন। 
এ ঘটে শুধু ক্রমপ্রকাশের জন্তে। প্রকাশোন্থুখ দিবা চেতনার ক্রমস্ফুটনের 
জন্যে, এ শুধু ভগবানের দিকে মাছুষের ফিরে দড়ান নয়। শ্রীমা 
বাল্যকাল থেকেই আন্তর চেতনায় সখ সমপ্নেই মান্ুধীতাবের অনেক 
উপরে। (শ্ীঘরবিনের পঞজাবলী--পৃঃ ৪ ) 


৪ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


শাস্তি ও পবিভ্রতা। “আস্তর জীবনের” একট মোটামুটি 
প্রাথমিক সুচীরেখ। ব। খসড়া__-কয়েকট। দ্রেত অঙ্কিত অথচ 
অর্থপূর্ণ রেখাচিত্র যা সেই জটিল জগতের গুটিকতক বিক্ষিপ্ত 
সাঙ্কেতিক ত্তম্ত ও বাতিঘরকে সংযুক্ত করে-_এইটুকুই একে 
ধরতে চেষ্টা করা ষায়। 


ছুই 


“আমার জীবন উপরে দেখতে খুবই সাধারণ ও যতটা 
সম্ভব আটপৌরে : কিন্তু ভিতরে তার রূপ কি ?*২ 

« এই সত্তার সমস্ত পাঁধিব জীবন, শুরু থেকে এই মুনুর্ঘ 
পর্যন্ত, এর কাছে মনে হয় একটি মিথ্যা স্বপ্নের মত ।৮৩ 

“আমি হলাম পৃথিবীতে একটি প্রকৃত শৃম্ত।৪ 

প্রায় ৩৫ বছর পূর্বে লিখিত শ্রীমায়ের এই বাণীগুলি 
খুবই অর্থপূর্ণ । সাধারণ ও সামান্য ? মিথ্যা স্বপ্ন? প্রকৃত 
শৃন্য? বাহা ও সত্য সম্তা? অন্ধ মানুষ কেমন করে বুঝবে 
ছুয়ের মধ্যে পার্থক্য? শ্রীমায়ের এই “্পাধারণ ও সামান্” 
জীবন হয়তে। বাহাপ্রকাশ মাত্র; কিন্তু অন্তরে অগ্নিশিখ। 
জ্বলন্ত অগ্নিকুণ্ড, আলোর আগ্নেয়ান্ত্রের সক্রিয় বর্ম-_এ সবের 
প্রচণ্ত! কেই বা অন্্মান করেছে, এই আরোহণ যজ্দের 
আবক্ররেখ! আর কেই ব1 চিহিত করেছে? 

২। 70195215 8 1112010900175-2/25] 

৩। 19:85215 ৫০ 1২1901500189-2/23] 

৪1 10:85615 ৫ 10650169200158-9/135 


জ্রীমা-প্রসঙ্গ € 


আজকের এই যে শ্রীমা-_যিনি কফরাসীদেশের একজন 
ব্যাস্ক-অধ্যক্ষের কন্তা--তিনিও একদিন ছিলেন শিশু, কালে 
কৈশোরে পদার্পণ করলেন। উত্তরাধিকার স্ৃত্রে পেলেন 
শাশ্বত প্রকৃতির শক্তি ও মাধুর্য । শিশু, কিশোরী এ 
কথাগুলি কত হুর্রবোধ্য তা একটি কবিতার কয়টী ছত্র থেকে 
বোঝা যায় £ 
“তুমি যার বাহামুত্তি বুঝতে দেয়ন! 
পিছনে-আত্মার ভূমাত, 
শ্রেষ্ঠ দার্শনিক তুমি, তবুও যে রাখো৷ তোমার 
সনাতন প্রকৃতি, তুমি হলে দৃষ্টি ব্বয়ং অন্ধদের জন্তে 
রুদ্ধ তোমার শ্রবণেক্জ্িয়ের ।র ও নীরব তুমি, শাশ্বতের 
গভীরতম অর্থ তুমি খুলে ধর, 
শাশ্বত মন তোমাকে অন্ভুমরণ করে ছায়ার মতো, 
সর্বসমর্থ নবি, কল্যাণী দ্রষ্টা !” 
বালক কৃষ্ণ বালকোচিত ভাবে খানিকটা মাটি তুলে নিল 
মুখের মধ্যে। জননী যশোদ] যখন সে-মুখ খুলতে বললেন 
তখন তিনি দেখলেন আশ্চর্য্যের চেয়ে আশ্চর্য্য- সার! বিশ্ব, 
ভূলোক, ছ্যলো ক; গ্রহনক্ষত্র, চন্দ্রনূর্য্য সীমাহীন জীবজগৎ সবই 
ওই «কাগুজ্ঞানহীন” শিশুর মুখের ভিতর । শিশুটির বিশালত্ব 
একাস্ত সত্য ; ধতই আমর! চেষ্টা করি ছোটর পরিচয়ে তাকে 
আবদ্ধ, আচ্ছন্ন, আনত রাখতে তা৷ সত্বেও । 
তের বৎসর বয়সে শ্রীণা' এক অভিনব রূপাস্তরের 
অভিজ্ঞতা গেয়েছিলেন আর রহত্তটি সেই খেকে প্রায় একটি 


৬ শ্রমা-গ্রসঙ্ 


বছর ধরে জীবনে রোজ "প্রত্যক্ষ করছিলেন অলৌকিক 
সুচনা £ 

“,-.***প্রতিদিন রাত্রে আমি নিদ্রিত হওয়া মাত্রই আমার 
মনে হ'ত যেন আমি শরীরের বাহিরে এসে সোজা! উপরে উঠে 
চলেছি--বাড়ি ছাড়িয়ে সহর অতিক্রম করে-_বছ উদ্ধে। 
দেখতাম যেন আমি আমার চেয়ে দীর্ঘতর একটি অপূর্ধবনুন্দর 
সোনার পোষাক পরেছি । যতই আমি উর্ধে উঠতাম, এই 
পোষাকটিও ততই দীর্ঘ হ'তে থাকত এবং আমার চারিদিকে 
বৃত্তাকারে ছড়িয়ে পড়ত- সহরটির উপর একটি বৃহৎ 
আচ্ছাদন রচন] করে। তারপর আমি দেখতাম চারিদিক 
থেকে লোকেরা আসছে-আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা, অসুস্থ ও 
অন্ুখী। তারপর সেই প্রসারিত পরিচ্ছদটির নীচে 
সমবেত হ'ত, তাদের ছুঃখ ছুর্দশ। ও বেদনার কথ! বলে, 
সাহায্য ভিক্ষা করে। প্রত্যুত্তরে সেই নমনীয় ও জীবস্ত 
পোষাকটি দীর্ঘ হয়ে তাদের প্রত্যেকের দিকেই যেত এরং 
তাদের স্পর্শ করা মাত্রই তারা পেত সান্ত্বনা, হয়ে উঠত সুস্থ, 
এবং পূর্ববাপেক্ষা অধিকতর মুখী ও সবল হয়ে তাদের 
শরীরের মধ্যে পুনঃপ্রবেশ করত। 

আমার কাছে এর চেয়ে বেশী সুন্দর, এর চেয়ে অধিক 
আনন্দের আর কিছুই ছিল ন!। রাত্রের এই কর্মাটি__য। ছিল 
আমার যথার্থ জীবনম্বরূপ--এর কাছে দিনের সকল কর্্মই 
মনে হ'ত নীরস, নিগুণ ও নিশ্র।ণ | এই উর্ধে উঠে চলবার 
সময় প্রায়ই আমার বামপার্থে একজন নীরব, নিবিবচল বৃদ্ধকে 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৭ 


দেখতে পেতাম--তিনি তার শুভেচ্ছা ও সেহ দিয়ে আমার 
দিকে দৃষ্টিপাত করতেন; তার উপস্থিতিই আমাকে উৎসাহ 
দিত। গায়ে বেগুনী রংয়ের দীর্ঘ পোষাক পরিহিত এই 
বৃদ্ধটি 'ছিলেন; তিনি হলেন_-অনেক পরে আমি জেনেছি 
ধাকে লোকের। বলে হু:খের মানুষী বিগ্রহ ।৮৫ 

এ এক অপুবর্ব সতর্ক জাগরণ। সত্যই শিশুটি হ'ল 
কল্যাণীদ্রষ্টা, সব্বসস্তাপহারিণী। এমন কি ছু:খের হিমালয়ও 
একাস্ত নিষ্পিষ্ট করতে পারেন1; তার সেই বিশুদ্ধ প্রসারিত 
পরিচ্ছদটির আছে এক আত্তরগতি এবং এই গতির সাথে 
সাথে শুরু হয় নিরাময় কার্ধ্য ও দূরীভূত হয় সব ব্যথা ।৬ 


তিন 


শিশু যেমন সন্তানের পিতা, তেমনি আবার নারীরও 
মাত1। কবি বলেছেন : 
ওই দেখি সে-নারীরে, যার চোখে চোখ 
মিলাইতে চায় আখি অথচ জানেন। 
কোথায় সে, কার পানে করে আরোহণ 
পৃথিবীর পত্র-যাত্র! ; ন৷ জানিয়া তবু 
৫1 18215 8. 1$1201090101)5-7--61-62 
৬। খযভরাদ লিখেছেন তার [0 106 110061701511600 
(শ্রীধার আলোর পরিপ্রেক্ষিতে ) পৃঃ ৬, ১ম ভাগ পুস্তকে ; “এই 
লোনার পরিচ্ছদটির প্রসারণ হুল ভাগবতী করুণার এক অর্থপূর্ণ তঙ্গি-- 
ঘেন নেমে গসছে ছআর্ততাপিত মাহ্ষের উদ্ধারের জন্য ।” 


৮ শ্রীমা-প্রসঙ্ক 


তারি তরে ছন্দ করে পক্ষ সঞ্চালন ; 

চন্দ্র-স্থৃ্য্যে গাথা তার অসীম ললাট 

তারা-ফুল অঙ্কে নিয়ে ছন্দ-তট হতে 

শীস্ত ক'রে ডেকে আনে সবরের আলোকে 

নিহারিকার সংগীত ; সে বিবিধ-ন্বর 

তার দৃষ্টিমাঝে পায় মৈত্রীর অমৃত, 

তার প্রসন্ন দর্শনে ছন্দিত শুভ্রত। ৷ 

যে তের বছরের শিশু অপূর্ব অসাধারণ সব স্বপ্ন দেখত, 
আর জগতের বেদনার ভার অন্তরে অনুভব করত এবং সে 
বেদন নির্ম,ল হ'য়ে যেত তার নিরাময়কর স্পর্শমাত্রেই, যে 
শিশু ধীরে ধীরে সেই নীরব অচল দুঃখের মান্ুষী বিগ্রহের 
সঙ্গে মিশে যেত, লে শিশু তারপর হলেন একজন “সম্তাস্ত 
মহিলা”। কিন্তু সেই পসন্ত্রাস্ত মহিল1” বিস্মৃত হন নি ভার 
অতীতের নুষ্পষ্ট সব অলৌকিক দর্শন, ভগবানের স্বপ্ন- 
প্রত্যাদেশ। 
অধ্যাত্মের পথে অন্বেধু কয়েকজনের একটি ছোট দল 

একসঙ্গে সভায় বসত কারণ তার! অদৃশ্য পরমের ভাবনায় 
ভাবিত; তারা তাদের গভীরতম ভাব ও চিস্তাধারার আদান 
প্রদান করত, দর্শনশান্ত্র নীতিশাস্ত্রে কণ্টকিত সমস্যার 
আলোচনা করত, আর উদ্দেশ্তমূলক কর্মশক্তির উৎসের 
গবেষণা করত। “সম্সাস্ত মহিল।”ই হলেন এই দলটির প্রাণ 
ও আত্মা, তিনিই এনে দিতেন অনুসন্ধিস্দের মধ্যে স্থল এঁক্য 
এবং পথের নির্দেশ। ১৯০৭ সালে একদিন রাশিয়া থেকে 


জীমা-প্রপঙ্গ ৯ 
একজন আগন্তক প্যারিসে এই দলটিকে খু'জে বার করে 
বলল,__“ইা, কিয়েভ সহরে আমাদের একটি বিদ্যার্থামগুল 
আছে, যার! এই দার্শনিক চিস্তাধারায় গভীর অম্ুরাগী। 
তোমাদের কতকগুলি বই আমাদের হাতে পড়েছে ও অব- 
শেষে তোমাদের সার্ব্বভৌম শিক্ষা দেখে আমরা অত্যন্ত প্রীত 
হয়েছি এই ভেবে যে আমাদের শিক্ষা নিছক মতবাদের গণ্ভীর 
মধ্যেই আবদ্ধ নয়, তার পরিণতি কর্মে। তারপর আমার 
সহকম্মারা বলল আমায় “যাও, ওদের পরামর্শ নিয়ে এস সেই 
আলোচ) বিষয়টির যার অনুরাগী আমরা এবং সেইজগ্ঠই 
আমি এসেছি ।৮৮ তারপর আবার সুবিবেচনার সঙ্গে বলল, 
“আমার কাজ রাষ্ট্রবিপ্লবের ।৮৯ 

রাষ্ট্রবিপ্লবী কোনঠাসা__-এমন একট! দিন আসেই যখন 
পৃথিবীর সব ব্যাজারভ.স্রাই কোনঠাসা হয়-_+এবং রাষ্ট্র- 
বিপ্লবীর মনে এই সন্দেহ জাগে যে তার দর্শন ও কর্মের একে- 
বারে কেন্দ্রে কোথাও অন্ধকার ও নিন্ষলতা আছে কিনা । 
হিংসার পথ, প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসার কৌশল-_তার! নিয়ে 
যায় চোরাগলিতে। বেপরোয়। প্রচণ্ড আঘাতে হয়ত আছে 
এক নিভাঁক মহত্বের রোশনাই, কিন্ত চরম বিশ্লেষণে দেখা 
যায় ত৷ নির্বোধ, নিরর্৫ঘক। “অবিচারের সাহায্যে কি করে 
আশা করতে পার ম্তায় বিচার, কি করে আশা করতে 

৭ (181)019 01300003012 

৮1 ৬/০:৫৪ ০৫ 140774 4৪০ ০-৪ (1955) 

৯ ৬/০:৫৪ ০৫ 1,০98 4৪০ ৮-৪ 


১৩ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


পার বিদ্বেষের মাধ্যমে মৈত্রী?১০ আগন্তক উত্তর 
দিলেন-__-“ত1 জানি...ঘটনাচক্র যখন মানুষকে ঠেলে নিয়ে 
যায় তখন তার করণীয় কি 1...এমন কি প্রয়োজন হ'লে 
আমর শেষ ব্যক্তিটি পর্য্যস্ত প্রাণ দেব তাও স্বীকার তবুও 
আমাদের পবিত্র কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হবনা, যে পবিত্র মন্ত্রের 
সাধন শেষ নিশ্বাস পর্য্যস্ত করব বলে নিজেদের কাছে প্রতি- 
শ্রুত, তার অবমাননা আমরা করব না।৮”১১ সেই আগস্তকের 
মুখমণ্ডলে এক মহান অলৌকিক প্রভা ফুটে উঠল এবং তার 
নৈরাশ্থের মধ্যেও ছিল সৌন্দর্য ও উদ্দীপন1। কিন্তু মরণ, 
মে ত যথেষ্ট নয়; বেঁচে থেকে সব জয় করাই ত সুপথ। 
সম্্রাস্ত মহিলার যে উপদেশটি এ প্রসঙ্গে মাতৃস্থলভ ও জ্ঞান- 
দীপ্ত, ত1 হ'ল: 

“কিছুকালের জন্য এসব বিরতি দিয়ে অন্তরালে প্রচ্ছন্ন 
থেকে নীরবে নিজেদের প্রস্তুত করে নিতে হবে, নিজেদের 
শক্তি সব সংহত করে নিতে হবে, দলে দলে সুগঠিত হ'তে 
হবে, একটা ক্রমবর্ধমান এঁক্য আনতে হবে *যার ফলে 
ভবিষ্যতে কোন মুহূর্তে আপনার! গঠনক্ষম বুদ্ধিকে ধরে এমন 
এক সর্ধবজয়ী অস্ত্র হাতে নিয়ে ঈাড়াবেন ঘা! কিছুতেই কখনো 
হিংসাবৃত্তির মত ব্যর্থকাম হবে না। শক্রর হাতে অস্ত্র তুলে 
দেবেন না বরং তাদের সামনে নিষ্ষলক্ক হ'য়ে ঈাড়ান, তাদের 
দেখতে দিন ভীতিহীন ধৈর্ধ্য, সততা ও স্যায়ের দৃষ্টাস্ত। তখন 

১০। 7০:45 ০£ 1,076 ৯৫০ 2711 

১১1 ৬/০0:95 ০৫ 1,006 28০ 744 


শ্রামা-প্রসঙ্গ ১১ 


নিকটতর হবে আপনাদের জয়। কেন না সে ক্ষেত্রে 
আপনাদের থাকবে ন্যায়, পরিপূর্ণ ্তায়_-আদর্শে ও উপায়ে 
উভয়তঃ1৮১২ 

আগন্তকটি অভিভূত, “তার সকরুণ বিষণ চোখ ছ্‌*টি 
আমাদের পানে ফেরালেন, সে চোখে আত্মপ্রত্যয় আর আশ 
ন্বপ্রতিষ্ঠিত” এবং তার বিদায়বাণী হ'ল-_*বড় আনন্দের কথা 
আজ এমন সব মান্ুষের সাক্ষাৎ পেলাম ধাদের কাছে মনের 
কথা ব্যক্ত কর! যায়, ধাদের ন্যায়ের আদর্শ আমাদেরই মতন, 
বারা আমাদের ভৃষ্কৃতকম্ম্ণ কিম্বা উন্মাদ মনে করেন না 
যেহেতু আমর] সেই আদর্শকে ফলিয়ে তুলতে চাই । আচ্ছ। 
তা হলে আসি, আবার শীত্রই দেখা হবে।৮১৩ 

এই হল সেই পনুম্বদয় ন্যায় নিষ্ঠ ব্যক্তি”র প্রসঙ্গের শেষ, 
যিনি ছিলেন অধ্যাত্বপন্থী, এমন কি মনে হয় শহীদ | তিনি 
এসেছিলেন শ্রীমার কাছে তার নিদারুণ যাতনা, বিহবলতা। 
নিয়ে, আদর্শ অনুরাগ ও নেরাশ্ নিয়ে, কিন্ত শ্রীমার 
নিরাময়ক স্পর্শ তাকে শান্ত ও আরোগ্য করল, আত্মার ক্ষত 
সব বুজিয়ে দিল, সম্কটমুহুর্তে তাকে রক্ষা করল। 


চার 
গ্রীমা হলেন একটি অধ্যাত্মজীবন-অন্ুসন্ধিংস্থ মণ্ডলীর 
প্রাণ। মে মগুলীর কেন্দ্রটি ছিল প্যারিসে, কিন্তু তার 


১২। ৬/০:৪ ০0: [078 2£০ ৮712 
১৩। ০:05 0৫ 1.0778 58৪০ 2715 


১২ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


প্রভাবের পরিধি ক্রমেই দুরে দৃরাস্তরে ছড়িয়ে পড়ছিল। 
সেখানে হ'ত আলোচনা, আলাপ ও কন্মপদ্থা নির্ববাচন। 
অভিজ্ঞতা যুক্তির সাথে মিশল, তর্ক-বিচারের সাথে মিলল 
দৃষ্টি, হৃদয় মনের সঙ্গে ছন্দে প্রবৃত্ত হ'ল এবং এভাবে জিজ্ঞান্ুর! 
হাতড়ে হাতড়ে এগিয়ে চলল জীবনের পুর্ণ আদর্শের দিকে, 
তাকে পাওয়ার এক সর্ববাঙ্গীণ উপায় ধরে। শ্রীমার উপ- 
দেশাত্মক উপকথা অনুপ্রাণিত মুখ থেকে উৎসারিত হ'ত, 
আর শ্রোতাদের অন্তরে তা অমুতধারারূপে প্রবেশ করত । 
দৃষ্টান্ত স্বরূপ একটি যুবক ছাত্রের গল্প১৪ আছে__এক 
“অব লোমভড বলতে পারো তাকে-যে দীর্ঘসুত্রিতায় 
অভ্যস্ত: 
. কাল, আগামী কাল, আর আগামী কাল, 
এই ক্ষুত্র পদক্ষেপ মন্থর গতিতে চলে 
পরিচিত কালের শেব সীমান্ত পর্য্যন্ত" 

যুবক শেষে ঘুমিয়ে পড়ে, স্বপ্ন দেখে এক বিমোহন পথ 
ও চমতকার রাস্তায় এক মনোরম ভ্রমণ | সূর্য্য তখন তেমনি 
উজজল, গাছে গাছে বিহঙ্গের গান? অপূর্ব দিনের সব পৃবব- 
লক্ষণ। ৮”১৫ যুবক চলে আরও দুরে, নিদারুণ নিরুদিগ্নরতার 
তরঙ্গ-শিখরের উপর দিয়ে, কিন্ত অন্তরে কোথায় যেন জ্বালা 
দেয় এক অন্বস্তি, আর মনে মনে ভাবে, “আমি কোথায় ? 
চলেছি কোথায়? কিই বা এসে যায় তাতে ? ভাবনা! কেন, 

১৪। শ্রীমার বয়স যখন ১২ বৎসর সেই সময় লিখিত। 

১৫। ৬০:৫৪ 0£1,0176 8০ ৮৮1 


শ্মা-প্রসঙ্গ ১৩ 


কিছু করবার চেষ্টাই বা কেন? এস, এই অন্তহীন পথে গা 
ঢেলে দিয়ে আমর। ভেসে যাই; হেঁটে চলি তো এখন, ভাবন। 
করবো আগামী কাল।”১৬ সে প্রলোভিত হ'ল সংজ্ঞাহীন- 
ভাবে একটি গভীর গিরিপথের দিকে, তা ক্রমশঃ নিবিড় হতে 
নিবিড়তর হ'য়ে উঠল, দেখল আব ছা বিবর্ণ মানুষের মৃপ্তি, 
দুরবস্থায় কর্দদমাক্ত, দেখল পেঁচক, কাক, বাছুড়ের দল যেন 
কি বলে গেল কানে কানে ফিস্‌ ফিম্‌ করে, যুবকটির মনে 
হ'ল বাস্তবিকই যেন সে যমরাজের প্রেতরাজত্বে পথ্রাস্ত হয়ে 
গেছে। যেন অপরিহার্ধ্যভাবে ছুর্ভাগ্যের দ্রকে পতিত হতে 
লাগল। রাত্রের বীভৎস ছুঃন্বপ্ন শেষ হ'ল তার । সেউঠে 
পড়ে চলতে শুরু করল, ঘুমন্ত চোখ বিস্ফারিত করে ঘোষণ! 
করে উঠল, “আরে, সব তো! অতি সরল, সহজ; পথটি “পরে 
করব'র পথ, আর রাস্তাটি “কালকের রাস্তা.*1৮১৭ আর 
সেই সমুজ জল স্বপ্ন-পুরীটি-_তা৷ হ'ল “কিছুন1”র প্রাসাদ । 
ছাত্রটি এইভাবেই একাস্তই ব্যাধিমুক্ত হ'ল। 

গ্রীমার লিখিত আর একটি উপকথা আছে । মেঘলোকে 
অবস্থিত এক “সত্যের প্রানাদ'_ এই প্রাসাদের বহিঃকক্ষ হ'ল 
“বুদ্ধির কক্ষ আর সেখানে চলছিল বিরাট ভোজের উৎসব। 
সদ্‌গুণের! সব একে একে উপস্থিত হ'তে লাগল, অবিলম্বে 
তার! দলে দলে ভাগ হয়ে ঈাড়াল “যার. যেখানে আকর্ষণ 
সেইভাবে । সকলেই খুব খুসী--সাধারণতঃ এ-জগতে সে- 

১৬। ড/01:68 ০৫ 2,018 ৪০ 2-2 

১৭। 70:08 0£ 1,004 28০ 5.5 


১৪ ভরীমা-গ্রপঙ্গ 


জগতে নানা-জগতে তার। সব পরস্পর ছড়াছড়ি হয়ে আছে, 
যত রাজ্যের বিদেশীদের মধ্যে পৃথক হয়ে আছে-__অস্ততঃ 
একবার তার। সবাই এক সাথে মিলিত হ'ল ।”১৮ 

সভাপতি ছিল *আত্তরিকতা” তার পরিধানে ছিল 
ত্বচ্ছবসন ও হাতে ছিল বিশুদ্ধ ঘনাফার ক্ষটিকখণ্ড, যার 
ভিতর দিয়ে বিনা-বিকৃতিতে সব জিনিসই প্রতিফলিত হয়। 
তার বিশ্বস্ত সহচর হ'ল “বিনতি' ও “সাহস । আর “সাহসের, 
সন্নিকটে দীড়িয়ে এক মহিল। সম্পুর্ণ অবগুন্ঠিতা_সে হ'ল 
“সাবধানিকা”। : 

মহাশয়া “উদারতা”__“যুগপৎ শাস্ত ও সতর্ক, কর্মরত 
অথচ সংযত”-_- একেবারে মধ্যস্থলে অবস্থিত অর্থাৎ সর্বদাই 
সকলের নিকটস্থ, আর তার অভিন্ন সহচরী হ'ল তারই 
ভগিনী "ম্তায়পরতা” কিন্তু উদারতা” যখন বুদ্ধির কক্ষের মধ্য 
দিয়ে তার অলক্ষ্যে চলাফেরা! করে তখন রেখে যায় তার 
চলার পথে “শুভ্র মহল আলোর ধারা” যা বিচ্ছুরিত হয় 
চতুর্দিকে । আবার উদারতাকে চতুদ্দিকে ঘিরে অথচ 
অন্তরালে রয়েছে “দয়া” “ধৈর্ধ্য” ও নখ্রতাঃ। 

সদ্‌্গচণের1! সবাই মিলেছে একত্রে-কিস্ত দরজার 
ধচীকাঠের বাইরে কে ধেন ধ্লাড়িয়ে, সকলেরই কাছে সে 
একেবারে অপরিচিতা আগস্তক-_-“অতি নবীন ও কোমলকাস্ত 
দেহ, অতি সাধারণ, প্রায় গরীবেরই মতন ।”১৯ “সাবধানিক। 
১৮। ৬/০:৫৪ ০৫ 10774 2৪০ 2-16 
১৯।.৬/০:৫৪ ০£ 10136 288০ 2-18 


শ্মা-গ্রদঙ্গ ১৫ 


এগিয়ে গেল অপরিচিতা নবাগতার কাছে, বিনীত স্বরে 
জিজ্ঞাসা করল তার নাম। নবাগতা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে 
উত্তর দিলে “হায়, এখানে আমাকে যে বিদেশিনী বলে মনে 
হয় তাতে আমি বিশ্মিত নই । আমি খুব কম জায়গাতেই 
নিমন্ত্রিত হই। আমার নাম “কৃতজ্ঞতা ।২০ 


পাচ 


শ্রীমার লেখার মধ্যে কতকগুলি প্রবন্ধও আছে যাদের 
আলোচ্য বিষয় হ'ল - চিন্তা, স্বপ্ন, হঃখ-বেদনার দান, ঈশ্বরের 
আত্ম-পরিচয় ইত্যাদি। এগুলি শুধু চাতুর্ষপূর্ণ প্রবন্ধ নয়। 
অকপট মনীষাদীপ্ত আলোকোজ.জ্বল এ রচনাবলি; এগুলি 
যুগপৎ আস্পৃহার লতা ও অনুভূতির প্রথম মুকুল। 
উপকথারই মত এ প্রবন্ধগুলিও অধ্যাত্ব-অহ্বেযুদের উদ্দেশ্য 
করে লিখিত। 

*চিত্ত।"'.এ তো এক বিশাল বিষয়।” লক্ষ্যহীন, 
স্বেচ্ছাচারী, বিশৃঙ্খল চিস্তাগুলি তাদের আসল উদ্দোশ্যকেই 
ব্যর্থ করে, লক্ষ্যকে সত্যজষ্ট করে, চিন্তার অসংখ্য ধারাকে 
বিকৃত করে। আমরা যদি চিস্তাগুলিকে বিশৃঙ্খলভাবে 
দাগ! শুরু করতে ছেড়ে দিই তাহ'লে এক বীভৎস বিপরীত 
সম্ভাবনার আক্রমণের সামনে ধরা পড়ব এবং পরে আপন- 
স্থ্ট এক বিরাট কোলাহলের মধ্যে বাস করব। সেইজন্য 
প্রথম প্রয়োজনীয় হ'ল পপ্রশাস্তি”। “আমাদের মস্তিষ্কে 

২০। ৬/০:৫5 চি5]:0138 2০ 2-16 


১৬ প্রীমা-প্রসঙ্গ 


বিশৃঙ্খল ও এলোমেলে। মানসিক চাঞ্চল্য থেকে মুক্ত করতে 
হবে।”২১ “আমাদের চিন্তাকে সত্যাকারে ও একাস্তভাবে 
নিজের করে নিতে হ'লে তাকে চলিতরুচির ঘূর্ণিহাওয়ার 
প্রতিধবনি হলেই চলবে না, হতে হবে সেই স্ুসঙ্গত সমন্বয়ের 
অঙ্গ যাকে সমস্ত জীবন ধরে পর্যবেক্ষণ অভিজ্ঞতা ও 
সারসিদ্ধাস্ত কিন্বা৷ গভীর ধ্যান বা চিন্তা দিয়ে তুমি গড়ে 
তুলেছ।”২২ 

স্থিরতা, ধ্যান_এ ছুইই হছুঃসাধ্য জিনিস। সেজন্য 
ভারতীয় তত্বশা'ন্ত্র রূপকথার গল্প হিসাবে ধ্যানের বর্ণনা কর! 
হয়েছে।২৩ চিস্তাকে স্থিরতার সলিলে যখন পবিত্র কর! যায় 
আর ধ্যানের কূটে শাস্ত করা হয়, তখন এক নূতন দীপ্তিতে 
প্রোজ জ্বল হয়ে ওঠে, পরম শক্তি অর্জন করে, আত্ম-বিভাজন 
ও বন্ধ্যাত্ব পরিহার করে এবং হয়ে উঠে অখণ্ড সত্যের 
প্রবাহ--এক ন্বপ্রতিষ্ঠ বিশ্বজনীন সত্য। তারপর কুয়াসা 
বিদুরিত হয়, আর মনের মালভূমিতে নেমে আমে আলোর 
বন্তা : সেণ্ট টেরেসা যেমন বলেছিলেন “যখন সুর্ধের রশ্মি 
ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে তখন মাকড়সার জাল একটিও নজর 
এড়ায় না।৮২৪ | 

২১। ৬/০1:৫3 0৫ 1,015 48০--.21. 

২২ ৬০:03 ০৫ 1,014 4১£০-৮6,23 


২৩। ৬/০1:05 ০: 1,018 2£০--20.26-28 
২৪। [165 0 96 16658 € ৬6660 95100615618) 


শু£810518050 05 10১15 ৬15 - 0138, 401% 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ | ১৭ 


হাঁমলেট বলেছিলেন, “নিদ্রা, বোধ হয় স্বপ্নের লোভে, 
হ্যা, ওইখানেই তে। মুসকিলের মূল।৮ স্বপ্ন কি তবে শুধুই 
মানসিক চঞ্চলতা, অজীর্ণের চিহ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়? স্বপ্ন 
কি শুধু মিথ্যা, বৃথা আশা ও বাস্তব রমিকতা ছাড়া আর 
কিছু নয়? স্যামুয়েল দানিয়েলের কাছে স্বপ্পের কোন 
প্রয়োজনই ছিল না, তাই তিনি বললেন £ 

“থামাও স্বপ্ন, বাসনার যত প্রতিমুত্তি তার সব 

যদি চাও সুস্থ রূপ দিতে আগামী কালের কামনা-বাসনার £ 

নবোদিত সূর্যকে কখনই দিও না মিথ্যা এদের সমর্থন 

করতে, 

এর! আমার হঃখকে বাড়িয়ে তীব্র করে তোলে ।” 

তা হ'লে শ্রীমার তের বৎসর বয়সের স্বপ্ন সম্বন্ধে কি বল। 
যায়? সেগুলি কি ্বপ্লাতীত-_অস্ততঃপক্ষে সময়ে সময়ে-__ 
তা কি অলৌকিক ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার নির্দেশ ? 

বাস্তবিক এ সমস্যার সমাধান বিশেষ প্রয়োজন । স্বপ্ন 
কি তাহলে শরীরেরই একটা অস্বাভাবিক উপবুদ্ধি যাকে 
জীবন থেকে পরিহার করতে হবে কিম্বা এ কি বরং মানুষের 
এক অপরিণত ষষ্ঠ বোধ যাকে সযত্বে পোষণ ও পরিপূর্ণ করে 
তুলতে হবে? প্রসঙ্গটি বিচারসাপেক্ষ এবং শ্রীম! তার ন্যপ্ন? 
শীর্ষক প্রবন্ধের সমাপ্তি টানেন এই বলে যে যদি সুষ্ঠুভাবে 
স্বপ্নকে নিয়ন্ত্রিত ও সমৃদ্ধ করা যায় তাহ'লে ত। “এইভাবে 
সুস্প্ কুক্মদর্শনের রূপ পরিগ্রহ করবে এবং কখনে। কখনো 


তা হবে ভবিষ্যতের সাক্ষাৎদর্শন। ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সব 
শ্রীমা-২ | 


১৮ শমা-প্রসঙ্গ 


জিনিসের একটা প্রয়োজনীয় আগ্ন্ত ধারাবাহিক জ্ঞান আয়ত্তে 
এসে যাবে ।২৫ 

স্বভাবতই স্বপ্পাবেশে চেতন থাকে নিম্নস্তরে। অপরদিকে 
স্বপ্ন-জগৎ তমসাচ্ছন্ন ও অপরিচিত জগৎকে নিয়ে,যা আমাদের 
চেতনাকে বিপরীতভাবে অভিভূত করে। যতই আমর! 
জাগ্রত চেতনাকে আয়ন্তাধীনে আনতে পারি ততই এই নিকষ্টু 
স্বপ্নবন্ত ভ্রুমশঃ বিলুপ্ত হয়ে যাবে। তারপর বিশুদ্ধ স্বপ্রের 
পথ পরিষ্কার হয়ে যাবে, “আমাদের ও অপরের প্রকৃতির গুপ্ত 
রহস্তটি প্রকট হয়ে উঠবে ।”২৬ এই সকল স্বপ্ন শুধু স্বপ্ন নয়; 
বরং পত্বপ্-সমাধি-স্বপ্লাবস্থায় আস্তর সত্তার এক সচেতন 
উপলব্ি।”২৭ 


ছয় 


«আমার অন্তর কষ্ট পেয়েছে, কাতরোক্তি করেছে, দারুণ 
ছুঃখের ভারে প্রায় ভেঙ্গে পড়বার মত, হুঃসহ যন্ত্রণার তলায় 
তলিয়ে যাবার মত। কিস্তু আমি তোমাকে ডেকেছি ঃ হে 
শাস্তিদাত। ভগবান, সকল অস্তর দিয়ে প্রার্থনা করেছি, আর 
তখনি তোমার দীপ্যমান জ্যোতি দেখ! দিয়েছে, নব জীবন 
দান করেছে আমাকে 1২৮ 


২৫ | ড/০15 ০0: 10104 44০7, 11. 
২৬ 9511 0:0100015 “88555 ০৫ ০৪৪--০, 128 

€ 1941. ). 
২৭। [60665 06 911 4১001012900, 200 56৫15502166 
২৮। 0:98 ০£ 17008 £2£০---৮, 12 : 


গ্রীমা-গ্রসঙ্গ ১৪ 


শ্রীমার এই বাণীর মধ্যে আমরা দেখতে পাই ছ্‌ঃখের 
অমানিশ! থেকে নব জ্যোতি ও জীবনের জ্যোতির্ময় অমৃতময় 
উষায় আত্মার উত্তরণের একটা নমুনা-বিবৃতি। আধ্যাত্মিক 
ঘটনার এই যে অন্ুক্রম ত1 হল প্রকৃতির জড়তত্বেরই মত 
বাস্তবতায় পূর্ণ, আমাদের সঙ্গে তার আবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক । 
আমর ছুঃখভোগ করি কেন? আমাদের ছুঃখভোগ 
করতে হবেই বাকেন? এর কারণ কি প্রকৃতি অন্ধ বলেই 
অকারণে অন্ুদ্দেশ্টে আমাদের আঘাত দেন? প্রকৃতি কি 
তাহলে এক হুষ্টা দানবী যে চক্রান্ত করে আমাদের লক্ষ্যকে 
বিভ্রান্ত করেন? মানিক বা দৈহিক বেদন। হল 'মাদম'-এর 
বংশ-পরিচয় মাত্র। স্ুকৃতি ও পুরষ্কার, হষ্কৃতি ও ছুঃখের মধ্যে 
অনিবার্ধ কোনে কার্ধ-কারণ সম্বন্ধ কি আমরা আবিষ্কার 
করতে পারি? এই বিভাগ কি অমোঘ, না এরা কতকগুলি 
অস্পষ্ট আপেক্ষিক শব্দমাত্র ? 
কেন তবে পাগীর পথ হ'য়ে চলে সমৃদ্ধ? কেন আমার 
সমস্ত প্রচেষ্টার সমান্তি হবেই নৈরাশ্যে ? 
ভদ্রে, আপনার জন্ত 
জীবনের আমি যত খরচ করি 
তার চেয়ে মুহুর্তের অবৰাশক্ষণে বেশি লাভ করে 
কামনার ক্রীতদাস...২৯ 
এ জগতে আমরা রসাল ফলের জন্যে ঘুরে বেড়াই ব 
ভারাক্রান্ত চোখে বসে থাকি আর পরস্পরের কাতরানি 
২৯ । 36:80 111212165 270712125 


২০ প্রীমা প্রসঙ্গ 


শুনি। এই যে রসময়-ফলের জীবন তার অভদ্রঙ্জনিত আঘাত 
ও বিবিধ যাতন1 থেকে রেহাই পাবার কোন পথ নেই কি? 
“ছুখ আছেই”-_আর এ ইউক্লিডীয় জগতের এমন 
অবাঞ্চিত সংস্পর্শ থেকে নিস্তারের সহজ পথ নেই। ছুঃখ 
.অগ্্রীতিকর, অবাঞ্ছিত, কিন্তু যখন আমরা পিছন ফিরে দূরে 
তাকিয়ে দেখি তখন ছুঃখ ও পাধিব জীবনের অন্যান্ 
উপাদানের মধ্যে একটা অখণ্ড সম্বদ্ধের সুত্র খুঁজে পাই। 
একি হতে পারে যেযাকে আমরা ছুঃখ বলি তা মানবের 
বহিজর্খবনের বিকাশ ও আস্তর জীবনের ফুল ফুটানর দিকে 
একট] বিশেষ, এমন কি, একট! নিদিষ্ট উদ্দেশ্যসাধন করে ! 
হপ.কিন্সের কথ। 
যেমন সশবে লোহা পেটায় তেমনি 
আর আঞ্ন দিয়ে তার মধ্যে তোমার ইচ্ছাকে গড়ে 
তোল, 
কিম্বা, না হয় কিম্বা, বসস্তের মত চুপি চুপিচুরি করে 
তার ভিতরে এসে 
তাকে গলিয়ে ফেল আর হও তার অধীশ্বর। 
সেন্ট জন. অব. দি ক্রস এসে বললেন__ 
ওগে। দাহন, তুমি যে দগ্ধ দিয়ে সব নিরাময় করো» 
ওগো! স্থখ-শিহরণের চেয়ে প্রিয় আঘাত, 
ওগে। কমল-কলি হাত, ওগো! কোমল পরশ, 
নৃতন জীবনের সন্ধান দাও তো! তুমিই, 
তোমার করুণার নাই তে সীমান।। 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ২১ 


আর নিধনের শাস্তি দিয়ে মৃত্যুকে নিয়ে যাও জীবনে ।৩০ 

অপরপক্ষে সন্যাসীর নেতিবাদের সব অততযুক্তি স্বীকার 
করাও অপ্রয়োজনীয়, এমন কি নির্ুদ্ধিতা ও বিপজ জনক । 
ভ্রীমা বলেন,“ছুঃখভোগ করতেই হবে এমন বাধ্যবাধকতা কিছু 
নেই, আর তা বাঞ্চনীয়ও নয়। তবে যখন আমাদের কাছে. 
এসে পড়ে তখন তা কত সাহাধ্যই না করতে পারে ।৮৩১ 
নিবিচারে ছঃখকে প্রশ্রয় দেওয়।_দেহের বা মনের উপর 
অপর্ধাপ্ত যাতন। প্রয়োগ করা-_-এ হ'ল ততটাই হাস্যকর 
ভাবালুত৷ যতট1 অন্ত কোন আবেগাচ্ছন্ন অবস্থার কাছে 
নিজেকে সমর্পণ কর।। প্রয়োজন হল সাফল্য বা অসাফল্য 
আনন্দ ব ছঃখের সামনে আত্মপ্রশ্রয়ের চেয়ে আত্ম-প্রভুত্ব 
এবং এইভাবে হৃদয়ের গভীর অন্ভূতিগুলিকে “স্থিরতা, সংযম, 
শুদ্ধিকর সংযম দমনের”৩২ দ্বারা রূপায়িত করতে হবে। 

বেশ, তাহ'লে যখন ছুঃখ বেদন।কে স্বাগত করবার 
প্রয়োজন নেই, তখন তাকে ভয় করাও নিশ্রয়োজন। যদি 
সে আসে, আসবে সুদূর ভবিষ্যতের কোন উদ্দেশ্য নিয়ে এবং 
বর্তমানের সংক্ষুব্ধ উত্তেজনার মধ্য থেকে মন্থন করে তাকে 
আবিষ্কার করাই আমাদের কাজ; আমরা তাই আমাদের 
বিশ্বাসে সন্দিহান হব না বা আত্ম-আবিষ্কারের অক্লান্ত 
পরিশ্রম থেকেও বিরত হব না £ 

৩৪০ । £১10301 5510)0105 

৩১ । ৬৬/০:৭৪ ০: 1,01708 ££০--১, 42 

৩২। 1606150৫510 8:0910--6, 219 


২২ শ্রীমা-প্রলঙ্ষ 


£তোমর! যার অশ্রপাত করছ, যারা কষ্ট পাচ্ছ, যার। 
ভয়ার্ত, জান না কতদ্দিন চলবে তোমাদের এই ছুর্দেব, এ 
ছুঃখের কি ফল, তাকিয়ে দেখ £ এমন রাত্রি নেই যার শেষে 
প্রভাত আসে না, অন্ধকার যখন ঘনীভূত হয় তখনই প্রভাত 
আসন্ন; এমন কুয়াসা নেই সূর্যালোক যাকে সরাতে পারে 
না, এমন মেঘ নেই যাকে সে উজজ্বল করে তোলে না; এমন 
অশ্রু নেই যাকে একদিন সে শুকিয়ে ফেলতে পারে না, এমন 
ঝড় নেই যার শেষে একে ধরে না তার বিজয়ের ইন্দ্রধনু, 
এমন তুষার নেই যাকে সে গলিয়ে ফেলে না, এমন শীত নেই 
যাকে সে রডীন বসস্তে পরিণত না করে। 

“তোমাদের ক্ষেত্রেও তেমনি, নেই এমন ছুঃখ যন্ত্রণা যা 
প্রতিদানে নিয়ে আসে ন' এখ্বর্ষের ভারা, নেই এমন বেদন। 
যা রূপান্তরিত না হয় আনন্দে, নেই এমন পরাজয় য1 শেষে 
দাড়ায় না বিজয়ে, এমন পতন য। হয়ে উঠে না আরো 
উর্বারোহণ, এমন নিঃসঙ্গতা যা! কখনো হয়ে উঠে ন1। জীবনের 
নীড়, এমন বিশৃঙ্খলা য1 হয়ে উঠে না সুুসঙ্গতি।৮৩৩ 

এর পর আরও আছে £ শ্রীমা আমাদের আশ্বাস দেন যে 
ছুঃখের শেষ প্রান্ত হ'ল আত্মোন্সীলনের গৌরচন্ডিক। ঘা 
আমাদের সত্যের দরজায় নিয়ে যায় £ 

“প্রতিবার যখন বোধ হয় হৃদয় বুঝি বিদীর্ণ হয়ে গেল, 
নিজের ভিতরে আরে! গভীরে তখন একটা দরজা খুলে যাঁয় 
আর উন্মুক্ত হয় নবতর দিগন্ত-রেখা- প্রতিবার নিয়ে আসে 

৩৩। ৬0:৫8 ০৫ 1078 4৮০ --2. 49 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ২৩ 
অধিকতর প্রচ্ছন্ন এশ্বধ-_তারা আসে মুমূ্ু জীবের মধ্যে 
আবার এক নবীন প্রখর প্রাণধার। ঢেলে দিতে । 

“হে ভগবান, আর এই পুনঃপুনঃ অবতরণের মধ্যে দিয়ে 
চলে এসে, শেষে যবনিকা যখন অপশ্যত হয় তখন তোমাকে 
দেখি সাক্ষাৎ-_কে প্রকাশ করবে সে-মহাপ্রাণের প্রথরত। 
যাতে সমস্ত সত্তা অনুপ্রবিষ্ঠ সেই জ্যোতি যাতে সে 
পরিপ্লাবিত, সেই প্রেমের মহিমা যাতে সে চিরতরে 
রূপাস্তরিত।৮৩৪ 

“আঘাত” আমাদের জীবনে প্রায়শ এমনই প্রয়োজনীয় 
উপাদান--সংঘর্ষ আমাদের অকস্মাং সজাগ করে দেয়, 
আমাদের চক্ষু উন্মীলিত করে দেয়, দেহের ও মনের 
তামমিকতার জমাট আমর ভেঙ্গে দেয়, নব নব আবিষ্কার 
উদ্ভাবনার পথে নিয়ে যায়। রাজকুমার সিদ্ধার্থ অনেক 
আঘাতের পরে বের হয়েছিলেন বহুদূরের পথ ধরে বোধি- 
গাছটির তলে নীরব গোপন গীঠস্থানের উদ্দেশে । সাধারণত 
আমর! অনাধ্যাত্মিক আচ্ছন্নতার মধ্যে আকণ্ঠ মগ্ন হয়ে বাস 
ও চলাফের। করি তা আমাদের আমল সত্তাকে চিনতে দেয় 
না, ভিতরের ও বাহিরের এ্বর্যকে ধরতে দেয় না ব্যক্তিগত 
নিয়তিকে দেখতে চিনতে দেয় না। অকস্মাৎ ছুঃখের আঘাত 
কখন কখন সম্পূর্ণ মোড় ঘুরিয়ে দেয়-_দেহে যখন এসে ধাকা 
লাগে চক্ষু তখন বিন্ময়ে পায় নবোন্মেষ-__খোলসটি যেন গা 
থেকে খসে পড়ে--অবশেষে শুরু হয় পুনর্জন্মের ৷ শ্রীমার 

৩৪ | ড/0:1৫5 ০: 10118 £৪০--১. 42 


২৪ ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


অভয়বাণী কাব্যের উদ্দীপনা ও ওজন্ষিতা নিয়ে প্রমূর্ত হয় 
আমাদের সামনে-_ 

“আরো শোন £ যে মুহুর্তে এই পৃথিবীর উপর মানুষ তার 
ভাগবত উৎস থেকে বিষুক্ত হয়েছে তখনকার মত সঙ্কটাপন্ন 
অবস্থা আর কখনে। হতে পারে না। মাথার উপর তার তক্কর 
শত্রর রাজ্য সীমান', দিগন্তের ছুয়ারে আগুনের তরবারি হাতে 
কারা-প্রহরী। তাই তো উর্ধ্বে জীবনের উৎসে সে যখন উঠে 
যেতে পারল না, সে-উৎস তখন তার মধ্যেই উৎসারিত হল; 
উপর থেকে আলো গ্রহণ করতে পারল না, তাই তার 
সত্বার অস্তংস্থলে ফুটে উঠলে! সে আলে! ; বিশ্বাতীত প্রেমের 
সাথে যোগসাধন করতে পারল না, তাই সে প্রেম নিজেকে 
পূর্ণাহুতি দিল, করল আত্মদান, তার আবাস তার মন্দিররূপে 
বরণ করে নিল প্রত্যেকটি পাথিব জীবকে । 

“এই রকমে এই অবহেলিত অথচ উর্বর, পরিত্যক্ত 
অথচ পুণ্যবান জড়ের প্রতিটি পরমাণুতে রয়েছে এক ভাগবত 
চৈতন্য, প্রতোক জীব তার অন্তরে নিয়ে চলেছে ভগবানকে, 
তাই যেমন মানুষের মত হুর্বল আর কেউ নেই, তাই আবার 
তার মত স্বর্গীয়ও কিছু নেই। 

এক যা! সত্য, অতি সত্য, দীনতা হীনতার অস্তরেই 
লালিত পালিত হয় মহান মহিমা 1৩৫ 


৩৫। ড৬৬০:5 ০৫ 107১8 48০--০, 52 


সাত 


কালের ধীর গতির সঙ্গে সঙ্গে এইসব আলোচনাগুলিতে 
দেখ। দিল আরও৪ আগ্রহ, আস্পৃহা ও সংলিদ্ধির মাঝে যে 
বৃহৎ ব্যবধান তার উপর সেতু-বন্ধনের এবং আস্তর ও বহিজী- 
বনের পুর্ণ মিলনের এবং ব্যক্তি-মানুষকে বৃহত্তর সমষ্টিতে 
নামাজিক কাঠামোয় প্রতিঠিত করার এক তীব্র ইচ্ছা জাগল 
অধ্যাত-মন্বেযুদের মধ্যে । ক্রমশঃ শ্রীমার নিনিমেষ অন্ত- 
দুর্িতে ফুটে উঠল মানুষের ভবিষ্যৎ ভাগ্যের দিক এবং সে 
ভাগ্যকে দ্রুত সংসিদ্ধ করার কাজে তিনি কি অংশ নেবেন 
তাও স্থির করে ফেললেন । ১৯১২ সালে লিখিত এক স্মারক- 
লিপিতে জানালেন যে-__ 

“পার্বছ্ধনীন যে আদর্শ আমাদের লাভ করতে হ'বেতা! 
হ'ল ক্রমন্ফুট বিশ্বজনীন সুষমার আরম্ভ। আর এই আদর্শকে 
সার্থক করার উপায় হ'ল, পাধিব জগতের পক্ষে, ব্যক্তিগত 
জাগরণের মধ্য দিয়ে মানবীয় একত্ব সংসাধন কর! এবং সেই 
একম্‌ অদ্ধিতীয়ম য1 অন্তরের ভগবান, তাকেই ব্যগ্টিগতভাবে 
প্রকাশ করা। 

অন্য কথায় সকলের অস্তরস্থ ভগবানের রাজ্য আবিষ্কার 
করে এক একত্ব সৃষ্টি কর11”৩৬ 

ব্যক্তিগত ও সামাজিক স্তরে ঘটাতে হবে এক মহান 
পরিবর্তন--এক পরম রূপান্তর; এসব স্তর আবার এক 

৩৬ 10:45 9£006 11006061, (1946) 2.5 


২৬ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


পরিপূর্ণ সর্বস্ষমার সঙ্গে মিলে মিশে অখণ্ড হয়ে থাকবে । 
শ্রীঅরবিন্দের একটি কবিতায় রাজাকে সনির্বন্ধ মিনতি 
করছেন মেরুপ্রান্তিক দ্রষ্টা-_ 
এই মর্ত্যের উপর তার সন্ধান কর। তিনি সাজিয়েছেন 
বিরাট পরম্পর! ধরে 
এই নান] ভুবন তোমারই জন্তে, মানুষের সফলতা লাভের 
উদ্দেশ্যে এই প্রবল রাজত্ব গড়ে তুলতে, 
যে মানুষ উৎসুক তার আদর্শে পৌছাতে । নিজের মানবী 
শক্তি পুর্ণ করে তোল, 
পূর্ণ সার্থক কর বিশ্বমানবকে ।৩? 
ব্যপ্ি সমগ্টিকে প্রভাবাধ্িত করে এবং সমষ্টি ব্যগ্টির উপর 
প্রভাব বিস্তার করে; তাই বাঞ্ছিত রূপাস্তরকে গড়ে তুলতে 
হবে অনুপুূরক ধারা ধরে। ব্যক্তির আস্তর সম্পৃতির নির্ধারক 
হ'ল ভগবানের সাথে উত্তরোত্তর একত্ব বৃদ্ধি কিন্ত তার অর্থ 
নয় জীবন পরিহার করা, পরিবেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়]। 
সমহ্ির একতা ও শক্তির উৎস হল ব্যগ্টির আত্ম-সমাহিত 
একত ও স্বোপাঞ্জিত শক্তি। শ্রীমা বলেন, “সতাকার 
ক্রমোন্নতি, মানুষকে যা! নিয়ে চলে তার জন্মগত অধিকার 
সুখের অভিমুখে তা কোন বাহা উপাদানের, কোনো! পাধিব 
সমৃদ্ধি অথবা সামাজিক পরিবর্তনের উপর নির্ভর করে না; 
ব্যক্তির সর্বালীণ-_আভ্যত্তরিক ও গভীর উৎবর্ষতাই যথার্থ 
উন্নতি, তা-ই পারে বর্তমান সকল অবস্থার ব্যবস্থার রূপাস্তর 
৩৭। ০০911650650 2021005 & 71858 ৬০1, [ 7. 162 


: শ্রীমা প্রসঙ্গ ২৭ 


ঘটাতে, ছুঃখ দেম্যকে পারে প্রশাস্ত এবং স্থায়ী পরিতৃণ্চিতে 
পরিবন্তিত করতে ।”৩৮ রেনার মারিয়া রিল্‌কে বলেন__ 
“প্রিয়তম, তোমার অন্তরে ছাড়া বিশ্বভুবন আর 

কোথাও নেই । রূপান্তরের ফেরে বয়ে চলে এ জীবন । চির 
বিলীয়মান বাহ্াবস্তব যা কিছু তা লুপ্ত হয়ে যায়।৮”৩৯ 

আলোই ডাকে আলোকে এবং জীবস্ত সর্বজীবের হৃদয়ে 
প্রজজ্বলিত দিব্য আলে এক অভিন্ন,-_-“এর থেকে প্রমাণ হয় 
সকলের মূল--একত্ব, তাদের পরস্পরের মধ্যে সংহতি ও 
সৌন্রাত্র্য ৮৪০ মানুষ যদি ব্যক্তিগত যুদ্ধে জয়ী হয় তাহ'লে 
বেশ জনকতক অধ্যাত্মভাবে মুক্ত ও আলোকিত পুরুষ ও 
নারীর সম্মেলন সম্ভব এবং তাতেই কার্যত সমষ্টিগতভাবে 
*নবজাতির, ভাগবত সন্তানের জাতির, প্রস্ফুটনের জন্য অনুকূল 
কোন এক স্থানে আদর্শ সমাজ”৪১ গড়ে তোল যাবে । 

এই হল আশা, এই হ'ল কর্মপ্রণালীর নক্স।। ভিতরে 
আলোর উদ্ভাম হবে সেই মূল ভিত্তি যা বহন করতে পারবে 
ভাবী দিব্য সমাজের, অতিমানব সমাজের, ভগবানের অগণ্য 
সম্তভানদের ভার। 

যদি আস্তর উত্তাস, পূর্ণ রূপান্তর হয় প্রধান লক্ষ্য, তাহ'লে 

৩৮ | ড/০195 ০01 00০ 10060211946 0.5 

৩৯ | 0০011606650 7021009 & 01859 ৬০1. ] 0. 162 

৪* | ৬০:05 ০৫ [.017£ 4০ 0. 90 

৪১ | "815518660 05 1. 8. [615177057 8 50610136218 
590217061 


২৮  শ্রীমা-প্রসঙ্ 


তাকে খুঁজতে হবে তাতেই সন্তুষ্ট ও নিবন্ধ থাকবার লক্ষ্য 
হিসাবে নয় বরং আর এক পূর্ণ তর পরিণতির উপায় হিসাবে 
_এই সকল জ্যোতিরুভ্ভাসিত সিদ্ধ ব্যগ্টিগত কেন্দ্র থেকে 
জ্যোতি বিকীর্ণ হয়ে পরিবেশেরও ঘটবে রূপাস্তর। মানুষ 
যেমন আছে তা নয়, অহমিকাপুর্ণ অসার বস্তুর পিণড বা 
পাকেচক্রের দাস বিদ্ধপ নয়, লোভ, ক্ষয়, অশক্তির আর্ত্ব- 
নাদরত উত্তরাধিকারী নয়, বরং মানুষ যা হয়ে উঠবে তাই-__ 
যে মানুষ অন্তরের সুপ্ত দেবত্বকে ফিরে পেয়েছে-_তারাই 
সংযোগ স্থাপনা করবে তোমার সহধন্মীদের সঙ্গে যারা 
এমনিই মুক্ত পুরুষ--উভয়ের মধ্যে রচিত করবে এক সম্যক 
সৌমনদ্য। এই অধ্যাত্মভাবে আত্মজয়ী ও মুক্ত পুরুষ ও 
নারীর জগতে পরস্পরের মধ্যে বোঝাবুঝির মাধ্যম হবে 
আত্মার প্রসারতা ও বিশ্বব্যাপিত]। 

“অন্তরস্থ ভগবানের সাথে যখন তুমি একাত্ম তখন সকলের 
সঙ্গে তাদের অন্তরের গভীরে যুক্ত সেই তৎপুরুষের সাহায্যে 
তারই মধ্যে দিয়ে সকলের সঙ্গে সম্বন্ধ স্থাপন করতে হবে 
তোমাকে । তখন থাকবে না কোন আকর্ষণ, কোন বিকর্ষ ৭, 
থাকবে না কোন অনুরাগ, কোন বিরাগ, তখন শুধু তার 
কাছে যারা, তারও কাছে হবে তুমি। যার! তার থেকে 
দুরে, তুমিও হবে তাদের থেকে দূরে । 

“কথা তবে এই £ঃ সকলের মধ্যে আমাদের হ'তে হবে 

৪২। ৬০143 ০৫ 14016 4৪০ ০. 89 | 

৪৩। ৬৬/০1:৫5 0£11)2 7006061 0, 6 


প্রীমা-গ্রসঙ্গ ২৯ 


--ক্রমোন্নত মাত্রায়-_-শারীরিক মানসিক তথ। আধ্যাত্মিক 
একট পরিপূর্ণ সর্ব্বাঙগী৭ ক্রিয়ার দিব্য আদর্শ, সকলকে এনে 
দিতে হবে এমন একট সুযোগ যাতে তারা বুঝতে পারে 
গ্রহণ করতে পারে ভাগবত জীবনের পথ ।৮৪৪ 

তাহলে এই হ'ল অবস্থা ঃ বর্তমান সীমাবদ্ধতা সত্বেও 
পাধিব জীবন থেকে পলায়নও থাকবে না, তাঁর প্রতি বিশ্বাস- 
ঘাতকতাঁও কর৷ চলবে ন]। যখন অন্তরের উন্নতিতে লিপ্ত হয়ে 
থাকবে বা যখন উন্নতি সম্পূর্ণ হবে, তখনও কর্্নকে পরিহার 
কর! চলবে না। এমন কি “বদ্ধ কেও “বোধি-সত্ব' হতে হবে, 
কষ্টলব্ধ “অরত্য' স্বেচ্ছায় পরিত্যাগ করে ফিরে আসতে হবে 
জনভ্রোতের মাঝে, তাদেরই মধ্যে যারা যূলত তারই মত 
বোধিসত্ব অথচ ঘূর্ণীয়মান পাধিব জীবনচক্রের শৃঙ্খলে অন্ধ- 
ভাবে বাধা । 


আট 


১৯১২ সালে গ্রীমা কয়েকজন সত্যসন্ধানীর কাছে, “ধার! 
নিয়মিতভাবে আত্মজ্ঞান ও আত্মকর্তৃত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে 
মিলিত হতেন” কতকগুলি রচন। পড়ে শুনিয়েছিলেন। সে 
রচনার মূল বক্তব্য ছিল কর্মের ব্যবহারিকতার দিকটি । এ 
সকল রচনাবলীর জীবন-কাহিনী হিসাবে বলা হলঃ “প্রত্যেক 
বৈঠকের শেষে একট। মোটামুটিভাবে প্রশ্ন থাকত এবং সে 
প্রশ্নের উত্তর প্রত্যেককে নিজের মতন করে দিতে হ'তো। এই 
1881 7০:৭৪ 0৫ [40118 44০ 00, 82-83 


৩৩ শ্রীমা-গ্রলঙ্গ 


উত্তরগুলি পড়া হত পরবর্তী বৈঠকে । সকলের শেষে 
উপসংহার ছিসাবে হত একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধ। প্রবন্ধগুলি 
এই ৮৪৫ 

প্রথম প্রশ্ন হলঃ “বিশ্বব্যাগী কর্মের মাঝে আমার স্থান 
কোথায়?” কন্মকে এড়িয়ে যাওয়া যায় না কারণ প্রকৃতপক্ষে 
কর্মই অপরিহার্য ; কিন্ত কোন্‌ নির্দিষ্ট কর্ম আমাদের হবে 
বাঞ্নীয়, কোন্‌ মনোভাব নিয়ে সে কর্ম বা আমরা করব? 
কর্মবিশেষকে নিকৃষ্ট, উৎকৃষ্ট ব। বিশিষ্টের মর্যাদা দেয় 
দেশাচার বা লোকাচার; কর্মের এই শ্রেণী হিসাবে আবার 
তার পুরস্ক'র বা পারিতোষিক। এই সব কারণেই মান্ুষ ষে 
খোজে অন্প শ্রমের, কম “অসম্মানী' এবং বেশী লাভজনক ও 
সম্মানী ধরণের কর্ম তা মোটেই অন্বাভাবিক নয়। তাই 
সর্বত্রই এত উন্মত্ত হুড়োহুড়ি এবং আত্মঘাতী প্রতিযোগিতা । 
কিন্তু শ্রীমার কর্েষেণার সুত্র একেবারে নৃতন ধারা থেকে 
উদ্ভৃত £ 

“প্রত্যক্ষে বা পরোক্ষে একথা কখন ন! যেন বলি £ “আমি 
বড়লোক হতে চাই, তার জন্যে কোন্‌ কাজ হবে অনুকূল ? 
বরং যেন বলি ঃ এমন কোন একটা কাজ আছেই যা! সকলের 
চাইতে আমিই ভাল পারি; কারণ মূলতঃ সকলের মধ্যে 
রয়েছে যে ভাগবত শক্তি প্রত্যেকে তারই এক এক রূপে 
প্রকাশ। সেই কাজ যতই তা ছোট হোক বাখাট হোক, 
আমার ব্রত তাকে আবিষ্কার করবার জন্য আমি আমার রুচি 

৪৫ | ৮৬/০1:৫5 0৫ 14018 £১£০ £. 53 


শীমা-গ্রলঙ্গ ৩১ 


প্রবৃত্তি, পছন্দ, অপছন্দ পর্যবেক্ষণ করছি, বিশ্লেষণ করছি, 
আর সে কাজ আমি করবো একদিকে অতি বিনয় অন্থদিকে 
অহঙ্কার বর্জন করে; অপরের মতামত উপেক্ষা করে। একাজ 
করে যাব আমি যেমনভাবে শ্বাস প্রশ্বান নিই, যেমনাবে 
ফুল সুগন্ধ ছড়ায় অনায়াসে স্বভাবগুণে, কারণ অন্তরকম 
করা যে আমার পক্ষে অসম্ভব ।' যে মুহুর্তে আমরা 
সব অহমাত্মক বাসনা, সব ব্যক্তিগত এবং স্থার্থময় উদ্দেশ্য 
দূর করতে পেরেছি_-তা৷ যদি এক পলকের জন্যও হয়__ 
তখনি নিজেদের আমর দিয়ে দিতে পারি এই অন্তরের 
স্বতঃস্ফূর্ত প্রবাহের কাছে, এই গভীরতর প্রেরণার কাছে 
যার সহায়ে আমরা যুক্ত হতে পারব বিশ্বের জীবস্ত এবং 
ব্রমোন্নত সব শক্তিধারার সঙ্গে ।৪৬ 

এইভাবেই প্রত্যেক কর্মানুষ্ঠানের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে 
প্রত্যেক ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য জড়িয়ে আছে, তাই সব কর্ম ই হয়ে 
ঈাড়ায় ভগবানের কাছে নিবেদিত আত্মোৎসর্গের নৈবেছয। 
তাঁর পারিতোষিক আমর! য৷ সঙ্গতভাবে আশা করতে পারি 
তা হল অন্তরে একটা তৃপ্তিবোধ, কারণ কর্ম্মটি উচ্চই হোক বা 
নীচই হোক তা শুধু আমরাই করতে পারি, তা সম্পন্ন হয়েছে 
বা হবার পথে । 

দ্বিতীয় প্রশ্নটি হলঃ “নিংস্বার্থ কর্মে আত্মনিবেদনে 
আমাদের মধ্যে সর্ববপ্রধান বাধ কি 1” 
* 8৬ ড/০:95 ০৫1,018 488০ 00, 57758 715565 230. 
71616861009 2, 54 2০, 199-111 


৩২ ভীম -গ্রসঙ্গ 


প্রশ্নটি খুবই জঙ্গত, কারণ ব্যগ্টিজীবনের অন্নুপমতা৷ 
দৈনন্দিন জীবনের সত্যতাভেই প্রকাশ এবং তাকে ওদ্ধত্য ও 
অহমিকার বিবর্ণ পোষাক পরিয়ে ঢেকে রাখা নিশ্চয়ই হয়ে 
দাড়ায় মরণফস্কুল। শেষে, এমন কি, ব্যগ্রির এই অনুপমতাও 
হয়ে দাড়ায় এ বিভ্রম-_অধ্যাত্ম জীবনের উন্নতির পথে কোন 
অবস্থায় কর্মানুষ্ঠানের উপযুক্ত সুবিধাজনক পদ্ধতি ছাড়া 
এ আর কিছুই নয়। শ্্রীমা এছটি অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রকে 
সামঞ্জস্তে পরিণত করার যে সঠিক পথ একটি নির্দেশ 
করেছেন তা হল £ 
“ব্যক্তিত্বের ভ্রম যখন বলি তখন তার অর্থ আমি বলিন! 
এই যে প্রত্যেক ব্যক্তির নেই নিজস্ব গ্রকাশ ভঙ্গি । বৈশিষ্ট্য 
আর বিভাজন এক জিনিষ নয়।...মনে করা যাক আমর। 
প্রত্যেকে যেন একটি অতি বৃহৎ জীবদেহের এক একটি কোষ, 
তাহলে অচিরেই বুঝব যে একটি কোষের প্রাণ অন্যদের 
প্রাণের উপর নির্ভর করছে, যদিও সমস্তভের মধ্যে তার আছে 
বিশেষ ভূমিকা তবু একমাত্র নিজের প্রাণ বিপন্ন করেই 
অপরের কাছ থেকে সে বিচ্ছিন্ন হতে পারে 1৮৪৭ 
“***নির্ব্যক্তিকতা অর্থ কাজের মধ্যে নিজেকে শুধু ভুলতে 
পারাই নয়, নিজেকে যে ভূলে যাচ্ছি তা পর্যন্ত মনে না 
রাখ ।'*"কাজ তখনই কর! যেতে পারবে অবাধ স্বতঃম্ুর্ত- 
ভাবে, তার সর্ববাঙ্গীণ স্ুসম্পূর্ণতা রেখে ।৮৪৮ 


৪৭ | ৬/০1:05 ০0: 10178 ££০ ৮, 92 
৪৮ | ৬/০0105 ০01 [0176 /£১£০ 7, 67 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ৩৩ 


. আর একট] জিনিষ $ শহিদ সাজবার একটা সস্তা লোভ 
খুবই দেখতে পাওয়া যায়। আমর কথায় কথায় শ্যামদেশীয় 
যমজের মতোই “€সবা ও আত্মবলি” কথাটি বেশ ফাপিয়ে 
রসিয়ে বলি। উদ্বাসপ্রবণ বেদনাবরণের সত্য প্রয়োজন আছে 
কি? একি জ্ঞানের পথ? এ হচ্ছে সহান্ভূতিমূলক ধর্ম- 
ঘটের মত সহান্ুভূতিজনক আত্মোৎসর্গ যা কোনও স্থির লক্ষ্যে 
পৌছে দেয় না আমাদের । সত্যকারে যা ঘটে তা হচ্ছে 
“সজ্ঞানে হোক বা অজ্ঞানে হোক পরের উপকারের জন্ত 
তোমার আত্মবলি আত্মবলি নয়, তোমার আত্মবলি হল 
বলিদানের আনন্দের জন্ত--:এর কোন উপকার নেই । কারো 
এতে উপকার নেই। কারে! এতে উপকারও হয় না।”৪৯ 
শ্রীমা তাই এক বলিষ্ঠঠ আরও মানবীয় এবং আরও বেশী 
ফলপ্রদ কর্মের যে নিশান। স্পষ্ট করে ধরেছেন ত৷ হল £ 

“বস্তুতঃ, সত্তার মধ্যে প্রকৃত চৈত্যপুরুষের প্রকাশ হল 
শাস্তি, প্রফুল্লতা প্রসম্নতা। বেদন! তাহলে, তা সে যে 
রকমেরই হোক, স্পষ্ট দেখিয়ে দেয় ঠিক আমাদের যে-ছ্বর্বল 
জায়গাটি''"মানুষের সত্যকার সাহায্যে আসবার একমাত্র 
উপায় হল তাদের ছুঃখ কষ্টের সম্মুখে এনে ধ্াড় করান একটা 
প্রফুল্ল প্রশান্তি নির্ব্যক্তিক প্রেমের তা হবে সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষী 
প্রকাশ ।*৫০ 

এরপর আরও বল। যায় যে যেহেতু সংঘর মধ্য দিয়ে বেশী 

৪৯ | ৬৬০01:95 ০: 1,016 48০ 1, 66 

৫* | ৬৬০৫5 ০: 10708 48০ 09, 66-67 
শ্রীমা-৩ 


৩৪ শ্রীমা-গ্রসঙ্ 


“কাজ” করার জন্তে কাজ খোজা হয় এবং যেহেতু ভাব ও 
ভাষ। সাহায্য করে সংঘকে সুচারুরূপে চলতে, তাই তাদের 
সম্পর্কে শ্রীমা তার অমূল্য নির্দধেশ দিয়েছেন । সংঘগুলি কখনও 
যেন অচলায়তন নহয়; তারা কাজ করে যাবে অবাধে, 
প্রকৃতির গুপ্ত শক্তি প্রবাহের ধারা বেয়ে; যদি ব্যক্তিগত 
সম্পর্কের বলয়গুলি হয় সুদৃঢ়, তা'হলে সে সংঘের গোটা 
শৃঙ্খলটাই হয়ে উঠবে শক্তিশালী । এক কথায় “এ পৃথিবীতে 
আমরা স্থষ্টি করতে চাই যে সমগ্টিজীবন, এস আমরা প্রত্যেকে 
তার এক একটি জীবন্ত কোষ হয়ে উঠি।”১ চিস্তাধারার 
উপর পুর্ণ কর্তৃত্বের কথা এই যে, সঠিক শৃঙ্খল! সে পাইয়ে 
দিতে পারে এবং ভগবানের কাছে অকৃত্রিম সমর্পণের চাই 
এই শৃঙ্খলাবোধের সাথে, যাতে আমরা হয়ে উঠতে পারি তার 
হতে নমনীয় মৎপিণ্ডের মত। 

সব শেষে, বাক্য ব্যবহার সম্বন্ধে শ্রীমার সতর্কবাণী আছে 
-অতি উপযুক্ত সতর্কবাণী- বাক্য-অপব্যবহারে বিরুদ্ধে। 
শব নিজে ততটাই মূল্যহীন যতট! নিম্প্রাণ বৈছ্যতিক 
ব্যাটারি । শব্দ ব্যবহার করে যে, তারই ব্যক্তিত্বের শক্তিতে 
হয় তা শক্তিশালী । শব্দই শক্তি, তাই তার অপব্যবহার যেন 
না করি বা তাকে নিরর্থক করে না তুলি। 


৫১। ৬০:৫5 ০0: [40198 48০ 0. 70 


নয় 


বিরাট আস্তর পরিবর্তন ও উন্নতির দ্বারপ্রান্তে এসে__ 
অধ্যাত্মের ভাষায় তা এক বিপ্লব ও রূপাস্তর-- আসন্ন আস্তর 
পরিবর্তনের প্রস্তরতির জন্য ও আধ্যাত্মিক গঠন ও উন্নতির 
গতি ত্বরান্বিত করার জন্য শ্রীম৷ দলগত আলোচনার পরিবর্তে 
খু'জলেন অন্য উপায় যা রীতিমূলক প্রচারের চেয়ে অনেক 
বেশী জীবস্ত ও স্ুক্ম। আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য শ্রীমার এই 
নব যন্ত্র--নব যন্ত্র এই অর্থে যে তা বারংবার ও পুর্ণভাবে 
কার্যকরী করা হয়েছে-_-তা হ'ল তার ধ্যান ও প্রার্থনা। 
অধ্যাত্ম অন্বেযুর কাছে এই সকল “প্রার্থনা” শুধু বস্তপ্রাপ্তি বা 
স্থবিধার উদ্দেশ্যে সামান্ত ভিক্ষাবৃত্তি নয়--যেমন, ভোট বা 
পরীক্ষায় সাফল্য, বাণিজ্যে সম্বদ্ধি, দৈহিক কষ্টের উপশম 
ইত্যার্দি। প্রার্থনার গভীরতর উদ্দেশ্য আছে, আর তাই 
অধ্যাত্ম এষণায় পরিপূর্ণ যারা, যার! সুদুর লক্ষ্যে সচেতন, 
তারা আধিভৌতিক শক্তিকে প্রার্থনার প্রভাবের দ্বারা 
প্রচালিত করে । বাস্তবিকই প্রার্থন। এক অবর্ণনীয় সঙ্গীত হয 
তিনটি উদাত্ত স্বরের সমন্বয়ে উদ্‌গীথ__ আরাধনা, সাধুজা, 
সহযোগিতা--এবং এই প্রার্থনাপূর্ণ আনন্দের তরঙ্গ জানতে 
পারে। 

“সর্বপ্রথম, অলৌকিক ভগবৎ সদ্বস্তর দিকে আমাদের 
ব্যক্তিগত প্রবেশাধিকার ও আত্মস্থতা, তারপর এই সম্ভাব্য 
প্রবেশাধিকারের জন্তই অলৌকিক ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠার সকল 


৩৬ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


সম্ভাবনা! ভগবানের প্রয়োজনীয় । সর্বশেষে এই কারণেই 
আমাদের সকল ক্ষমতাই আরোপ কর] হয় অন্ত সকল 
ব্যক্তিত্বের উপর। কারণ এই সব আরাধনার অবস্থাই 
আত্মাকে স্বর্গীয় দ্বার খুলে দেয় এবং তার দিব্য ইচ্ছাশক্তি ও 
ভালবাসা আরও বেশী করে অধিকার ও শাসন করে ও এক 
প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয় পরে যা রূপান্তরিত হয় এক অন্তর 
সহযোগিতায়, সীমাহীন উদ্দ্যমপূর্ণ শক্তিতে । যে আত্মা 
দৈবের পূর্ণ আধার, সহজ কথায় সে অশেষ, কারণ তার সকল 
কর্মই দিব্যত্বপ্রাপ্ত হয় ।৮৫২ কবি কোলরিজ যখন বলেন-_ 

তরুণী সন্গ্যাসিনীর মতো, 

নিরাভরণ রিক্তুতায় ঘের! অপরূপ । 

তার সর্ববদ! প্রার্থনা, প্রার্থন৷ সুপ্তির মাঝে । 
তিনি এই অবস্থাকে বর্ণনা করে বলেন যে এ হ'ল প্রার্থনার 
মাধ্যমে ভগবানের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন সহযোগ । অধ্যাত্ম অন্বেুর 
কাছে সমস্তা হল প্রার্থনার গভীরতা ও তার এলাকাকে 
প্রসারিত করা, হাদয়ের সাময়িক বিচ্ছিন্ন, অশ্তভ আবেগকে 
আত্মার স্থায়ী, অচঞ্চল সর্বব্যাপী উপাদান করে তোলা, যা 
সুন্স্মভাবে সকল কর্ম, সকল আনন্দ ও দেহ, হৃদয় এবং মনের 
শতধারাকে প্রভাবান্বিত ও ব্ূপাস্তরিত করে। প্রার্থনাকারী ও 
প্রার্থনার অনির্বব৪নীয় বস্তুর মধ্যে একটা আশ্চর্য্য যোগ 
আছে। শ্রীমররিন্দ বলেন “যে বরণ করে অসীমকে, অসীম 

€২। [5০151 (006100111, "0215 82150 002 901961:00260181” 

(1927) 0. 204-205 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৩৭ 


তাকেই বরণ করেন।৮৫৩ ডাঃ ইংগে চতুর্দশ শতাব্দীর ইংরাজ 
যোগী নরউইচের জুলিয়ানার [২৪৬61800195 (রেভেলেশন্স্‌) 
থেকে যে কিয়দংশ উদ্ধত করেছেন তা খুবই অর্থপূর্ণ 

“আমাদের প্রভু আমাকে বলেন, আমিই তোমাদের 
প্রার্থনার মূল কারণ; প্রথমতঃ, এ আমারই ইচ্ছা; তারপর 
আমিই তোমার মধ্যে ইচ্ছাকে প্রবুদ্ধ করি, পরে এই 
আবেদনকে সঞ্জীবিত করি এবং তাতেই তুমি জানতে পার 
প্রার্থনা । তাহলে এ কেমন করে হতে পারে যে তোমার 
মধ্যে বিনতি আসবে না? যাকিছুর জন্তে করুণাময় ঈশ্বর 
আমাদের প্রার্থনা করান, তা তিনি যুগযুগাস্তর আগে থেকে 
নিজেই আমাদের দিয়ে রেখেছেন ।৮৫৪ 

প্রার্থনপর সময় আমর] ছুটি হাত তুলে ধরি--স্বেচ্ছায় এবং 
ত প্রত্যক্ষ ; তবুও (“একমাত্র সত্য হল যে সর্বগামী ঈশ্বরই 
তার গোপন বিন চাপ দিয়ে মানুষের মধ্যে ইচ্ছাশক্তি ও 
ভালবাসার গতির সর্বপ্রথম আলোড়ন আনেন)৮৫৫ স্বতঃ- 
্কর্ততাই যথেষ্ট সত্য, কিন্তু তাই একান্ত ব৷ চুড়ান্ত নয়। 
প্রার্থনায় 'আমাদের' বাছ তুলে ধরি, আমরা এসব ফুল 
নিবেদন করি-_কিস্ত বাহুছুটি ও ফুলগুলি কি তার থেকে 
পৃথক কোন অস্তিত্ব আছে? যোগীদের প্রিয় একটি পরিচিত 
৫৩। পু০ 95712006515 0: 5089) 7271, 7, 2 

৫৪9 | (01010150212 70550151517 (1925) 2, 204 

৫৫ | [ঢ5০1518, [01002101711], 1056 (01461) 960116106"" 
(1232) 5, 150 





৩৮ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


উপমার উত্থাপন করে সেন্ট তেরেন! বলেন, «আমাদের আত্মা 
হল যেন একটা অকর্ধিত ও উষর উদ্যান, আগাছায় 
জঙ্গলাকীর্ণ; ভগবান আগাছা! উপড়ে ফেলেন এবং তারপর 
আমাদের প্রার্থনার জলধারা দিতে হবে গাছে ও ফলে। এই 
প্রার্থনা» এই আধ্যাত্মিক আহাধ্য, চার প্রকারের ঃ গভীর কুপ 
থেকে তুমি জল টেনে তুলতে পার; চাকার চারদিকে বাধ! 
বালতির সাহায্যে জল তুলতে পার ; একটি নাল! বা জলধার। 
বাগানের মধ্যে দিয়ে বইয়ে দিতে পার; কিম্বা আকাশবাসী 
বৃষ্টিকে ডাকতে পার। কোন বুদ্ধিমান মালী এসব উপায়ের 
কোনটিকে অবজ্ঞায় পরিহার করবে না, কারণ সবগুলিরই 
উপকার আছে, কিন্তু আকাশ থেকে বর্ষণই অন্য সবগুলিকে 
সার্থক করে, তাই এই উপায়টিই হ'ল সবচেয়ে বেশী ফলগ্রদ 
ও অমুতোপম ।” 

ধ্যানের নিয়ন্ত্রণ-রীতি যদিও অন্য রকম তবু তার সঙ্গে 
প্রার্থনার গাঢ় যোগ আছে; তাদের লক্ষ্য ও কন্মপ্রকৃতি 
অন্ুপুরক-_তারা একযোগে মানুষকে দেবত্বলাভে ও 
ভগবানকে মানুষের তন্থরতে নেমে আগতে সহায়তা করে, 
মানুষ ও ভগবানের মাঝে অপুর্ব নিবিড়-আত্মীয়তার সম্বন্ধটি 
গড়ে তোলে । তাতেই ভক্ত ও ভগবানের মাঝে আদান 
প্রদানের ভাব স্থাপিত হয়, আর স্থাপিত হয় পুর্ণ এঁক্য ও স্থির 
প্রোজ জ্বল ভ্রাতৃত্ববোধ £ 

“চৃদ্র ক্ষুদ্র জীবের সঙ্গে তাদের স্তরে নেমে এসে মিলিত 
হতে হয়, মানবাত্বা যে আদিম বিন্ময়-বিহ্বল পুজায় বসেছিল, 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৩৯ 


তাকে এবার তার স্বভাব, ব্বভূমি জয় করতে হল। এক অদ্ভূত 
ও গভীর আত্মীয়তা স্থাপনা হ'ল...এখানেই নম্র এবং ঘনিষ্ঠ, 
জীবস্ত ও স্বল্পজ্ঞাত ক্ষুত্রমানবসত্তার বর্তমান ও অসীম সাথীর 
“মানুষের হাদয়ের সীমিত দেউলে তার বুদ্ধির নাগালের 
বাইরে “নিবিষ্ট পরমের' সঙ্গে এক মিলন সাধনে প্রার্থনার 
রূপান্তর ঘটানোর কতখানি ক্ষমতা তা স্পষ্ট দেখ। যায় মান্ুষী 
ব্যক্তির আধারে ৮৫৬ 

তাই প্রার্থনাকে বল! হয় দাদন--তা অসীমের সাথে 
বাস্তব ঘনিষ্ঠতা ও অন্ুকম্পাপূর্ণ ধ্যানমগ্ন একময় জীবনের 
সম্ভাবনাকে অমোঘ করে তোলে, তা একটুও অসঙ্গত নয়। 
তবে, পপ্রার্থনা”র সঙ্গে “ধ্যানে”র যে কাধ্যকারণ সম্বন্ধ আছে 
_ সে সম্বন্ধে বেশি কোন অকাট্য নিয়মের বাড়াবাড়ি করার 
প্রয়োজন নেই-_যা স্মরণ রাখ! বেশী প্রয়োজন তা হল ধ্যান 
ও প্রার্থনা! এ-ছুটি আধ্যাত্মিক জীবনের সঙ্গে অঙ্গালীভাবে 
জড়িত। 


৫৬। [7561517 015061121]]1,011812 2120 006 501961058 চো9] 
12, 216-217 


দশ 


১৯১২ সালের শেষ দিকে শ্রীমা যখন দৈনন্দিন প্ধ্যান ও 
প্রার্থনা” লিপিবদ্ধ করতে শুরু করলেন, তখনই তিনি 
আধ্যাত্মিক উপলব্ধি এবং আধিভৌতিক জ্ঞানে ও অভিজ্ঞতায় 
অনেক উদ্ধে উঠে গেছেন। হয়ত ইংরাজী অনুবাদ মূল 
ফরাসীর মত সরল সৌন্দর্য্য, অবশ্যন্তাবী শব্বিন্যাস ও বাধ্যতা- 
মূলক ছন্দ-বঙ্কার-বিহীন। কিন্তু এই অনুবাদের কাজটি অনেক 
-খানি দরদ দিয়ে করা হয়েছে এবং অনুবাদক মূল ফরাসীর 
প্রাণম্পন্দ, তেজন্িত। ও সুম্বাদ-স্ুরভি বজায় রেখেছেন। এ 
বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে মাত্র ১৯৪৮ সালে মুদ্রিত শ্রীমার 
পধ্যান ও প্রার্থনা” পুস্তিকাটির বর্তমান সংস্করণ খুবই আকর্ষ- 
ণীয় এবং প্রেরণাদাঁয়ক, এমন কি সাহিত্যে ও অধ্যাত্মে এ হল 
এক অমূল্য সম্পদ।€" 

এই সকল জ্ঞানদীপ্ত আলোড়নকারী ধ্যান ও 
প্রার্থনাগ্চলির তীব্র শুদ্ধতা পরিলক্ষিত হয় সর্বপ্রথম 


৫৭ শ্রীঝযভটাদ বলেন “এই প্রার্থনাঁগুলি শুধু কাল্পনিক আদর্শ 
বাদের চিক্মিকে চুমকির বুনানী নয় বা ঈশ্বরতত্ব নিয়ে গুরুগ্ভীর 
বাকপটুতা নয়, বরং অধ্যাত্ম অন্থভূতির অনম্থীকার্ধ্য সত্য__দৃষ্টসত্য 
শ্রতবানী, ম্পর্শগ্রাহ আকার, আমাদের বাহ্‌ অনুভূতির গোচর স্থুলবস্তরই 
মত, অথচ সব এক বা নান জ্যোতির্দয় জগতে, যা আবার ইন্দ্রিয়সর্বন্থ 
মানব চেতনার কাছে অগমা”।--17 016 1100021,5 151817% : ১ম 
খণ্ড, পৃষ্ঠা ৮৬ 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৪১ 


লিপিকা থেকেই, যার তারিখ হ'ল ১৯১২ সালের ২র! 
নভেম্বর £ 

“পরম বিধাতা, সকল জিনিসের জীবন তুমি, জ্যোতি তৃমি; 
প্রেম তুমি। আমার সমস্ত সত্তা ভাবে তোমার কাছে 
নিবেদিত বটে, কিন্ত কাজে ছোটখাট ব্যাপারে এ নিবেদনের 
প্রয়োগ আমার পক্ষে এখনও কষ্টকর । আমার এই লিখিত 
ধ্যানের হেতু ও সার্থকত। ঠিক এইখানে যা তা প্রতিদিন 
তোমারই উদ্দেশ্টে নিবেদিত। এ কথা বুঝতে আমার দরকার 
হয়েছে কয়েক সপ্তাহ। প্রতিদিনই তা হ'লে এই রকমে 
তোমার সঙ্গে আমার প্রায়ই যে আলাপ হয় তার কিছু একটা 
স্থলরূপ দিয়ে ধরতে পারব । যথাসাধ্য আমি তোমার কাছে 
সব খুলে বলব-_এবিশ্বাস নয় যে তোমাকে নূতন কিছু বলতে 
পারব-__তুমিই তো সব জিনিস কিন্তু এই জন্যে যে আমাদের 
বুঝবার যে বহিম্স্থী ও কৃত্রিম ধারণা ত1 তোমার কাছে 
অপরিচিত,_আদৌ যদি এ কথা বল। চলে- তা তোমার 
প্রকৃতির বিপরীত। তা হলেও তোমার দিকে যখন ফিরে 
দাড়াব এ সব জিনিস দেখবার সময় তোমার আলোকে 
নিজেকে যখন অভিষিক্ত করব, দেখতে পাব ক্রমে তার! 
তাদের সত্যকার স্বরূপের মত হয়ে উঠছে। একদিন শেষে 
আসবে যেদিন তোমার সঙ্গে আমি সম্পূর্ণ এক হয়ে যাব, 
তখন আর তোমাকে কিছু বলবার আমার থাকবে না, কারণ 
আমি তে? তুমিই হয়ে যাব। ঠিক এই লক্ষ্যেই তো পৌছতে 
চাই। ঠিক এই বিজয়ের দিকেই তো আমার সকল প্রয়াস 


৪২ শ্রীমা-গ্রনঙ্গ 


আমি নিয়োগ করতে চাই। সেদিনের অপেক্ষায় আমি 
রয়েছি যেদিন আমি আর “আমি” বলতে পারব না, কারণ, 
আমি হয়ে যাবে তুমি।৮৫৮ 

এই ভাবে দৈনন্দিন ভগবং-সান্িধ্যের মূলভিত্তি, সক্রিয়ত। 
অবিচ্ছিন্নভাবে প্রতিষ্ঠিত হ'তে লাগল, এরপর থেকে আলোর 
ঝরণা-ধারায় উৎসারিত হ'তে লাগল অনায়াসে আম্পৃহ!। 
আরাধনা, সম্মিলন ও আধ্যাত্বিক কর্ম-_সত্যই এ হ'ল 
ঈশ্বরের অফুরস্ত এশ্বর্যের এক অত্যাম্চর্য উৎক্ষেপ। সমুদ্ধ 
আত্মার খনি থেকে উপমারাজি সংগ্রহ হ'তে লাগল, অপূর্ব 
প্রজ্ঞার ভিড়, সঙ্গত যুক্তির কণ্ঠহার, আনন্দের পাত্র থেকে 
আক পান, অন্তরাত্মার শ্ষুলিঙ্গ ফোয়ারা যখন তাকে 
নেহাইয়ের উপর রেখে তাকে শুদ্ধ ও রূপান্তর করার প্রয়াস 
চলে-_-এ সবই শ্রীমার দেনন্দিন জীবনের ধ্যান ও প্রার্থনার 
সহজ কথা। এগুলি তার আপন প্রয়াসের দিনলিপি ও 
দলিল, সনির্ব্বন্ধ মিনতি, অলৌকিকের চকিত দর্শন, আংশিক 
উপলব্ি, পুরাঁতনের পুনর্শন এবং আরে নৃতনের দর্শন এবং 
যতই আমর! ধ্যান ও প্রার্থনার স্বর্ণধারা অনুসরণ করতে 
থাকি, ততই আমর এই প্রসারণ ও উর্ধ্বায়ন ক্রিয়ার অংশ 
গ্রহণ করি, গ্রহণ করি আর এক জগতে এই লোকোত্তর 
জ্যোতি ও জীবনের কিছু যা এই জগতেরই গহনে, কোথাও 
যতই ভিতরে আবৃত ও কুগুলীকৃত হয়ে থাকুক । 

শ্রীম। ১৯শে নভেম্বর ১৯১২ তারিখ দিয়ে লিখলেন £-_ 

৫৮ | 1185 615 210 111০0168010128 19, 172 


শ্ীমা-প্রসঙ্গ ৪৩ 


«এই যে ইংরেজ ছেলেটি এতখানি আকাজ্্ষ। নিয়ে তোমার 
অনুসন্ধানে চলেছে, তাকে কাল আমি বলেছি--তোমাকে 
আমি চিরতরে পেয়েছি, তোমার আমার সংযোগ নিরস্তর ; 
বাস্তবিকই এই হ'ল আমার অবস্থা, যতদূর সে-সম্বন্ধে আমি 
সচেতন । আমার সকল চিস্তা চলেছে তোমার দিকে, আমার 
সকল কর্্দম তোমার কাছে উৎসর্গাকৃত। তোমার উপস্থিতি 
আমার কাছে ঞপ্ুব অটুট, অচঞ্চল, বাস্তব ; তোমার শাস্তি 
আমার হৃদয়ে নিরন্তর বিরাজমান ।”৫৯ যদিও তথাপি ছিল 
সেখানে “মিলন”, একাস্ত একাতআতার উপলদ্ধি তখনও 
আসেনি; কিন্তু কালে তাও আসবে, কারণ বিশ্বাস সেখানে 
অক্ষুণ্ন, অনাতঙ্ক। তাই শ্রীম1 তার বিশুদ্ধ বিশ্বাস নিয়ে 
বারংবার ঘোষণা করে বলেন : 

“সব তুমি, সর্বত্র তুমি, সবের মধ্যে তুমি । এই যে দেহ 
কাজ করছে, সমগ্র দৃশ্যমান বিশ্বের মতই তা ঠিক তোমার 
নিজের দেহ। তুমি শ্বাস ফেলছ, চিস্তা করছ, ভালবাসছ 
এই সত্ভাটির মধ্যে-_সে-সত্তা তুমিই, তাই সে হতে চায় 
তোমার অনুগত দাসী ।”৬০ 

“তুমি সর্বত্র সর্বদা কেবলমাত্র তুমিই, বূপে ও 
ত্বরূপে।”৬১ ্‌ 

(অভীগ্দা, বিশ্বাস, নমর্পণ ) এ তিনটি হল উপলদ্ধির সেতু- 
৫৯। 719501:5 8120 76010961025 ০. 8 


৬০ | :85615 810 7060109010189 0. 9 
৬১। 785615 814 1/12016909125 ০0. 4 


3৪ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


নির্মাণের প্রসারিত খিলান। শ্রীমা! লিখলেন, “আমি তোমার 
মধ্যে ডুবে যাই, হারিয়ে যাই, শিশুর নির্ভর নিয়ে অপেক্ষা 
করি তোমার কাছে অনুপ্রেরণার জন্তে, সামর্ঘযের জন্যে যাতে 
আমার ভিতরকার, আমার চারিদিকের ভুল শুধরে উঠে-_ 
ভিতর আর চারিদিক তে! একই জিনিস; কারণ, এখন আমি 
নিরস্তর সুস্পষ্ট দেখতে পাই বিশ্বব্যাপী এক্যই সকল ক্রিয়া- 
বলির মধ্যে পরম্পরের একান্ত নির্ভরতা বিহিত ক'রে 
দিয়েছে ।৮৬২ ঠিক একমাস পরেই ৩র] ডিসেম্বর ১৯১২ সালে 
আবার শ্রীমা লিপিবদ্ধ করলেন $ “কালরাত্রে আমি পরীক্ষা 
করলাম তুমি যেমন চালাও তেমনি নির্ভর করে নিজেকে 
ছেড়ে দিলে কি সুফল তার হয়। যে-জিনিস যখন জান! 
প্রয়োজন তা ঠিক তখনই জান! যায়; তোমার জ্যোতির 
দিকে ফিরে মন যত নিশ্চল থাকে, প্রকাশও তার মধ্যে হয় 
তত সুষ্ঠু ও সুস্পষ্ট । আর শঙ্কা নাই ক্ষোভ নাই-_-আছে 
কেবঙ্গ পরম প্রসন্নতা, চরম নির্ভর আর নিিবচল শাস্তি ।৮৬৩ 

ছদিন পরেই আবার লিখলেন শ্রীম। :(“ত্বরা নয়, চিন্তা 
নয়, কৃচ্ছৃতা নয়; এক তুমিই, তুমি ছাড়া আর কিছুই নয়; 
তবে বিশ্লেষণ করে, জ্ঞানের বিষয় করে তোমাকে পাওয়া 
নয়__ তুমি রয়েছ কিছুমাত্র সন্দেহ তাতে নাই, কারণ, সব 
সেখানে হয়ে উঠেছে বিশুদ্ধ শাস্তি, দিব্য নীরবতা 1৬৪ এই 

৬২। 70956152100 11201096102 0. 2 

৬৩। 71815 2180 1150169010125 0.7 

৬৪। 10182501:5 2150 1/190169610185 79. 8 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৪৫ 


শান্তি ও নীরবতা, এক নিরবচ্ছিন্ন পরিপূর্ণতার যে ভাব তা 
আরও কিছুদিন পর্য্যস্ত অব্যাহতভাবে চলতে লাগল এবং 
বাণীগুলিও আপন ব্যাকুলতায় ভরে উঠল £ 

“শিখা যেমন জ্বলে নির্বাক হয়ে, স্ুবাম যেমন উদ্ধে 
ওঠে নিষষম্পভাবে, আমার ভালবাসাও তেমনি চলে তোমার 
দিকে । শিশু যেমন তর্ক করে না, কিছুরই জন্য চিন্তাও 
করে না, আমিও তেমনি তোমাতে নির্ভর করি, তোমার ইচ্ছা! 
পূর্ণ হোক, তোমার আলে] ফুটে উঠুক, তোমার শাস্তি ছড়িয়ে 
পড়ুক, তোমার ভালবাসা জগৎ ছেয়ে দিক)”৬ৎ 

“গতকাল আমার বাণীর মধ্যে দিয়ে তোমার আলে। 
অবাধে প্রকাশ হয়েছে; যন্ত্র হয়েছে স্ুনম্য, অনুগত, শাণিত । 
সকল জীবে, সকল বস্তুতে তুমিই ত কন্ম করে চলেছ; আর 
যেতোমার এত সান্িধ্যে এসেছে, যাবতীয় কর্মে কেবল 
তোমাকেই দেখতে পায়, সে-ই তো পারে সকল কর্মকে 
তোমার আশীব্বাদে রূপান্তরিত করতে ।৮৬৬ 


৬৫। 185615 200. 7/16015901015 0. 8 
৬৬। 70185215 210. 1120162001)5 0, 9 


এগারে। 


১৯১২ সালের ১১ই ডিসেম্বর থেকে ১৯১৩ সালের ৫ই 
ফেব্রুয়ারী তারিখের মধ্যে প্রায় ছু'মাসের দীর্ঘ ব্যবধান । 
শেষের তারিখটিতে প্রীম। শুনলেন যে বাণীতে গীতমধুর কণ্ঠে 
ঈশ্বর পৃথিবীকে সম্বোধন করে বলেছিলেন এবং তার অন্ধু- 
লিপি এই : “ওগে ছঃখিনী পৃথিবী, মনে রেখো তোমার 
অন্তরে আমিই রয়েছি, নিরাশ হয়ো না। তোমার প্রতিটি 
চেষ্টা, প্রত্যেক ব্যথা, প্রত্যেক উল্লাম আর প্রত্যেক বেদনা, 
তোমার হৃদয়ের প্রত্যেক আহ্বান, তোমার মন্মের প্রত্যেক 
আকাজ্ষা, তোমার খাতুচক্রের প্রত্যেক পুনরাবর্তন, সব 
জিনিম কোন কিছু বাদ না দিয়ে--তোমার কাছে য। দুঃখের 
মনে হয় আর যা সুখের মনে হয়, যা মনে হয় কুৎসিত, আর 
যা! মনে হয় সুন্দর, সকলে--সকলে অনিবাধ্যভাবে তোমাকে 
নিয়ে চলেছে আমারই দিকে-_আমি অন্তহীন শাস্তি, ছায়াহীন 
আলো, ছেদহীন সম্মিলন, একান্ত নিঃসংশয়তা, বিশ্রাস্তি)_ 
পরম আশীর্বাদ 1৮৬৭ 

জড় প্রকৃতি একদিন পরাপ্রকৃতি হয়ে উঠবে, সুতরাং 
নৈরাশ্টের কোন কারণই নেই ; আর শ্রীমার কৃতজ্ঞতাও উদ্ধে 
উঠে চলেছে তারই দিকে “ভারতবর্ষের সুগন্ধ বিশুদ্ধ ধূপ- 
শিখার মত”।৬৮€শ্রীমা এও উপলব্ধি করলেন তাকে সাগ্রহে 
৬৭1 2536:5 8170 1020108:010105 0১. 10-11] 

৬৮ 01085615 82150. 11601580013 0. 11 


শীমা-পগ্রসঙ্গ ৪৭ 


অনুসন্ধান করার চেয়ে অটুট বিশ্বাম নিয়ে তার প্রতীক্ষায় 
থাক] অনেক শ্রেয়ঃ--কারণ তিনি আসবেন, অবশ্যই আসবেন) 
তার ক্রেমস্ফুট ইচ্ছার চেতন] ও তারই .সাথে ক্রমোন্নত একা- 
আতার মধ্যে অনুস্যত রয়েছে সত্যকার স্বাতন্ত্র্য ও সর্ববশক্তি- 
মতা ও আরও রয়েছে পূর্ণ রূপান্তরের সম্ভাবন।। (বিশ্বাস তার 
অটুট এবং আত্মসমর্পণ জীবনের ধর্ম বলেই পরম সব্বস্তর 
প্রজ্ঞান শ্রীমার জীবনে ভিড় করে আসে ও কনকোজ জ্বল 
বাণীতে পরিণত হয় 

“ভগবান, ভর্গবান! সীমাহীন আনন্দপূর্ণ করেছে আমার 
হৃদয়, আমার মস্তিক্ষ ভরে দিয়ে উল্লাসের উদ্গীথ চলেছে তার 
অপরূপ ঢেউ সব তুলে দিয়ে; তোমার বিজয় স্থির-নিশ্চিত, 
এই দৃঢ় প্রত্যয়ের মধ্যে আমি পেয়েছি পরম। শক্তির অজেয় 
শক্তি। তুমি আমার সত্তা ভরে রয়েছ, তাকে সঞ্জীবিত 
রেখেছ, তার প্রচ্ছন্ন উৎস সব সঞ্চালিত করেছ, তার বুদ্ধিকে 
আলোকিত করেছ, তার প্রাণকে প্রখর করেছ, প্রেমকে বন্থ- 
গুণিত করেছ। এখন আমি তাই বলতে পারিনা, আমি 
বিশ্ব না বিশ্বই আমি, তুমি আমার মধ্যে না আমি তোমার 
মধ্যে । একমাত্র তুমিই রয়েছ, সবই তুমি, তোমার অসীম 
করুণার উচ্ছুমিত ধারা জগৎকে পরিপূর্ণ করেছে, ছাপিয়ে 
ছড়িয়ে পড়েছে” ।৬৯ 

«আমার অন্তর থেকে উঠছে একটি গীত, গম্ভীর রর 
প্রনন্ম সুক্ম--জানিনা সে-গান আমার থেকে তোমার দিকে 

৬৯। [0:85215 2150 10601620103 7. 14 


৪৮ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


যায়, না তোমার থেকে আমার দিকে আসে কিংবা তুমি আমি 
সারা বিশ্ব মিলে আমর! হলেম এই যে অদ্ভুত গীতটি আমার 
চেতনায় জেগেছে'*'পৃুথকভাবে আমি নেই, তুমি নেই, বিশ্বও 
নেই-__এ নিশ্চয় 1***অনিরর্বচনীয় শাস্তির মধ্যে আত্মহারা 
আমার আত্ম। ৷ ৭০ 

“তুমি যেখানে নাই সেখানে সব নিশ্রীণ, নিরেট অচেতন । 
যা-কিছু আমাদের আলো দেয়, মুগ্ধ করে, আমাদের জীবনের 
সমস্ত অর্থ সমস্ত লক্ষ্য তা সবই তুমি । এর চেয়ে আর বেশী 
কি প্রয়োজন-€সকল ব্যক্তিগত চিস্তা থেকে মুক্ত হলে ছু পক্ষ 
মেলে দিয়ে স্থল জীবনের যাবতীয় অনিত্যতার উদ্ধে বিচরণ 
করতে হলে--তবেই ত উড়ে যেতে পারি তোমার দিব্য 
সালোক্যের মধ্যে, পৃথিবীতে আবার ফিরে আসতে পারি 
তোমার বাণীবহ হয়ে, তোমার আসন্ন আগমনীর অপরূপ 
বার্ত। ঘোষণা করতে)৭১ 

কোনে! কোনো মুহূর্তে পৃথিবীর সসীমতা মানুষের দৃষ্টি- 
্ষীণতা ও আনন্দহীনতা তার চেতনার উপর চাপ দেয় 
এবং আপশোষের মৃহু্বরে তিনি বলেন পৃথিবী ও মানুষ 
এখনও বিকৃতভাবে স্বরচিত ও নিরানন্দ পথে হামাগুড়ি 
দিচ্ছে ঃ 

“ভগবান, আগুন যেমন আলে। ও উত্তাপ দেয়ঃ ঝরণ। 
যেমন তৃষ্ণা জুড়ায়, তরু যেমন ছায়! ও আশ্রয় প্রদান করে, 

৭০ [85618 2150 11০01620015 0. 18 

৭১। 018 215 810 11601801013 0, 22 


ভরীমা-প্রসঙ্গ ৪৯ 


আমি যেন সেই রকম হ'তে পারি-**মানুষেরা এত হুঃখী, এত 
অবোধ তাদের সাহায্যের এত প্রয়োজন ।”৭২ 
“তবে কেন মানুষ এসব সম্পদ ফেলে চলে যায়, কেন 
ভয় করে এদের? কি অদ্ভূত এই অজ্ঞান, সকল ছঃখ কষ্টের 
উৎস যেখানে । কত দীনহীন এই মোহ-_মানুষকে তার 
সৌভাগ্য থেকে আড়াল করে রেখেছে, সাধারণ জীবনের 
সংগ্রামে ছুঃখকষ্টে পরিপূর্ণ এই দারুণ পরীক্ষাগারের মধ্যে 
দাস করে রেখেছে ।”৭৩ 
(অধৈর্ধ্যের তরঙ্গ ও উত্তেজনা! কোন সমাধানই আনে না, 
তথাপি ধের্ধ্য কতই ন1 কঠিন বস্ত! কবি হপ.কিন্স স্বীকার 
করে বলেন : 
“ধৈর্য্য, সে অতি কঠিন বস্তব 1... 
স্বাভাবিক হৃদয়ের আইভিলত! ধের্্য ঢেকে রাখে 
অতীতে বিধ্বস্ত আমাদের উদ্দেশ্ট যত। 
ওই তো] বৌদ্রধারায় পরিস্নাত সে-- 
সিন্ধুর নীল আখি আর আদ্রব কিশলয়-সাগরে । 
হতে পারে ধৈর্য্য কঠিন বস্তু, কিন্তু শ্রীমার তাইই 
প্রয়োজন। কারণ তার প্রচেষ্টা হল--সে অগ্নিপরীক্ষা যতই 
দীর্ঘ বা অল্পক্ষণই হ'ক-_আধারকে বিদূরিত এবং ক্ষত নিরাময় 
করা। তা হ'লে যে ধের্ধ্য ছূর্বতা আনে তার কাছে 
সমর্পণই .বা কেন? শ্রীম। মুহামান। হয়ে পড়বেন না, তিনি 
৭২। 1185215 2190. 1০019010125 7. 15 
৭৩। 01852182730 11601090015 0. 16 
প্রীমা-৪ 


৫০ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


হবেন নমনীয় ও দৃঢ় প্রত্যয়শীলা) কারণ তার অন্তরের 
নীরবতায় বেজে ওঠে সেই দৈববাণী ১) 

“কাজ ভাল করে করবার জন্য উদ্ধযস্ত হওয়া! ছুঃসম্বলেরই 
মত নিয়ে আসে সমান কুফল, গভীর জলের মত প্রশস্তির 
মধ্যেই নিহিত সত্যকার সেবার একমাত্র সম্ভাবন] 1৮৭8 

প্রায় ছ'মাসের অর্থপুর্ণ বিরতির পর শ্রীমা ৭ই অক্টোবর 
১৯১৩ সালে লিখলেন £ 

“তিন মাস অনুপস্থিতির পর তোমার নামে উৎসগাঁকৃত 
এই গৃহে ফিরে ছুটি উপলব্ধি আমার হল, ভগবান । প্রথমতঃ 
আমার বাহাসত্তায় আমার স্থুল চেতনায় আমি আর আদৌ 
অনুভব করি না যে আমি রয়েছি আমার নিজের ঘরে, অথবা 
সেখানে আমি কোনকিছুর মালিক ।""*দ্িতীয়তঃ গৃহখানির 
সমস্ত আবহাওয়ায় মিশে রয়েছে একট! পুণ্য-গাম্ভীধ্য-__সেখানে 
প্রবেশ করলেই ডুবে যাই যেন গভীরে । ধ্যান সেখানে হয় 
নিবিড়তর, মহত্বর।**"আমার আধারের নৃতন এক ছুয়ার খুলেছে, 
এক বিশালতা এসে দেখ! দিয়েছে--সব পরিবন্তিত হয়ে গিয়েছে। 
সবই নৃতন। পুরাতন ছিন্নবস্ত্র সব যেন খসে পড়েছে, নবজাত 
শিশু চোখ মেলে তাকিয়েছে উদীয়মান উধার দিকে 1৮৭৫ 

সত্যই সবই পরিবন্তিত হয়েছে__প্রশাস্তি এসেছে ও 
জড়ের মধ্যে স্থায়ী হয়েছে__ তবুও বাধ! বিপত্তির হঠাৎ 
ঝাপট। নিঃশেষিত হয় নি। এই প্রসঙ্গে ভ্রীমা লিখলেন-- 

৭৪ | [918521:9 2110 11201056109155 1, 19 
৭৫1 10185015210 7150109610189 020. 23-24 


শ্রীমা-প্রনঙ্গ ৫১ 


“সক্রিয় চিন্তাকে যখন আমরা স্তব্ধ করে রাখি--তুলনায় তা 
খুব কঠিন নয়--- তখনি,দেখি চারিদিক থেকে উঠে আসছে 
অবচেতনার রাশীকৃত সব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছাপ, অনেক সময়ে ত। 
এত পরিপ্লাবী হয় যে আমাদের একেবারে ডুবিয়ে দেয়।”৭৬ 
কি করে এই সুক্ষ সর্পটিকে নিজৰ এবং এমন কি বিনাশ 
কর! যায়? সন্গযাসীর কৃচ্ছমাধনায়? শ্রীমা বলেন, “না” : 
অন্ত কোন অন্রাস্ত উপায় নিশ্চয়ই আছে। সে উপায় তিনি 
আবিষ্কার করবেন অস্তরের অস্ত:স্থলে যে দিব্যদিশারী আছেন 
তার বাণী শুনে, সেই দিশারী ধার মধ্যে রয়েছে “জননীর 
ষোলো আন! স্সেহ ও শিক্ষকের ফোলো। আন। সহিষু$তা |? 


বারে। 


জড়ের অচেতনা, গুরুভার, ব্যর্থত ও পরাজয় ম্ত্যজীবনকে 
মেঘাচ্ছন্ন করতে থাকে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যে বিবর্তনের পথটি 
রুদ্ধ করে তোলে । এ সব তামসিকতার দিকে দৃষ্টিপাত করে 
ব্যর্থতা, সত্যভ্রষ্টতা ও পরাজয়ের সংখ্যা বৃদ্ধিতে শ্রীম। গভীর 
বেদন!পান। তাই তিনি ২৯শে নভেম্বর ১৯১৩ সালে লিখলেন, 
«কেন এই কোলাহল, এই আন্দোলন, এই বিক্ষোভ? কেন 
এই ঘৃণি মানুষকে নিয়ে ছুটে চলেছে, ঝড়ের মধ্যে এক ঝাঁক 
মাছির মত। কি করুণ দৃশ্য--এত শক্তির অপব্যয়, এত 
পরিশ্রম নষ্ট ! পুতুলের মত স্থতোর টানে এই যে তাদের নৃত্য 

৭৬। 212521:5 220 11201620105 0. 25 

৭৭ | 59517006815 0 088-911 210:0101700, 2810 1, 0. 15 


৫২ শ্রীম।-প্রনঙ্গ 


কবে তা বন্ধ হবে-_কিস্তু কে ব কিসে তাদের ধে ধরে আছে 
জানেও না তার11৮%৭৮ “অপব্যয়” আমাদের অপরাধজনক 
অযোগ্যত1 ও নির্বব,দ্ধিতার এক প্রধান কথা৷ প্রকৃতির দান, 
আমাদের নিজন্ব শক্তি, কাল ও সৌন্দধ্যের অপব্যয় হচ্ছে 
এবং সবার উপরে যা অপব্যয় হচ্ছে তা হল ভগবত-করুণা 
যাকে প্রত্যাখ্যান পর্য্যস্ত করা হচ্ছে__সেইই মূর্খ ভারতীয়ের 
মত সত্যভ্রষ্ট মানব আপন হাতে ছু'ড়ে ফেলে “সকলের চেয়ে 
মূল্যবান মণি”। প্রদীপ্ত সম্ভাবন1 ও কঠোর বাস্তবতার মধ্যে 
ছায়ালোক, তার উপর শ্রীমা সতর্ক দৃষ্টি রেখেছেন, উৎকণ্ঠ 
হয়ে আছেন কখন ছায়। অপসারিত হবে এবং অজ্ঞানের 
জগৎকে পুনরধিকার করবে আলো : 

“তোমার দিব্য প্রেমের মধ্যে মিশে গিয়ে, আমি দৃষ্টিপাত 
করি পৃথিবীর উপর, তার জীবকুলের উপর, দেখি এই পদার্থের 
রাশি নিয়ত রূপ গ্রহণ করে, বিনাশ পায়, পুনরায় নবীভূত 
হয়, এই যে বহু সমাবেশে স্ূপ সব গড়ে ওঠে, আবার তৎক্ষণাৎ 
মিলিয়ে যায়, এই যে সব সত্তা যাদের ধারণ ভারা সচেতন 
শাশ্বত ব্যগ্িরপ, বস্ততঃ কিন্তু তার! একটি নিঃশ্বাসের মতই 
নশ্বর, সকলেই তারা একই ধরণের, পার্থক্য যতই হোক,তার। 
সকলে চিরকাল পুনঃ পুনঃ প্রকাশ করে চলেছে একই সব 
কামনা, একই সব প্রেরণ, একই সব তৃষ্ণা, দেই একই সবঝ 
অদ্ঞানাচ্ছন্ন প্রমাদ ।”?৯ 

৭৮ | 19095215 2150 17/020109610155 0:22 

৭৯। 10:8561:9 2150 709016900195 0১, 47 


শ্ীমা-প্রসঙ্গ ৫৩ 


বিশ্বাসঘাতক আনন্দ, নীচতা ও নির্বোধ তৃপ্তির ছার! 
প্রতিপালিত ভীতিপ্রদ উদ্ভ্রান্ত নাগরিক জীবন ও তথাকথিত 
সভ্যতা মানুষকে দৃঢ়ভাবে অভিভূত করে রেখেছে । পরে 
একদিন শ্রীমা! লিখলেন,“এই যে অবাস্তব ব্যক্তিরপের নিরস্তর 
ঘূর্ণি, এই যে বহুলত জটিলতা, এই যে অপরিসীম অশোধনীয় 
বিশৃঙ্খলা, চিন্তার বিরোধ, প্রেরণার ছন্দ, কামনার যুদ্ধ, আমার 
মনে হয় ক্রমেই অধিকতর নিদারুণ হয়ে উঠছে। এই যে 
উন্মত্ত সাগর এর থেকে আমাদের উঠে আসতে হবে, দাড়াতে 
হবে এসে তোমার শান্তিপূর্ণ তীরের প্রসন্নতার মাঝে ।”৮ও 

আমর! এই বিক্ষুব্ধ সাগর থেকে উঠে আসবো- কিন্ত 
কেমন করে ?কলরবকে নীরবতা। দিয়ে, বিক্ষোভকে স্থর্্য 
দিয়ে, নৈরাশ্থপুর্ণ ব্যাথাকে প্রসন্ন আনন্দ দিয়ে বাধা দিতে 
হবে; শুরু হবে ব্যগ্টিগত জীবন থেকে, ক্রমে অনিবার্য শোতে 
সমপ্টিকে তা অন্ুরণ করতে হবে। সংস্কারসাধন, রূপাস্তর 
অস্তরেই শুরু হবে প্রথমে : “নিজেরই মধ্যে সকল বাধা, 
নিজেরই মধ্যে সকল বিশ্ব, নিজেরই মধ্যে সকল আধার ও 
অজ্ঞান।”৮১ তাই নিরাময়ও আসবে অস্তর থেকে) এরং এ 
গুপ্ত রহস্য সমাধানের সুত্র হ'ল “অন্তরের এক অপ্রন্ষুটিত ও 
অবগুষ্ঠিত কুন্থমকলি। একটিবার যদি মানব মন চিরম্তনের 
দিকে দৃষ্টি ফেরায় তাহ'লে ত্বরিত ও ক্রমান্বয়ে ধারাবাহিক 
উপলব্ধির মধ্য দিয়ে ফুলটি একটি করে খুলে দেবে তার সকল 

৮০। [91950:3 200 16010901013 0. 58 

৮১ | 101:95015 82170. 1২09416900123 9. 65 


€৪ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


দল।”৮২ অবশেষে যখন এরূপ এক চূড়ান্ত পর্যায়ে মন ফেরে 
তখন কেবলমাত্র সেই অচল নৈঃশব্য, য! ব্যর্থ কোলাহল, 
নিরর্৫থক বিক্ষোভ, শক্তির বৃথা ক্ষয়”কে৮৩ গ্রাস করে ফেলে, 
কেবল তারই বাণী শুনবার সে ক্ষমত] অনুশীলন করতে হবে । 
এই চিরস্তনীর বাণী--এই নিয়ত নৈঃশব্য--সবই অন্তরের 
অন্তরে বাহিত হয়, কিন্ত প্রত্যেকেই এই আতস্তরশক্তি সম্বন্ধে 
সজাগ নয় এবং এ ছাড়াও “নীরবতা ক্রমে আরো গাঢ় হয়ে 
চলেছে ; তোমার সঙ্গে আমাদের এঁক্য যতই পূর্ণ হোক না, 
যতদিন না আমরা শরীরের দিক দিয়ে অপূর্ণ জগতের অঙ্গীভূত, 
ততদিন তোমার সঙ্গে আমাদের এঁক্য চিরকালই সুষ্ঠু হতে 
নুষ্ঠুতর করে ধর! যেতে পারে ।”৮৪ মানবজাতিকে পুর্ণ করতে 
সক্ষম হবার পূর্বে শ্রীমা নিজেকেই পুর্ণ করে তুলবেন ; এ 
কারণেই শ্রীমার প্রার্থন! তীব্রভাবে বারংবার পুনরুচ্চারিত হয়, 
«হে ভগবান, আকুল কে তোমায় আমি ডাকি : আমাকে 
জ্বলস্ত অগ্নিকুণ্ড করে তোল, যাতে সকল বেদন। পুড়ে যায়... 
আমায় রূপাস্তরিত কর স্তব্ধ প্রেমের, অপার করুণার দীপ্ত 
অগ্নিকৃণ্ডে।”৮৫ ভগবান যিনি অবশেষে এখানে প্রমূর্ত, তিনিই 
“বেদনাময় দন্দঙ্কুল জগংকে সমগ্রভাবে তুলতে পারেন 
সম্মিলনের ও শাস্তির জগৎ করে” ।৮৫ 


৮২। ৪11 £01:01011500-9516)6515 0 ০৪০-৪1৮ ], 9. ] 
৮৩ | 11252152180. 7410109010105 0. 33 

৮৪ 1 7125615 2150 1/০0105060153 10. 99-40 

৮৫ | 125619 2150 11150108610185 0. 48 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৫৫ 


তখন শ্রীমা যে শুধু ছর্ব্বোধ্য জগতের গুরভার সম্বন্ধে 
তীক্ষভাবে সজাগ ছিলেন তা নয়, এমন কি তার নিজের অনৃষ্ট 
সম্বন্ধে ও জগতের ভার লাঘব ও সমূলে উৎপাটিত করার যে 
প্রধান প্রয়োজনীয়তা তার সন্বন্ধেও সচেতন । যদি শ্রীম। হঃখের 
মানুষী বিগ্রহের সাথে পৃথিবীর অতিকায় যাতনার অংশ গ্রহণ 
করেন, তাহলে তিনি কোনে অংশে তার অযোগ্য “দিব্যদ্রষ্টা 
সহকম্মিণী” হবেন না, এবং জীবন জ্যোতি ও প্রেমকে ফিরিয়ে 
আনার প্রচেষ্টা করবেন। এই স্মরণীয় অংশ থেকেই অনুমান করা 
যায় যে শ্রীমা এ ছৈতগতির জন্তই জীবন উৎসর্গ করেছেন। 

(“আমার মনে হয় দিনে ও রাত্রে অনেকবার আমি -_অর্থাং 

আমার সমস্তখানি চেতনা, আমার হৃদয়ে কেন্দ্রীভূত হয়েছে, 
হৃদয় যেন আর বাহা দেহযন্ত্র মাত্র নয়, এমন কি কোন ভাব- 
প্রবণতাও নয়--সে হয়েছে দিব্যপ্রেম, নৈর্ব্যক্তিক, শাশ্বত। 
এই পরম প্রেমে পরিণত হয়ে গিয়ে আমি অন্ুভব করি সমগ্র 
পৃথিবীর সর্বববস্তর হৃৎকেন্দরে আমিই ত রয়েছি, তখনই আমার 
মনে হয় যেন আমার বিস্তৃত বাছছুটি নিরস্তর প্রসারিত 
হয়ে চলেছে, বিশ্ব হতে বিশালতর আমার বক্ষের মধ্যে সকল 
জীবকে সংহত, শ্রেণীবদ্ধ, নিমজ জিত করে অসীম নহে ঘিরে 
রেখেছে'""বাক্য ছূর্বল ও অক্ষম |? ্‌ ৃ 

সত্যই এরূপ অলৌকিক দর্শন, এরূপ ইঙ্গিত ও জাগ্রত 
সত্যকে নিছক কথার ভাষায় ধরার চেষ্টা নিরর্থক-_ 

৮৬। 718561:9 8170 1*16016900195 7. 51 

৮৭ | [18215 2170. 18010909153 1১, 62 


৫৬ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


“হায় বৃথাই অশক্ত কথা, হুর্বল পক্ষ, বৃথ। তার চেষ্টা, 

বৃথাই চেষ্টা এমন ব্বগঁয় দৃশ্যের বর্ণন। দিতে ।”৮৮ 

দন্বমত ও আপেক্ষিক পৃথিবী একদিন না একদিন চলে 
যাবে, যাচ্ছেও ; কুয়াসা যতই অপশ্যত হবে ততই অনব- 
ধারণীয় অভিনব দীপ্তি বিকশিত হয়ে উঠবে ও এ শাশ্বত শক্তি 
ও অভিনব সান্নিধ্য সম্বন্ধে সচেতন হয়ে মর্ত্য “অবশেষে 
হাদয়ঙ্গম করবে তার সত্যকার লক্ষ্য সব কি, তোমাকে পূর্ণ- 
ভাবে লাভ করে জীবনে শাস্তি ও সুসঙ্গতি ফুটিয়ে ধরে ৮৮৯ 


তেরে। 


১৯১৪ সালের ৩র। মা্চ শ্রীমা লিখলেন, “আমার যাত্রার 
দিন যত নিকটে আসছে তত আমি একটা শান্ত সমাহিত 
চেতনার মধ্যে প্রবেশ করছি।”৯০ তিনি শীত্রই এক দীর্ঘ 
জলযাত্রা করবেন-_ “তোমার সান্নিধ্যে অভিষিক্ত এই নিস্তব্ধ 
ঘরখানিতে এই টেবিলে বসে লিখতে আর পারব ন11”৯৯ 
এবং তাই যে সব “তুচ্ছ জিনিস" গ্রীমাকে ঘিরে রেখেছে সহৃদয় 
গ্রীতি নিয়েতাদের দিকে তিনি দৃষ্টি ফেরান এবং বাহির থেকে 
তাকে যে আনন্দ তার দিয়েছে তার জন্য তাদের ধন্যবাদ 
জ্ঞাপন করেন। আর ভবিষ্যতের সমচিত্ততা নিয়ে সম্মুখীন হন-_- 

৮৮ 01195 চ716601)61 

৮৯। 0155015 2150. 72016900159 7. 38 
৯৯ 197:8521:5 8150. 72016910013 19. 65 
৯১। 1185615 2190. 2060102110159 0. 62 


শ্রীমা-প্রনঙ্গ ৫৭ 


_-“আমার একমাত্র ইচ্ছা এ যেন হয় একটা নৃতন আস্তর 
যুগের আরম্ভ” ।৯২ তিনদিন পরেও যখন জেনেভ। সহরে শ্রীম। 
তখনও এক বিচ্ছেদের যাতন। ভোগ করলেন এবং বিভ্রান্ত 
হলেন এই ভেবে যে এই ভাবাঁবেগ বালস্থলভ কিনা । কোনো! 
কোনে। দিক থেকে তা সতাই; কিন্তু তবুও তিনি জিজ্ঞাসা 
করেন £ “এই আসক্তি, এই ব্যক্তিগত_ স্নেহ মানুষের একট! 
অজ্ঞানতঃ চেষ্টা নয় কি যাতে €স ব্যহাতঃ যতদুর সম্ভব উপলব্ধি 


৮ উপপা্লিসপাস্্ -্ছ পা প্স্সপাসসপসপাস্্িজ 


করতে পারে সেই মূল একত্ব যার দিকে সে কিছুমাত্র ন ন্‌ 
জেনেই ঝর ক্রমাগত চ চলেছে ।”৯৩ 

_ একাগামারু” জাহাজে এক অনির্ববচনীয় সাচ্ছন্দ্যের ভাব, 
ইষ্টদেবতার সচেতন আবির্ভাব ও অভয়রূপের পরিবেশ ছিল; 
শ্রীমার আস্পৃহাপূর্ণ প্রার্থনা এখনও পূর্বেবরই মত তারই 
উদ্বোশ্ে উঠে চলেছে,«তোমার প্রেমকে জীবনে ফলিত করবে, 
চারদিকে ছড়িয়ে দেবে এত প্রবলবেগে এত সাফল্যের সঙ্গে, 
যে যারাই আমাদের সংস্পর্শে আসবে তার সকলেই পাবে 
বলবীর্ধয, নবজীবন, জ্ঞানের আলো। শক্তি চাই-_জীবনকে 
নিরাময় করবার জন্তে, হঃখকষ্ট থেকে যুক্তি লাভের জন্তে, 
শাস্তি আর অটল খিশ্বাস গড়বার জন্তে, মনস্তাপ মুছে ফেলে 
তার স্থানে সেই একমাত্র সত্যকার সুখ স্থাপন করবার জঙ্চে 
যা রয়েছে তোমার মধ্যে, যার নাই নির্ববাণ'.*।”৯৪ পরদিন 

৯২। :8501:9 20. 1৬ 201691010135 0. 67 

৯৩। 10859158220. 10০0109,010123 0. 68 

৯৪ | 10:26:59 280 7/0201900125 0. 69-70 


৫৮ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


প্রত্যুষে-_৮ই মার্চ ১৯১৪ তারিখে-শ্রীমার কাছে মনে হল 
যেনতিনি বোধ হয় “জাহাজের সকল যাত্রীকে গ্রহণ করেছেন, 
সমান ভালবাস! দিয়ে তাদের ঘিরে রেখেছেন ।”৯৫ শ্রীমার 
অস্বাচ্ছন্দ্য ভাব আর নেই--তিনি জাহাজটির মধ্যে সম্পূর্ণ 
নিজের বাসস্থানেরই স্বাচ্ছন্দ্য অনুভব করলেন যা" তার 
কাছে মনে হ'ল এ যেন “অপূর্ব শাস্তির ধাম, পুণ্যমন্ৰির 
তোমারি পুঞজায় সে যেন চলেছে ।”৯৬ তারপর ছুদিন 
পরে এক মহান উপলব্ধি তিনি পেয়েছিলেন এবং এই 
উপলব্ধি অপূর্ববনুন্দর ও অন্ুপ্রাণিত ভাষায় তিনি সংক্ষেপে 
লিখলেন £ 

“রাত্রির নীরবতায় তোমার শাস্তি সর্বত্র বিরাজ করে, 
আমার হৃদয়ের নীরবতার মধ্যেও তোমার শাস্তি সর্ব্বদা 
বিরাজ করে। আর যখন এই ছুটি নীরবতা এক হয়, তখন 
তোমার শাস্তি এত শক্তিমান হয়ে ওঠে যে কোন বিপদই আর 
বাধ! দিতে পারে না। এমন সময়ে আমার মনে হল তাদের 
কথা যার! জাহাজের উপর জেগে পাহার1 দেয় পথ নিবিবত্ব 
রাখবার জন্যে, হৃদয় আমার কৃতজ্ঞতাঁয় ভরে উঠল, আমি 
কামন1 করলাম যাতে তাদের অস্তরে শাস্তি নেমে আসে, পায় 
স্থায়ী প্রতিষ্ঠী। তারপর মনে হল তাদের সকলের কথা যার 
একাস্ত আত্মবিশ্বাসী ভাবনাহীন নিশ্চেতনার ঘুমে নিমগ্ন 
তাদের ছঃখে দৈন্তের জন্য চিস্তিত হয়ে তাদের যে প্রস্থপ্ত হংখ 


৯৫ 10856152100. ০0102010185 0.70 
৯৬। 712521:5 200. 11691690008 0১,171. 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ৫৯ 


কষ্ট জাগরণের সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠবে সেজন্ে করুণার্দ্রচিত্তে 
আমি কামনা! করলাম যাতে তাদের হৃদয়ে তোমার শাস্তির 
একটুখানি অন্তত স্থান পায়, আধ্যাত্মিক জীবন যেন তাদের 
মধ্যে ফুটে ওঠে, আলো এসে দূর করে যেন অজ্ঞান অন্ধকার । 
তারপর আমার মনে হুল সেই জীবের কথ যারা এই 
বিপুল সাগরের বুকে বাস করে, কামনা করলাম যাতে 
তাদেরও উপর প্রসারিত হয় তোমার শাস্তি। আমার 
মনে হল তারপর তাদের কথ! যাদের ফেলে এসেছি বহু- 
দুরে, যাদের গ্রীতি এখনও আমাদের সঙ্গে সঙ্গে রয়েছে, 
গভীর ন্নেহভরে তাদের জন্যে প্রার্থনা করলাম যাতে তার। 
পায় তোমার সচেতন ও স্থায়ী শাস্তি, তোমার শাস্তির পরি- 
পূর্ণতা, তাদের গ্রহণসামর্ধ্যের অনুপাতে । তারপর আমার 
মনে হল তাদের কথ যাদের কাছে আমর! চলেছি, যারা বাল- 
স্থলভ কাজকণ্ম নিয়ে ব্যতিব্যস্ত, যার] অজ্ঞানের অহংকারের 
বশে, হীন স্বার্থের জন্য লড়াই করে চলে ; তাদের হয়ে, তীব্র- 
ভাবে বিপুল আম্পৃহা নিয়ে প্রার্থনা করলাম যাতে তারাও 
লাভ করে তোমার শাস্তির পরিপূর্ণ জ্যোতি । তারপর আরে 
আমি চিত্তা করলাম তাদের কথা যাদের আমি চিনি, যাদের 
আমি চিনিনা; যে অখণ্ড জীবনধার! পরিস্ফৃর্ত হয়ে চলেছে, 
যা-কিছু রূপের পরিবর্তন করেছে, যা রূপ গ্রহণ করেনি 
এখনে? এ সকলের কথা, আরো তাদের কথ যাদের আমি 
চিন্তায় আনতে পারিনি, আবার যা-কিছু আমার স্মৃতির মধ্যে 
জাগ্রত রয়েছে, আর যা-কিছু বিস্মৃত হয়েছি--এদের সকলের 


৬৯ প্ীমা-প্রসঙ্গ 


জন্যে গভীর সমাহিত চিত্তে, নীরব আরাধনায় তোমার 
শাস্তি আমি ভিক্ষা করলাম ।৮৯৭ 

শান্তি''"শাস্তি-''আর শাস্তি--এ এক “রহস্তময় প্রীতি- 
বাক্য” বারংবার সেহাদরের মত যাহ্মন্ত্রের মত পুনরাবৃত্ত হয়। 
হপকিন্স্‌ বলেন, “খণ্ড শাস্তি হল নগণ্য শাস্তি” এবং সেইজন্য 
অতীতের দান হিসাবে প্রাপ্ত পৃথিবীর অশুভ, অপবিত্রতা ও 
আন্তির যে বিরাট সমস্ত তা হৃদয়ঙগম ও সমাধান করতে পারে 
একমাত্র চিরস্থায়ী শাস্তি। *দিব্যদ্রষ্টী সহধন্ম” শ্রীমা৷ যে 
শাস্তির কামন1 করেন তা একদিন আসবেই এবং এই অনৈক্য 
ও বিশৃঙ্খলার শক্তির উপর প্রভাব বিস্তার করবেই। 

নেই “নীরব ও নিন্মল সব রাত্রি” চলতে লাগল, তখনও 
আনন্দান্ুভৃতিও স্থায়ীভাবে থাকল অটুট, এক নামহীন শক্তি 
হল তার প্রাণ এবং তাকে ঘিরে ধরল এক নীরব তেজ য। 
আবার তার প্রতিটি গতিকে যেন নব আলোয় উদ্দীপিত করে 
তুলল। নীরব ভ্ভতির মত, মৌন আরাধনার মত, শ্রীমার 
অভীগ্দ! উঠে চলে তার দিকে এবং শ্রীমার হৃদয় উদ্ভামিত 
করবার জন্য তার দিব্য প্রেমকে ডেকে আনেন । সত্যই তিনি 
যেন এক অস্গুপম যাছকর “যিনি সব জিনিস রূপান্তরিত করেন, 
কদর্ধ্য হতে তুলে ধরেন সৌন্দর্য্য, অন্ধকার হতে আলো, পন্ক 
হতে নিম্নল জল, অজ্ঞান থেকে জ্ঞান, অহংকার থেকে 
মৈত্রী ।”৯৮ এই যাছ্কর কর্ম্মার কাছে শ্্রীমা খুসী হয়েই 

৯৭| 77950152100. 10501501005 ০0, 71-73 

৯৮। 0185215 ৪156 10০01680100 0, 80 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৬৬ 


আনত হলেন এবং দিব্য রূপাত্তরের যত স্ৃক্্র যন্ত্র, তাদের 
সথ্ালন করতে শিক্ষা করলেন। আধুনিক বিজ্ঞানের 
অনুপমতার কোনে? তুলনাই হয় না এই “পরাবিষ্তাস্র সাথে 
য। শুধু হ'ল “তোমার সঙ্গে একীভূত হওয়া, তোমারই উপর 
নির্ভর রাখা, তোমার মধ্যে বাস করা, তুমিই হয়ে যাওয়া 
তখন আর অসম্ভব বলে কিছু থাকে না, কারণ সে-মানুষ 
তখন প্রকাশ করে তোমার সর্ববশক্তিমত্ত। 1৮৯৯ ভগবানের 
সঙ্গে এরূপ পূর্ণ একত্ব সহজসাধ্য মোটেই নয়। এ পথ 
দীর্ঘ-_স্ুদীর্ঘ । কিন্ত শ্রীমা লিখলেন “এই হল একটা জিনিস 
যা আমি আশ। করেছি ভারতে এসে আমার লাভ 
হবে ।১০০ 
ফরাসী ভারতের পণ্ডিচেরীই ছিল শ্রীমার গন্তব্য-স্থান এবং 
২৯শে মার্চ ১৯১৪ সালে ম'সিয় পল রিশারের সঙ্গে তিনি 
এখানে উপস্থিত হলেন । শ্রীম! তার জলযাত্রার সময়ে প্রতি- 
ক্ষণেই উপলব্ধি করলেন ঈশ্বরের “দিব্য হস্তের পরিচালন?” 
আর তিনি দেখলেন তার বিধান প্রকাশ হয়ে চলেছে 
সব্বত্রই১০১ এবং তার দিব্য-বিধানের সঙ্গে একাত্মত1৷ লাভ 
করতে ও তাকে বিনাশ্রমে ও যুগপতভাবে প্রকাশ করতে 
সচেষ্ট হলেন । এখানে এই পগ্ডিচেরীতে কি সম্ভাবন। নিহিত, 
কি এক বিরাট দিগন্ত তার সম্মুথে প্রসারিত ! তার অপ্রতিম 
৯৯। 1919619 2170 14160100009 19, 78 
১০০ | 70185615 2150 741০0100025 0. 85 
১০১। 70:80:59 2170 11০016900123 0. 87 


৬২ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


লামিধ্যের পূর্ণ চেতনার মধ্যে শ্রীমা তার অবিচল দৃষ্টি ও 
নিবিবচল বিশ্বাস নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে মুখ ফেরালেন । 


চৌদ্দ 

পণ্তিচেরীতে পৌছাঁনর কয়েকদিন পরেই শ্রীমা ১৯১৪ 
লালের ৩০শে মার্চ লিখলেন__ 

“শত শত জীব যদিও বা গাঢতম অজ্ঞানতার মাঝে নিম- 
জজিত হ'য়ে থাকে, তাতেও যায় আসে না৷ কিছুই। কাল 
বাকে আমর] দেখেছি তিনি পৃথিবীতেই বর্তমান ; তার উপ- 
স্থিতিই যথেষ্ট প্রমাণ যে এমন একদিন আসবেই যেদিন 
আধার আলোকে পধ্যবসিত হবে, যেদিন তারই দিব্যজগৎ 
সত্যসত্যই স্থাপিত হবে এই মরতে । 

হে প্রভু, তুমিই এই অভূতপূর্ববতার দিব্য অষ্টা, আমার 
হৃদয় আনন্দ ও কৃতজ্ঞতায় পরিপ্রুত হয়ে যায় যখনই চিন্ত। 
করি এ কথা, আর আমার আশ! হয়ে উঠে সীমাহীন 1৮১০২ 

এই যে “অভূতপূর্ব” “ধাকে আমরা গতকাল দেখেছি” 
তিনি শ্রীঅরবিন্দ। প্রায় পুরো ছুইটি বছরের অনাধারণ 
নিরবচ্ছিন্ন রাজনৈতিক জীবনের পর- আবার ধার মাঝে 
পুরে! একটি বছর আলিপুর জেলে অতিবাহিত হয়েছিল-_ 
শ্রীঅরবিন্দ ১৯১০ সালের ৪ঠ1 এপ্রিল পণ্ডিচেরীতে এসে 
পৌছলেন এবং যোগসাধনায় পূর্ণ আত্মনিয়োগ করলেন। 
এই চারটি বছরের মধ্যেই তিনি আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়ে- 

১৬২ 7195215 2050 1106010900105 0, 88-89 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৬৩ 


ছিলেন অধ্যাত্ম-সাধনার এক নৃতনতর পথ-_পূর্ণযোগের পথ । 
এ যোগ জড় ও আআর ছুটি বিভিন্ন অভিজ্ঞতাকে ও অতীতের 
জ্ঞান, ভক্তি ও কর্মের স্ুবর্ণ-পথকে মিলিয়ে সমন্বয়ের মধ্যে 
আন? এবং তাদের সুংবদ্ধ ও অতিক্রম করে যাওয়া । শ্রীমার 
মত ম'সিয় রিশারও এই নবমানবের “অভূতপূর্ব্বতা”কে_- 
এই জ্যোতির্ময় প্রমূর্ত সত্যকে দেখে বিহ্বল হয়েছিলেন এবং 
পরে এক জাপানী জনমগ্ডলীর সামনে ঘোষণ। করেছিলেন-__ 
«এক বৃহৎ জিনিস, এক মহৎ ঘটনা, মহাপুরুষদের- এশিয়ার 
দিব্যমানবের--আবির্ভাবকাল আগতপ্রায়। চিরজীবন আমি 
এদের অনুসন্ধানেই সার। পৃথিবী ঘুরে বেড়িয়েছি, কারণ 
আমার জীবনে এই কথাটি আমি চিরকাল অনুভব করে 
এসেছি যে, এ পৃথিবীর কোন এক স্থানে এর! আছেনই এবং 
এও অনুভব করেছি আমি যে, এরা কোথাও না থাকলে এ 
পৃথিবী মৃতকল্প হয়ে দ্রাড়াতো। কারণ এরাই হলেন এ 
বিশ্বের আলো, উত্তাপ ও প্রাণ। এই এশিয়ার বুকে দেখেছি 
আমি পুরুষোত্তমকে--যিনি হলেন দিশারী, আগামীকালের 
নেতা, তিনি ভারতীয়, তার নাম অরবিন্দ ঘোষ |” 

শ্রীমরবিন্দ ও শ্্রীমার এই যে সাক্ষাৎ তা হ'ল উভয়েরই 
এক নব ব্রত উদ্যাপন; আর, অন্ত এক অর্থে একে বলা যায় 
পূর্বনির্ধারিত আধ্যাত্মিক “ওডেনি”র নব পর্য্যায়। আত্মসিদ্ধির 
পর শ্রীঅরবিন্দ হাদয়ঙ্গম করেছিলেন__-যে কথা তিনি তার 
শিষ্য দিলীপকুমার রায়ের কাছে পরে প্রকাশ করেন-_-যে 
একক ব্যক্তিগত রূপাস্তরই সব নয়, সমগ্র মানবজাতিকে আত্ম- 


৬৪ ভ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


উপলব্ধির পথে পূর্ণতা লাভ করতেই হবে । কোন আধুনিক 
বিশ্বামিত্রও তার ওদ্বত্যপূর্ণ যৌগিক যাছুদণ্ডের সংযোগে 
প্রচেষ্টা করবেন ন? সম্পুর্ণ নূতন জগৎ স্থপ্টি করতে । বাস্তবিক 
শ্রীঅরবিন্দের অয্ন।ন আদর্শ ছিল বিপুল যোগপ্রয়াসের দ্বার। 
এখানে এখনই এক আত্ম-সমাহিত ও শক্তিশালী নূতন জগৎ, 
নৃতন স্বর্গ, নূতন মর্ত্য স্থপ্টি করা। কিন্তু এরূপ জগৎ এক 
মুহূর্তে কারও হুকুমে স্থষ্টি করা যায় না। এর পথ দীর্ঘ, 
প্রক্রিয়াও দুঃসাধ্য ; কিন্তু পথের শেষে আছে সেই নির্দিষ্ট 
লক্ষ্য; এবং অধ্যাত-জীবন-প্রত্যাশীর কাছে এই যথেষ্ট। 
শ্রীমাও তার নব্প্রাপ্ত শাস্তি ও অপার আনন্দের মধা দিয়ে 
অন্থভব করেছিলেন হৃদয়ের অস্তরতম প্রদেশে-_-“আমার 
অস্তরের গড়ারূপ মিথ্য! স্বপ্নের মত বিলীন হয়ে গেছে--এক 
নৃতন পর্য্যায়ের হয়েছে শুরু 1৮১০৩ শ্রীমা ছু*দিন পরেই 
লিখলেন আবার যে “আমার মনে হয় কোন সময়ে যা 
ছিল আমার কাছে এক পরিণাম, এখন ত1 হয়েছে এক 
প্রস্ভরতিমাত্র ।৮১০৪ দিন চলে যায়; দিন আবার আসে । আমার 
আরম্ভেই আমার শেষ ; আমার এই শেষেই আমার আরস্ত। 
অতীত তে! মৃত নয়, বরং নৃতনের সাজ পরেছে মে। তাই 
শ্রীমা৷ বলেছেন-_-“যে নৃতন ধার! আমাদের সামনে জেগে 
উঠেছে তা হ'ল সম্প্রসারণের, কিন্ত সংযমনের, নয় 1৮১০৫ কর্মের 
১০৩ | 7195 215 2180 11 ০0168010735 0. 89 


১০৪ | 7১175515 8150 1120159010185 ০. 90 
১০৫ [0185615 2180. 14201090019 0,899 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৬৫ 


প্রণালী পরিবন্তিত হয়, উপায়ও হয় কখনও বিচিত্র ধরণের, 
কিন্তু লক্ষ্য পুর্ব্ববৎ স্থির । মানবের দেবত্ব, প্রকৃতির রূপাস্তরই 
হ'ল মৌলিক উদ্দেশ্য এতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু বহি- 
জগতের পানে দৃষ্টি ফেরাবার পূর্বের্ব তাকে প্রথম পূর্ণ-নিটোল 
করে তুলতে হবে আস্তর শক্তিটি। সেই পরমেশ্বরের কাছে 
অথগ্ড ও পুর্ণ সমর্পনই হবে উপায়, যা প্রবেগ ও কর্মের, অস্তঃ- 
সার ও অবরোহণের সাথে সংযোগ এনে দেবে । এভাবেই 
শেষে পুর্ণ আত্মলমর্পণের মধ্যে ডুবে যাওয়া সব বাধা 
ভেঙ্গে মিলিয়ে যাওয়া, অন্তিম প্রতিবন্ধক বিদীর্ণ করে 
ভাদিয়ে দেওয়া । তারপর, শুধু এক অপার, নিরবচ্ছিন্ন 
পরমানন্দ £ 

“মনে হয় আমার নেই কোন সীমা, শরীরের বোধ পর্স্ত 
আর নেই ; নেই কোন সংবেদন, নেই কোন অনুভূতি কোন 
চিন্তা-*”আছে শুধু নির্মল বিশুদ্ধ প্রশান্ত বিশালতা, আলোকে 
ও প্রেমে অনুস্থ্যত, অনির্ব্বচনীয় আনন্দে পরিপুর্ণ-'এ ছাড়া 
আমি যেন আর কিছুই নই.** 1৮১০৬ 

এ যেন নিয়েনার সেন্ট ক্যাথরিন-এর এক এক্যবদ্ধ রাষ্ট্রের 
কল্পনার প্রতিচ্ছবি £ 

“দেহ ফেলে হারিয়ে তার সব অনুভূতি, পশ্যাস্তি চক্ষু 
দেখেও দেখে না, শৃস্তি কর্ণ শুনেও শোনে না, জিহবা উচ্চারণ 
করে না বাকৃ।” যেমন মোম অগ্নিতে, বরফ স্রোতের মাঝে, 
সুগন্ধ সমীরণের. মাঝে বিলীন হয়ে যায়, তেমনি ভেদভাবও 


১০৬। 0:2561:8 8150 71908696019 19, 95 
ভ্ীমা-€ 


৬৬ শ্ামা-প্রগঙগ 


নাস্তিহয়ে যায় এবং কেবল থেকে যায় সেখানে অপরিসীম 
আনন্দ। রূপান্তর তখন পুর্ণ চরম ঃ 

“ভগবান, তুমি আমার জীবন গ্রহণ করেছ, তোমার 
নিজের করে নিয়েছ; তুমি আমার ইচ্ছাকে গ্রহণ করেছ, 
তোমার ইচ্ছার সাথে মিলিয়ে ধরেছ; তুমি আমার প্রেমকে 
গ্রহণ করেছ, তোমার প্রেমের সাথে এক করে নিয়েছ; তুমি 
আমার চিস্তাকে গ্রহণ করেছ, তার পরিবর্তে স্থাপন করেছ 
পুর্ণ চেতন1 1৮১০৭ 

এই পুর্ণ নিঃসন্ধিধ্ীতার শক্তির মাঝে এই প্রশান্ত নির্মশল- 
তার সৌন্দর্ষের মাঝে শ্রীমা নৃতনভাবে নিজেকে উৎসর্গ 
করলেন পৃথিবীর বিপুল যন্ত্রণাকে উপশম করার ব্রত গ্রহণে 
ও তাকে তার পরম দেবত্বে তৃলে ধরতে; তাই শ্রী 
প্রার্থনা জানালেন ২ “হে প্রত, তোমার উপর আমার আস্থা 
রয়েছে, তুমিই জান তোমার যন্ত্রকে কিরূপে পরিচালিত 
করতে হয়, পরিপুষ্ট করতে হয়।”৯০৮ 


পনর 


১৯১৪ সালে মে মাসের গোড়ার দিকে শ্রীমার স্বাস্থ্য ভগ্ন 
হল «এবং কয়েকদিন ধরে শরীরে কোন শক্তি ছিল না”। ১০৯ 
এ যেন ইঙ্গিতে বলছে তার কাছে যে ণ্ামার আধ্যাত্মিক 
১০৭। 085615 2120 1060109100755 0,195 
১৪০৮। 09:852105 210৫ 01909010185 2, 102 
১০৯ 5916 8100 21505090008 79, 105 


ভ্রীমা-প্রসঙ্গ ৬৭ 


বল হাস পেয়েছে, সর্ধবশক্তিময় একত্বের দৃষ্টি আমার মলিন 
হয়েছে...৮ ১৯০ মায়ের আলাপ বইটিতে সবিস্তারিতভাবে 
এই বিষয়টি আলোচিত হয়েছে-_ 

“কোথায় যোগের আরম্ভ, আর কোথায় তার শেষ? 
তোমার সমগ্র জীবনটাই কি যোগ নয়? ব্যাধির সম্ভতাবন! 
সর্বদাই রয়েছে তোমার দেহের মধ্যে এবং তোমার চতুর্দিকে । 
তোমার শরীরের ভিত্তরে তুমি সদাই নানা রোগের বীজাণু 
বয়ে বেড়াচ্ছ, তোমার চারিপাশে তার দলে দলে সব সময়ে 
স্বুরে বেড়াচ্ছে। তা হলে এমন কেন হয় যে বহু বৎসর ধরে 
তুমি বেশ আছ আর হঠাৎ একটা রোগ তোমাকে পেড়ে 
ফেললে? তুমি বলবে যে তার কারণ প্রাণশক্তির হ্র্্বলতা। 
কিন্তু এ ছুর্বলতাই বা! হঠাৎ এল কোথ। থেকে ? এল তোমার 
সত্তার মধ্যের কোন অলমতা অসঙ্গতির থেকে, এল তুমি 
দিব্যশক্তিচয়কে গ্রহণ করতে পার নাই বলে। যখন তুমি এই 
(শক্তির ও দীপ্তির আশ্রয় হ'তে নিজেকে বঞ্চিত কর, তখন 
তোমার প্রাণশক্তি ক্ষীণ হয়, ডাক্তারী ভাষায় রোগের অনুকূল 
ক্ষেত্র তৈরী হয়, সেই সুযোগ পেয়ে বিরুদ্ধ শক্তিগুলে। এসে 
হান! দেয়। সংশয়, ভরসার অভাব, বিশ্বাসের অভাব, কেবল 
নিজের অহমিকার দিকেই তাকিয়ে থাকা, এই সবই তোমাকে 
বঞ্চিত করে ভাগবত শক্তি ও দীপ্তির আশ্রয়ের থেকে, আর 
শত্রুর আক্রমণকে সহজ করে দেয়।*১১১ 


১১০1 7185615৪1১৫ 7+160168010723 0,105 
১১১। ড/০0:05 0£ 636 1100561 00, 117-118 


৬৮ : প্রমা-প্রসঙ্গ 


শ্রীমা হলেন অক্ষয়, অজর অসীম-স্বরূপিণী মা, যিনি 
সাধারণ মানসিক গঠনভঙ্গির দৃষ্টিতে সুখ ও ছুঃখের অতীত, 
সুস্থত] ও অসুস্থতার অতীত, বিশ্বাস ও ছ্বিধার অতীত; তবুও 
তিনি মানবমাতার পরাকাণ্ঠা, “ছঃখের মানুষী বিগ্রহের” সঙ্গে 
অবিচ্ছিন্ন, যাই সাক্ষাৎ করেন তারই 'অংশ তিনি, সকল 
আনন্দ ও সকল আন্তির সমভাগী ;তাই তার ধ্যান ও প্রার্থনার 
স্থর নানা ব্যঞ্জনায় বন্কৃত, কখনে। পুর্ণপরিণতির প্রশস্ভি-স্ভোত্রে 
গাথা, কখনও আবার অজ্ঞানাচ্ছন্ন মানবের ক্ষয়িু বিফলতা। 
ও ব্যর্থ প্রয়াসে অনুচ্চকণ্ঠে ছন্দিত বর্ণিত । 

১৯১৪ সালের ১২ই মে তারিখ দিয়ে গ্রীমা লিপি- 
বন্ধ করলেন আর এক অভিনব অভিজ্ঞতা-_ 

“আজ সকালে আমার অভিজ্ঞত1 হল : আমি দ্রুত চলে 
গেলাম গভীর হুতে গভীরে, তারপর "যেমন সচরাচর আমার 
হয়ে থাকে, তোমার চেতনার সঙ্গে আমার চেতন! সংযুক্ত হয়ে 
গেল, তোমারই মধ্যে রয়ে গেলাম, অর্থাৎ এক তুমিই রয়ে 
গেলে-_কিস্তু তোমার ইচ্ছাবল আমার চেতনাকে বাহিরের 
দিকে টেনে আনলে, যে কর্ম উদ্যাপন করতে হবে তার 
দিকে, আর তুমি আমায় বললে : “যে যস্ত্রের আমার প্রয়োজন 
তোমাকে তাই হতে হবে ।; একি তবে সেই আস্ত ত্যাগ 
নয় তোমার সঙ্গে একত্বের ত্যাগ**১১২ 

বুদ্ধ যখন বোধিসত্ব হলেন তখন কি হ্ব-ইচ্ছায় নির্বাণকে 
ত্যাগ করেননি যা”তে তিনি এই সন্তপ্তমর্তে আবার প্রত্যাবর্তন 

১১২। 0:85515 5৫ 076410900108 0. 108 


 শ্রীমা-প্রসঙ্গ [৬৯ 


করতে পারেন ও আপন মানুষজনের আত্মাকে পুনরুদ্ধার 
করতে পারেন। অভয়ংকর বুদ্ধের মত শ্রীমা-ও তাঁর চরম ও 
পরম ত্যাগের দ্বারা দেখালেন “সেই স্থষ্ট ও অপূর্ণ আত্মার 
দিকে স্জনক্ষম পূর্ণ আত্মার সমগ্রগতি, সেই স্থানমুক্ত ভগ- 
বানের স্থান ও কালের মাঝে স্বেচ্ছায় আত্ম-প্রকাশকে 1৮১১৩ 
ব্বনিব্বাচিত আত্মসম্পুটনের দ্বার “তোমার একত্ব আর 
প্রকটিত জগতের মাঝখানে যে অস্তর্ধ্বস্রী লোক৮১১৪ সেখানে 
অধিষ্ঠিত হয়ে উভয়ের মধ্যস্থ বাবধানটি শ্রীমা আরে মুছে 
দেবেন, ঈশ্বরের আনস্ত্যকে বস্তজগতে টেনে আনবেন এবং 
তাকে তুলে ধরবেন তার সক্রিয় তেজরশ্মিকে গ্রহণ করবার 
জন্যে । প্রাধিত সন্ন্যান সহজেই অনুমোদন কর] হয়েছিল 
কেনন! শ্রীমা ঈশ্বরের এই প্রেমদীপ্ত ভরসা পেয়েছিলেন ঃ 
«একদিন তৃমি হবে আমার শিরোদেশ, এখন তুমি দৃষ্টি দাও 

পৃথিবীর দিকে )”৯৯ 

এখন আর মানসিক বিক্ষোভ বা সংশয়ের কোন স্থান 
নেই চরম লক্ষ্য বা তাতে পৌছানোর উপায় নির্ধারণে, এ 
সম্বন্ধে কোন দ্যর্থই নেই আর। এইভাবে শ্রীমা ১৬ই মে, 
১৯১৪ সালে লিখলেন-_ 

“এখন আমি স্পষ্টই বুঝতে পারি যে তোমার সঙ 
একাত্মতা দূরের লক্ষ্য নয় যার দিকে ক্রমে এগিয়ে যেতে 
১১৩। 01506101011] “0187 2170 032 5006115900181 0,143 


১১৪ | 0185613৪130. 11601620018 0,110 
১১৫। 1995618 8150. 16010900288 0. 113 


০ শ্রীমা-প্রস্ 


হবে-_ অস্ততঃ বর্তমানের এই ব্যক্তিসতাটির পক্ষে নয় কারণ, 
বহুদিন হতেই সে সিদ্ধি তার লাভ হয়েছে । তাই ত তুমি যেন 
সর্বদা আমায় বলছ £ “এই একাত্মতার ভাবাবেশে বিভোর 
হয়ে যেও না; পৃথিবীতে যে ব্রতের ভার তোমার উপর 
দিয়েছি তাই তুমি পুর্ণ কর।”..সকলের কাছে বুঝিয়ে 
বলতে হবে আগে দরকার একত্ব, তারপর কর্্ম। কিন্তু 
যাদের একাত্মতা অধিগত হয়েছে তাদের দেখতে হবে 
জীবনের প্রতি মুহূর্ত যেন হয় তাদের তোমার ইচ্ছার অখণ্ড 
প্রকাশ ।৮১১৬ 

একমাম ন! যেতেই শ্রীমা আবার লিখলেন... 

“প্রথমে জয় করতে হবে জ্ঞান অর্থাৎ শিক্ষা করতে হবে 
কি রকমে তোমাকে জান! যায়, তোমার সঙ্গে এক হওয়া 
যায়। এ উদ্বেস্টা-পিদ্ধির জন্তে সব-রকম উপায়ই উৎকৃষ্ট, 
সবকেই কাজে লাগান যেতে পারে ।.*.তোমাকে জানা চাই, 
প্রথমে ও সকলের আগে- সত্য কথা। কিন্তু তোমাকে 
জানবার পর বাকী রয়ে গেল তবু তোমার প্রকাশের সব 
কাজটাই--আর তখনই দেখ! দেয় এই প্রকাশের গুণ, শি, 
জটিলতা, পরিপুর্ণতার কথা সব।”১১৭ 

মানুষকে দিব্যে পরিণত করা ব্যবহারিক জীবনকে 
রূপাস্তরিত করা, এ হ'ল সত্যই এক “বিরাট” কর্মসুচী । এর 
কল্পনাই শ্রীমার সমগ্র সত্তাকে পুলকিত করে তোলে, আত্ম- 

১১৬ চ0:2015 8150 70600200109 0০, 112--1019 

১১৭। [85615 250. 116216901018 00 193-134 


শ্ীমা-প্রসঙ্ষ ৭১ 
সমর্পণের প্রতিষ্ঠ। যেন নৃতন সুরে উচ্চারিত হয়ে অনির্ব্বাণের 
অনুদাত্ব স্বরে স্পন্দিত হয়; 

“একট] সত্যকার স্থির কাজই আমাদের করতে হবে-- 
স্ষ্টি করতে হবে নবতর কর্ম, নবতর জীবন-ধারা, যাতে এই যে 
মহাশক্তি পৃথিবীতে এ যাবৎ অপরিজ্ঞাত রয়েছে তার প্রকাশ 
হতে পারে পূর্ণ পরিপূর্ণতা! নিয়ে । এই নবজদ্ম দানের মহা- 
প্রয়ামে আমি নিজেকে উৎসর্গ করেছি, হে ভগবান.."দিয়েছ 
তোমার প্রতিশ্রুতি; এ সব জগতে তাদের তুমি পাঠিয়েছ 
যারা-_বস্তব হোক আর জীব হোক--তোমার প্রতিশ্রুতিকে 
ফলবান করে তুলতে পারে 1...এ কাজ যখন করতে হবে, 
তখন তা করা হবেই ।”১১৮ 


ষোল 


ব্যক্তি, বিশ্ব, বিশ্বাতীত 3 শ্রীমা কখনও এর এটি, কখনও 
ওটি, আবার কখনও অন্টি ; তাই শ্্রীমার ধ্যান ও প্রার্থনাও 
কখনও এ স্তর, আবার কখনও অন্ত স্তর থেকে প্রবাহিত হয়। 
আর, যে করেই হোক, মা যেমন সর্বদা যুগপৎ এই ত্রিপদে 
অধিচিত, তেমনি তার অস্তরাত্মার এই শ্বাস-প্রশ্বাসে তার 
অস্তরস্থ চিৎশক্তিতে রয়েছে এক বুত্বের সংযুক্ত সমাহার, এক 
আশ্চর্য একত্র। যখন. তিনি ধ্যান করেন, সমস্ত মানবের 
প্রতিনিধি হয়েই ধ্যান করেন; যখন তিনি প্রার্থনা করেন 
তখন মানবজাতির কল্যাপার্থে ই করেন, যাত্বে মানবের উদ্ধার 

১১৮। চিত৩5 800 00201590025 0, 135. 


৭২ . শ্রীমা-গ্রস 


সাধন হয় তারই জগ্তে প্রার্থনা করেন তিনি। তার স্বপ্ন ও 
অলৌকিক দর্শন, তার সজাগ চিন্তা ও সঙ্কল্প, এ সবই 
প্রয়োজনের তাগিদ, আস্পৃহ! ও ক্ষুধিত মানবের আশ! 
আকাজ্ায় পরিপুর্ণ- সে ক্ষুধা হল পরিপূর্ণ স্থিতির, পুর্ণ 
জ্ঞানের ও পরম আনন্দের তরে । ৩১শে মে, ১৯১৪ সালে 
শ্রীমা তার রূপাস্তরের এক অপুর্ব অভিজ্ঞত। লিপিবদ্ধ 
করলেন, তা হল-_ 

“প্রশাস্ত সন্ধ্যার আত্মসমাহিতির মধ্যে স্র্ধ্য যখন ডুবে 
গেল, আমার সমগ্র আধার তোমার কাছে প্রণত হল, ভগবান, 
মৌন পুজ। নিয়ে, পূর্ণ সমর্পণ নিয়ে । আমি হয়ে গেলাম সমস্ত 
পৃথিবী- সমস্ত পৃথিবী তোমার কাছে প্রণত হল, তোমার 
জ্যোতির আশীর্বাদ, তোমার প্রেমের পরমানন্দ ভিক্ষা করে। 
পৃথিবী নতজানু হয়ে মিনতি জানায় তোমার কাছে-_রাত্রির 
নীরবতায় অস্তন্ত্থ হয়ে যায়, ধৈর্য্য ধরে, সেই সঙ্গেই উদগ্রীব 
হয়ে অপেক্ষা করে তার পরম কাম্য জ্যোতির 'আবির্ভাবের 
জন্ত। জগতের কর্মে অবতীর্ণ তোমার প্রেম হয়ে ওঠার 
মাধূর্য্য আছে--অন্নরূপ মাধূর্য্ই আছে এই অসীম প্রেমের 
দিকে উদ্ধে উঠে চলে যে অসীম আস্পৃহ! তা হয়ে ওঠায়। 
আর এই রকমে নিজেকে পরিবর্তন করে ধরা,পরপর ক প্রায় 
যুগপৎ হয়ে ওঠা, যে গ্রহণ করে আর যে দান করে, যে 
রূপাস্তরিত হয় আর যে রূপান্তরিত করে, একদিকে বেদনাক্রিষ্ট 
অন্ধকার, অন্তদিকে সর্ধ্বশক্তিময় দিব্যজ্যোতি, ছুয়েরই সঙ্গে 
একাত্মতা! এবং এই যুগ্বা একাত্মতার মধ্যে তোমার সর্ধ্বোত্তম 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৭৩ 


একত্বের রহস্য আবিষ্কার--এ কি তোমারি পরা-ইচ্ছাকে 
একভাবে প্রকাশ করা পুর্ণ করা নয় ?১১৯ 
এইভাবে দেখলে শ্রীম। হলেন ক্ষুধার্ত তমসাচ্ছন্ন বস্তজগৎ 
ও শুদ্ধ আনন্দময় জ্যোতিন্ময় পরম সব্বস্তর মধ্যে একমাত্র 
সুত্র, সংযোজক ও সেতু । পৃথিবীর সঙ্গে একাত্ম হয়ে শ্রীম! 
যদি বিনম্র নতজানু হয়ে করজোড়ে প্রার্থনা জানান, তখন 
তিনি বর্তমানের শাস্তি এবং ভবিষ্যতের মুক্তির জন্ কিছু কম 
অবতরণ করান না সেই অমৃুতোদ্তভাসে বরদানে আশীর্বাচনে-_ 
এখনও যাই হোক না তার! 
আমাদের কাছে দিনের আলোর নির্বরিণী, 
এখন তারা আমাদের দৃষ্টির কাছে নয়নাভিরাম ; 
তারাই আমাদের উদ্ধে ধরে তুলে, পালন করে, 
সমর্থ আমাদের 
কোলাহল-মুখর জীবনের যত বৎসরকে নীরব শাশ্বত 
সত্তার কয়েকটি ক্ষণে ধরে দিতে, 
সেই জাগ্রত সত্য সব 
যাদের নেই আর বিনাশ । 
এইভাবে ৯ই জুন, ১৯১৪ সালে শ্রীম। প্রতিনিধি হয়ে 
ঘে আশীষ পেলেন তা তিনি পৃথিবীকে জানালেন এই 
ভাষায় 
“প্রেমের এক বিপুল তরঙ্গ সকল জিনিসের উপর নেমে 
এসেছে, সকলের মধ্যে প্রবেশ করেছে। 
১১৯। চ185915 250 70601620019 ০. 127 
চি 


৭৪ ্মা-প্রসঙ্গ 


শান্তি, শাস্তি হোক সকল পূৃথিবীর--হোক বিজয় 
পরিপূর্ণত1 মহাবিন্ময় | 

ছে আমার সন্তান সব, বেদনা-কাতর, জ্ঞানহীন তোমরা! 
আর তুমিও বিদ্রোহী প্রচণ্ড প্রকৃতি, খোল তোমর। তোমাদের 
হাদয়, শাস্ত কর তোমাদের বেগ, এই দেখ প্রেম তার মধুর 
সর্বশক্তি নিয়ে এসেছে, এই দেখ জ্যোতি তার বিশুদ্ধ ছটা 
নিয়ে তোমাদের অন্তরে প্রবেশ করেছে । এই যে মানবীয় 
এই যে পাধিব মুহুর্ত, সকলের চেয়ে শুভ মুহুর্ত । প্রত্যেকে ই, 
সকলেই জানুক, উপভোগ করুক, পূর্ণ পরিপূর্ণতার অধিকারী 
হয়েছে তার! । 

আর্ত হৃদয় কাদের, কাদের ললাট চিস্তাক্রিষ্ট! হে মৃঢ় 
অন্ধতা, হে অজ্ঞান অপচিকীর্যা, তোমাদের যন্ত্রণা শাস্ত হোক, 
মুছে যাক। 

এই যে নববাণী এসেছে তাঁর ভাস্বর মহিমায়: “আমি 
এখানে ॥; ৮ ১২০ 

বাস্তবিকই শ্রীমা হলেন দিব্যদৃষ্টিসম্পয়। সহকদ্মিনী ও 
মহাশক্তিসম্পন্না যোগন্বত্র-আবার সর্বদা তিনি শ্রীমা, 
একাস্ত মা । 

শুধু এই নয়, এর পর আরও কিছু; কারণ যোগসুত্র ও 
সহকন্মিনীই হলেন স্থষ্টিকত্রী এবং কেবল শ্রীমা-ই নন, সামান্য 
তুচ্ছ মানুষটিও পর্য্যস্ত মূলত এই তিন। শ্্রীমা দেখিয়েছেন 
যে “হতে হবে দর্পণের মত, সমানে প্রাতিফলন করবে, সমানে 
১২০। 71956519 21360 11501500158 00, 1931.132 


শ্রীমা-প্রসঙ্ক ৭৫ 
থাকবে নির্মল, দৃষ্টি রাখবে যুগপৎ বাহিরে ও ভিতরে, এক- 
দিকে প্রকাশের পরিণতি আর একদিকে প্রকাশের উৎস 
উভয়ের উপর, দেখবে যাতে কার্য সব তাদের কারণ ভাগবত 
এষণার সম্মুখে স্থাপিত হয়। মানুষের কর্তব্য হল এই রকম 
হওয়া...হেটি ভাব মিলিয়ে ধরতে হবে, একদিকে নিক্ষিয়ভাবে 
গ্রহণ করে যাওয়া, আর একদিকে সক্রিয়ভাবে সংসিদ্ধ করে 
চলা--ঠিক এইটি হল সবচেয়ে কঠিন কাজ । ভগবান, আর 
এইটিই তুমি চাও আমাদের কাছ থেকে । তবে তুমি যখন 
চেয়েছ তখন নিঃসন্দেহে সিদ্ধির উপায়ও তুমি আমাদের এনে 
দেবে ।”১২১ অবশেষে যখন আমরা এই অবসাদকারী অন্ধ, 
অন্নুপযুক্ততা থেকে উঠে আসতে পারব তখন দাস না থেকেও 
উদ্ধম হবে আমাদের, অহং-ব্যস্টির কারাঘরে আটক না! হয়ে 
পাব সার্থক ব্যক্তিত্ব ।১২২ তখন ক্রমশঃ আমর! ছাড়িয়ে উঠব 
ছু্ধর্য অহস্তার পাধিব শত প্রমাদ, «বিশ্বব্যাপী যে প্রমাদ সহস্র 
সহত্র দৃষ্টাত্তের মধ্যে পুনরাবৃত্ত হয়ে চলেছে ।”১২৩ এইভাবে 
যখন ব্যক্তিগত সত্ব! নিজেকে বিস্তৃত, কলঙ্ক হ'তে মালিম্থ মুক্ত, 
করে এবং ঈশ্বরের সাথে মিলিত হুবার প্রয়াস করে তখনই 
মেই সর্ববশক্জিময়ের অবরোহণ ও আমাদের প্রাকৃত সত্তার 
রূপান্তর এবং নবশক্তির ও নবরাজ্যের বিপুল সিদ্ধির শুভক্ষণ 
দেখা দেবে; এই বিপুল সিদ্ধি স্বপ্নমাত্র নয়, ত1 আসবে, 

১২১। 85615 ৪0৫ 00691090929 7 140 

১২২। চ12561:5 8120 21160169.00785 7,145 

১২৩। 70185615 2105 11601650015 1. 149 


৭৬ : শরীমা-প্রসঙ্গ 


অবধারিত আসবে । ভক্ত ভগবান প্রতিজ্ঞাব্ধ এই বিরাট 
বূপাস্তর কর্মের সংসাধনে । ভগবান যখন ভক্তকে আশ্বাস 
দিয়েছেন এই বলে, “যা হওয়া উচিত তা হবেই, যেমন 
প্রয়োজন তেমন যন্ত্রও তৈরী হবে, তুমি চেষ্টা করে যাও দৃঢ়- 
প্রত্যয়ের শাস্তির উপর দাড়িয়ে ।”১২৪ তখন ভক্তও দিয়েছে 
তাঁর সম্মিত উত্তর; “মামাকে আর দয়া দেখিও না, তোমার 
সর্বশক্তি নিয়ে পূর্ণভাবে কাজ কর। তুমি যে আমার মধ্যে 
অখণ্ড রূপাস্তরের আকাকজ্ষ। স্থাপন করেছ।”১২৫ 


সতের 


১৯১৪ সালের ২১শে জুলাই-_শ্রীমা এক আনন্দপূর্ণ 
একত্বতার অভিজ্ঞতা পান, যে অভিজ্ঞতা কবি ওয়ার্ডস্ওয়ার্থের 
*“টিনটান্ন এযাবি”র থেকে বিশেষ পৃথক নয় £ 

সেই শান্ত কল্যাণী মানস বিহার, 

যেখানে""'এই মুন্ময় দেহের নিঃশ্বাস, 

আমাদের এই নরশোণিতের গতি পর্ধ্যস্ত 

প্রায় নিস্তব্ধ, ঘুমস্ত আমরা 

দেহীরূপে, অথচ হয়ে উঠি জাগ্রত আত্ম! । 
কিংবা! কৰি দাস্তের “পারাডিসো”-_ 

“যেমন হঠাৎ আলোর ঝলকানিতে দর্শনেক্দ্িয়কে চুরমার 
করে ভেঙ্গে দেয় যাতে স্পষ্ট জিনিসকেও চোখ দিয়ে দেখার 

১২৪। 10085 215 2100 7105016900175 7, 151 

১২৫। 70850152150 01501056101558 0. 115 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৭ 


ক্ষমতা হরণ করে; তেমনি আমার চারিপাশে এক জীবস্ত 
জ্যোতি যেন দেখা দিল, আমাকে ফেলে দিল স প্রদীপ্তির 
বন্ধনজালে, আর কিছুই আমি দেখতে পেলাম না 
তারপর ।”৯২৬ 
“সীমাহীন একত্বের জ্যোতিতে বিহবল হয়ে 
আমি অনুভব করলাম আমার সত্তার উপর পড়েছে 
যেন একটি নির্বাক মুহুর্তের অলসভার-__ 
অস্তগত শত শতাব্দীর যে ভার পড়েছিল 
'আর্গো'র অপরিচিত সমুদ্রে পারাপারের অভিযানে 
তার চেয়েও ভারী ।৮১২৭ 
শ্রীমার আনন্দোল্লাসের প্রোজ্জল অসীমত্ব, যদিও তার 
স্বরূপ অনির্ববাচ্য, এই যথাযোগ্য প্রশান্তি ও স্বচ্ছতায় 
খানিকট। প্রতিফলিত-_ 

“শরীর ছিল না, কোন রকম শারীর বোধও ছিল না_ 
ছিল একট1 আলোর স্ত্ত, যেখানে সাধারণতঃ দেহমূল সেখান 
থেকে উদ্ধে উঠে গিয়েছে যেখানে মস্তক থাকে সেই অবধি, 
এখানে তা হয়েছে যেন আলোর একখান। থালা, চাদের মত। 
তারপর সেখান থেকে ত্তস্তটি আরো উঠে গিয়েছে, মাথা 
থেকে বহুদূরে, শেষে ফুটে উঠেছে প্রকাণ্ড এক প্রোজ্জল নান! 
বর্ণময় হূর্য্যমণ্ডল হয়ে-_এই সুর্য থেকে সোনালী আলো 
বর্ষণধারায় বরে পড়ছে, সার! পৃথিবী ছেয়ে ফেলছে। 

১২৬ | 30015 ছে 11080918000 5 10119 7. ড1০050960 
১২৭ । 990 00], 11817515605 95 ৫, 10, :5600026, 


৮” শ্ীমা-প্রসঙ্গ 


তারপর আলোকন্তস্তটি নীচের দিকে আবার ফিরে এল, 
জীবস্ত আলোর একটা ভিম্বাকার ঘের হয়ে। প্রথমে মস্তকে, 
তারপর ক্রমে ক, হৃদয়, নাভি, মেরুদণ্ডমূল এবং আরো 
নীচে এই রকমে ধাপে ধাপে প্রত্যেক চক্রটিকে জাগিয়ে 
তুললে, সক্রিয় করলে, প্রত্যেকের নিজের ধারায়, আপন 
স্পন্দন বৈশিষ্ট্যে। জানতে পৌছে উর্ধমুখী আর অধোমুখী 
ধারা ছুটি এক হল। এই রকম একট নিরস্তর প্রবাহের মধ্যে 
আর কোন ছেদ রইল না, সমস্ত আধারকে ছেয়ে রাখল বিপুল 
এক আলোর ঘের। 

ধীরে ধীরে তারপর চেতন। আবার নেমে এল ধাপে ধাপে, 
প্রত্যেক চক্রে থেমে থেমে যে পধ্যস্ত দেহ-চেতন! ফিরে না 
এল। যতদূর মনে হয়, চেতন! দেহে ফিরে এল যেখানে তা 
হল নবম ধাপ । তখনও কিন্তু বাহাশরীর বা? অচল 
আড়ষ্ট ।”১২৮ 

সেণ্টজন্‌ অব দি ক্রুশ তার নিজের আত্মোপলন্ধির বর্ণন। 
করতে গিয়ে বললেন “তারপর আমি সবকিছু ভূলে গেলাম... 
সব গেল থেমে এবং আমার অস্তিত্বও লোপ পেল”। কিন্ত 
শ্রীমার উপলন্ধি আমাদের ম্মরণ করিয়ে দেয় শ্রীঅরবিন্দের 
স্ট্রান্স্” (সমাধি ), "্ট্রান্জ্‌ অব. ওয়েটিং” (প্রতীক্ষার সমাধি) 
ও “ডিসেপ্ট” (অবতরণ ) কবিতাগুলি--এগুলি সেই গুহ 
সাধনাবস্থার লিপিচিত্র যাতে 'জ্যোতিরুতভান ও ঈশ্বরান্থুভব 
ওতপ্রোত.। অভিজ্ঞতা বলতে যা বুঝায় ছা! বদি বুদ্ধিগত 
১২৮।-78588 2:80. 21601690905 2159-161 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ৭8 


ভাষার সাহায্যে বলা যায়, তা হলে শ্রীমার অভিজ্ঞতাকে 
অভিষিক্ত করা যায় এই বলে যে তার অভিজ্ঞতা হল আরোহণ 
ও অবরোহণের দ্বৈতগতি, ছুটি যেন একটি অখণ্ড স্প্তিক্ষম 
শক্তি ও জ্যোতির মিলন । 

শ্্রীমা যে আত্মায় নির্ভর করে চলতেন শ্রমে ও বিশ্রামে, 
তার থেকে সংগ্রহ করতেন শক্তি সে বিষয়ে যেমন কোন 
সন্দেহ নেই, তেমনি কোন কারণে তিনি তার জীবন ও 
আদর্শের কার্ধ্যকরী দিক একটুও অবহেলা করেননি । ম'সিয় 
রিশারের সঙ্গে শ্রীমা শ্রীঅরবিন্দের হাতে হাত মিলিয়েছিলেন 
এবং তাদের যুগ্ন সম্পাদকত্বে ইংরাজীতে «আর্ষ্য” ও ফরাসীতে 
“রেডুযু ছ্য গ্রাদ স্যাতেজ” নামক ছটি পত্রিক। যুগপৎ প্রকাশ 
করতে উদ্ভত হলেন। এ প্রচেষ্টার দ্বিবিধ লক্ষ্য “আর্যয"র 
প্রথম সংখ্যার মলাটে এই রকমে বর্ণনা কর! থাক ল-_ 
*€ ১) জীবনের প্রধানতম সমস্যার ধারাবাহিক অনুধাবন ; 
€২) প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের সনাতন মানবধর্মের বিভিন্ন 
এঁতিহাকে সৌধম্যে পরিণত করে জ্ঞানের বিরাট এক সমন্বয় 
স্থাপন করা । এর রীতি হবে বাস্তববাদের, যুক্তিসঙ্গত হয়ে 
আবার বিশ্বাতীত, এমন বাস্তববাদ যাতে বুদ্ধিগত ও বিজ্ঞান- 
সম্মত শৃঙ্খলার সাথে বোধিগত অভিজ্ঞত। এসে মিশবে ।” 

যদিও ফরাসী পত্রিকাটির নামই খানিকট। আত্মপরিচায়ক, 
কিন্তু “আর্ধা” নামটি প্রথমে বিভ্রান্তিকর হলেও মন্ত্রের ধ্বনি 
ও শক্তি বহন করে। জ্রীঘরবিন্দ পরে এই নামটি সম্বন্ধে 
ব্যাখ্যা! করে বলেন, “মার্ধ্য বলতে বুঝায় এক প্রয়াস বা! উত্থান 


৮৪ শ্রীমা-প্রপঙ্গ 


এবং বিজয়। আর সে-ই হল আধ্য যে অন্তরে ও বাহিরে 
যা-ই মানবোন্নতির প্রতিবন্ধক তারই বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে ও 
তাঁকে পরাস্ত করে। তাঁর প্রকৃতির প্রথম আইন হুল আত্মজয় 
**আর আত্মশুদ্ধি হ'ল আত্মজয়ের প্রধান লক্ষ্য । তাই য' 
সে জয় করে তাকে ধ্বংস করে না, বরং উন্নত ও পরিপূর্ণ করে 
তোলে। আর্য সর্বদাই কম্মী ও যোদ্ধা-''সর্্বদাই অন্তরে 
ও বিশ্বে স্বারাজ্যের আগমনীর জন্তে যুদ্ধে রত1”১২৯ মানুষ 
অকর্ণ্য ও তুচ্ছ জীব নয়, অন্তরের সামর্ধ্যে তো নয়ই, 
বাস্তবিকই সে ত্রি-ভুবনের উত্তরাধিকারী, স্বাতন্ত্রয থেকে 
সার্্বভৌমিকত্বে কম্ুরেখার গতিতে উদ্ধে সে উঠে যেতে পারে, 
এমন কি বিশ্বাতীতে পৌছেও নিষ্কৃতি পেতে পারে। আধ্্য 
ও তার পাণ্টা ফরাসী পত্রিকার লক্ষ্য ছিল পাঠকদের আত্ম- 
জয় ও আত্মশুদ্ধির দ্বিবিধ নিয়মানুবন্তিতা শিক্ষা! দেওয়া, যাতে 
তারা এই ভ্রি-ভুবনে যুগপৎ বাস করতে জানে, পারে 
“অধস্তনকে উদ্ধে উত্তোলন করতে, উদ্ধকে নিমের মধ্যে 
স্বাগত করতে” এবং শেষে নিজের সত্তার সর্ববাঙগ ধরে এক 
হয়ে যেতে পারে ত্রিগুণ ব্রন্ষের শক্তি জ্যোতি ও আনন্দের 
সঙ্গে ।১৩০ 

আর্য ও রেড্যু গয গ্রাদ স্যাতেজ এর প্রথম সংখ্যা 
প্রকাশিত হয়েছিল ১৯১৪ সালে আগষ্টে। অবশেষে মিথ্যার 
সাথে সত্যের, আধারের সাথে আলোর, কুৎসিতের সাথে 
১২৯ ভ০৪ ৪০৫ 2৮155 0, 9-11 

১৩০ | ৬1578 8250 16516 ৪ 2. 12 


প্রীমা-গ্রসঙ্গ ৮১ 


সুন্দরের লড়াই বেশ জাকিয়ে আরম্ভ হল, এ যুদ্ধ যতর্খানি 
শ্রীঅরবিন্দের ততখানি শ্রীমায়ের এবং এর সঙ্গে সৃত্রে বাধা 
মানবজাতির ভবিষ্যৎ । 


আঠারে। 


অজ্ঞাতকুলশীল পণ্ডিচেরীতে আধ্যের প্রকাশ আর যুরোপে 
রক্তাক্ত যুদ্ধের স্ৃচনা-_যে যুদ্ধ পরে বিশ্বব্যাপী রূপ ধারণ 
করল--প্রায় একসঙ্গে । ১৯১৪ সালের ২৮শে জুন হাবস্‌- 
বুর্গের সিংহাসনের উত্তরাধিকারি ও তার স্ত্রীকে নিহত করল 
সাবিয়া দেশের ২০ বছরের একটি যুবক । ১৯১৪ সালের 
জুলাই মাসে যুরোপে পররাষ্ট্র দপ্তর গুলিতে ব্যস্ততার ঝড় 
উঠল এবং শান্তি বনাম যুদ্ধ নিয়ে ভ্রেমবৃদ্ধিহারে আশঙ্কাপুর্ণ 
কিন্তু ক্রমলুপ্তিহারে আশাজনক তর্কবিতর্ক চলছিল। ২৮শে 
জুলাই অস্ত্ীয়৷ সাধিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করল ? ৩র' 
আগষ্ট জান্মানী করল ফ্রান্সের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা এবং 8ঠ 
আগষ্ট ব্রিটেন জান্মানীর বিরুদ্ধে। প্রথম মহাযুদ্ধ হল শুরু; 
জান্ম্মানী, অস্তীয়া, রাশিয়া, ক্রন্দন এবং ব্রিটেনের প্রত্যেকে 
প্রায় প্রথম থেকেই কোন না! কোন পক্ষে যোগ দিল । 

শেষে সভ্য মানুষ কি এক পরস্পর আত্মঘাতী সংঘে 
পরিণত হতে বসল? নিম্নলিখিত বাণীগুলি শ্রীমার অন্তর 
মথিত করে নিঃম্যত হ'ল ঃ 

“ভগবান | চিরস্তন অধীশ্বর | 

শক্তিরাজির সংঘর্ষ মানুষকে জোর করে চালিয়ে নিয়েছে 
শ্রীমা-৬ 


৮২ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


--তারা অপরূপ আত্মবলিদান করে চলেছে, নিজেদের 
জীবনকে উৎসর্গ করে দিয়েছে রক্তাক্ত পূর্ণাহুতির মধ্যে । 

ভগবান ! চিরস্তন অধীশ্বর ! এ যেন বুথ! ন1 যায়**।৮১৩১ 

ছ'দিন পরেই শ্রীমা লিখে জানালেন যে “পৃথিবীর মহা- 
সন্কটকাল উপস্থিত৮১৩২ এবং ৮ই আগষ্ট আবার লিখলেন, 
“পৃথিবীর উপর ঝঞ্ধার মত নেমে পড়েছে বীভৎস শক্তি সব-_ 
অজ্ঞান তারা১উগ্র, বলবান, অন্ধ*।১৩৩ শ্রীমা “যুদ্ধরত অন্ধকার 
পৃথিবী” থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেন না এবং ২১শে 
আগষ্ট শ্রীমার হৃদয়ের অস্তঃস্থল থেকে উৎসারিত হ'ল আর 
এক প্রার্থনা £ “ভগবান, ভগবান, সমস্ত পুথিবী পধুর্ণদত্ত, 
শোকমগ্ন, যন্ত্রণাগ্রত্ত মুযুযুপ্রায়'**এ বেদনারাজি বৃথ! যেন 
তার উপর ন! এসে থাকে-"'অন্ধকারের এই গহ্বরতল হতে, 
পৃথিবী তার সমগ্রসত্ব। দিয়ে তোমায় ভাবে, তুমি তাকে দেবে 
বাতাস আলো! এই জন্তে ; তার যে নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যায় তুমি 
কি আসবে না তার রক্ষার জন্যে” 1১৩৪ অধেক যন্ত্রণা আর 
অর্ধেক প্রার্থনা মিশ্রিত সেই একই তীব্র আর্তক বার বার 
ভার মর্ম ভেদ করে ওঠে এবং এ ক সত্যই যেন বিশ্বমানবেরই 
আর্ভক, যে বিশ্বমানব আজ ভাগ্যের বিচারালয়ে আসামীর 
কাঠগড়ায় ফাড়িয়ে, যার অগ্নিপরীক্ষা অশেষ ও অবর্ণনীয় £ 

১৩১] 198521:5 20 171050109010105 0. 167 

১৩২। 7018501:5 8150 7/1০0105800105 1, 169. 

১৩৩। 7055613 2100 11201500188 0. 170 

১৩৪ | 101856215 8100 11601090005 ১. 177 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৮৩ 


“ভগবান ! পৃথিবী আর্ত, শোকগ্রস্ত, এ জগৎ বিশৃঙ্খলার 
বাসগৃহ হয়ে উঠেছে। 

অন্ধকার এত গাঢ় যে এক তুমি তাকে অপপারিত করতে 
পার। 

এস প্রকাশ কর নিজেকে,তোমার কন্ম সংসিদ্ধ হোক ।”১৩৫ 

পৃথিবীর উপর অন্ধকার নেমে এল গাঢ় হয়ে, প্রচণ্ড হয়ে, 
বিজয়ী হয়ে__স্থুল জগতে শুধু ছঃখ ভীতি ধ্বংস এবং তোমার 
প্রেমের আলে! তার সব দীপ্তি নিয়ে শোকের আবরণতলে 
ডুবে গেল ।”১৩৬ 

অপরদিকে তখনও আশা? স্বস্তি ও উৎসাহের মৃদু প্রায়- 
নীরব ক শোনা যাচ্ছিল-_যদিও তা ছিল প্রথমে অতি ক্ষীণ, 
ক্রমশ তাতে ফুটে উঠল বিশ্বাসের পুর্ণ ভরসা, চরম বিজয়ের 
নিশ্চয়তা । ৩১শে আগষ্ট বুদ্ধের প্রথম মাসের শেষ দিনে 
শ্বীমা লিখলেন £ 

“এই যে ভীষণ অব্যবস্থা, এই যে দারুণ ধ্বংস, এরই মধ্যে 
লক্ষ্য কর যেতে পারে চলেছে বিপুল এক প্রয়াস--তার 
প্রয়োজন পৃথিবীতে নৃতন বীজ রোপনের জন্যে ; যে বীজ 
শোভন শীষ সব তুলে দাড়াবে, জগতে এনে দেবে নবজাতিরূপে 
শন্যসভ্ভার***”১৩৭ পাঁচ দিন পরে উদ্ধী হতে এল এক পুন- 
মিলনের ডাক £ 

১৩৫। 01252105210 10501621010129 [১ 180 

১৩৬ 701256219 2100. 2059165010185 0. 185 

১৩৭ | 0:8561:5 2130 1405015561019 00. 182-183 


৮৪ শ্ীমা-প্রসঙ্গ 


“দাড়াও, বিপদের সম্মুখে ।''শাড়াও স্থির দৃষ্টি নিয়ে 
বিপদের সম্মুখে, মহাশক্তির সাক্ষাতে তা যাবে মিলিয়ে 1৮১৩৮ 
এ যুদ্ধের পিছনে নিহিত রয়েছে হয়ত কোন গুঢ় রহস্য । এ 
রহস্যের অর্থ এও হতে পারে যে তা নৈতিক নিশ্চলতা৷ ও অন্ধ- 
ধ্বংদ উভয়ের জয় ব। স্বর্গের পথে পাপক্ষালক! তাই যা 
প্রয়োজন ত1 হল নির্ভয়ে যুদ্ধ করে যাওয়া এবং “চাই বিজয়, 
সর্ববন্ধ পণ করে” 1১৩৯ 

ক্রমশ বিভ্রীত্তি, উত্তেজনা, নৈরাশ্যের মেঘ থেকে উদ্দিত হল 
বুদ্ধিবৃত্তি ও অচল জ্ঞানের সূর্য্য । “সেতু বন্ধের মত একদিকে 
শাশ্বত সত্ত।য। কখনও প্রকাশ পায় না, আর একদিকে 
য| প্রকাশ পেয়েছে এই ছুয়ের মধ্যে-ত'যা হওয়। উচিত আর 
যা হয়েছে এ ছুয়ের মধ্যে সংযোগস্থাত্র ।”১৪০ মানুষ এছাড়া 
আর কি? প্রত্যেক ব্যক্তি হল আসলে মেযা বা যা তার হয়ে 
ওঠা উচিত-_স্থানও কালের অতীত যে সদ্বস্ক তাকে উভয়ের 
মধ্যে, অরূপে যে সৎ ও সত্য তাকে রূপে প্রকাশের প্রয়াস ।. 
“বসন্ত জগতের আপেক্ষিকত।”__-মর অস্তিত্বের দ্বেতভাব ও 
ব্যমিশ্রতার সঙ্গে মানুষ নিবিড় ভাবে জড়িয়ে, একথা 
নিঃসন্দেহে বল। যেতে পারে । কিন্তু তেমনি আবার স্তাসলে 
মানুষ হল প্রকৃত পরম সত্যের উত্তরাধিকারী, তাই ন্তায়সঙ্গত 


১৩৮। 70186152150 1$101681010155 19. 186 
১৩৯। 00:85015 200. 1020162610195 7. 187 
১৪০ | 10:8215 8780 71090109010155 ০, 182 


শীমা প্রসঙ্গ ৮৫ 


ভাবেই সে হল অন্তরে দ্বিধাভিক্প জড় জগৎ এবং অস্তরাত্বিক 
আত্মসমর্থ আধ্যাত্মিক জগতের মধ্যে সংযোগ-স্থত্র। শ্রীমা 
হলেন এক অপূর্ব মধ্যস্থা, তার বাণী মানুষের যাবতীয় 
যাতন1 ও আস্পৃহাকে আলিঙ্গন করে এবং যখন তিনি তার 
প্রার্থনা উচ্চারণ করেন তখন সারা পৃথিবী সেই প্রার্থনারই 
প্রতিধ্বনি করে এবং বিনীত আবেদনে সাগ্রহে যোগদান 
করে : 

"এই আর্ত পৃথিবীকে ঘিরে ধর তোমার করুণাদৃঢ়.বাছ- 
পাঁশে, তোমার অসীম প্রেমের কল্যাণকর ধারায় পরিল্প'ত 
কর তাকে । 

আমি তোমার করুণার দৃঢ় বাহুপাশ। 

আমার প্রসারিত বুকে তোমার সীমাহীন প্রেম। আর্ত 
পৃথিবীকে ঘিরে রাখে বান্ুযুগল, উদার হৃদয়ের “পরে তাকে 
আদরে চেপে ধরে ধীরে নেমে আসে পরম আশীষের চুম্বন 
এই ঘন্বরিষ্ট কণাটির উপর- পাত্বনাদায়ী নিরাময়কারী 
মায়ের চুম্বন ॥ ১৪ 

“তাদের ছুঃখ তাদের কষ্ট এই বাহ্য সত্তা অন্থুভব করছিল, 
ভগবান। কবে দূর হবে অজ্ঞান ? কবে চলে যাবে বেদন।? 
ভগবান! এই কর যাতে বিশ্বের প্রত্যেক উপাদানটি তার মূল 
সভ্য সম্বন্ধে সচেতন হয়ে উঠে, লুপ্ত না হয়ে রূপাস্তর লাভ 
করে। অন্ধ অহংকারের যে অবগুগ্ঠন তোমাকে ঢেকে রাখে, 
অপন্থত হোক তা, তোমার আলো ছড়িয়ে প্রকাশ হও তুমি 


১৪১। 1285215 2159. 11661686101 19. 175 


৮৬ ্রীমা-প্রসঙ্গ 


পূর্--রূপে, তবে সে প্রকাশ ঘটবে অখণ্ড চেতনার মধ্যে, একট! 
ক্রমোম্নতির ধারায় ।”১৪২ 


উনিশ 


মধ্যস্থ, সহকম্মা, অষ্ট1 বাস্তবিকই মহাকালের “এপারে? ও 
তীরে এই তিনটি পরস্পর সংযুক্ত চরিত্রের ভূমিকা অভিনয় 
কর! আমাদের ভবিতবা এবং এদের অনুক্রমে আমাদের 
ক্রমোন্মেষ পর পাধিব-জীবন-মহাকাব্যের সার সঙ্কলন । কখনও 
অজ্ঞানাচ্ছন্নভাবে, অপূর্ণভাবে, কখনও সচেতনভাবে, সক্ষম- 
ভাবে, কিন্তু সর্বদা অব্যাহত ও অকুষ্টিতভাবে-_-এইভাবেই 
সাধারণ মানুষ বিবর্তনের স্থপ্টিক্ষম অভিযানে যোগ দেয়। 
বুদ্ধিবৃত্তিকে বিশুদ্ধ করা, যন্ত্রটিকে পবিত্র করা, সুশৃঙ্খলাকে 
দৃঢ়বদ্ধ করা, সিদ্ধিটিকে ত্বরান্বিত কর1-_-এই হ'ল পূর্ণ-যোগের 
কর্মস্থচী ঃ 

“সকল জড় আকারের মধ্যে তাদের জীবনীশক্তি হয়ে 
ওঠা, সকল রূপের মধ্যে এই জীবনীশক্তিকে স্ুশৃঙ্খলিত করে, 
ব্যবহার করে যে চিস্তাশক্তি তা হয়ে ওঠা, আর চিস্তাশক্তির 
নানাবিধ উপাদান সমস্তকে প্রসারিত করে, সমুজজ্বল করে, 
প্রখর করে এবং সম্মিলিত করে ধরে যে প্রেম-শক্তি তাই হয়ে 
ওঠ1-_-আর এই ভাবেই ব্যক্ত-স্প্রির সঙ্গে অখগুভাবে একীভূত 
হয়ে গিয়ে পুর্ণশক্তিতে তার রূপান্তর সাধনে অবতীর্ণ হওয়]। 

অন্যদিকে, তা হ'ল আবার, পরমতত্বের কাছে সম্পূর্ণ 


১৪২। 701:850:3 210 7020108001008 0, 202 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ৮৭ 


সমর্পণের ফলে, পরমসত্যের জ্ঞানলাভ, আর যে শাশ্বত ইচ্ছা- 
শক্তি তাকে প্রকাশ করে তার জ্ঞানলাভ ; এবং এই একাত্ম- 
তার জন্তে ভাগবতশক্তির অনুগত সেবক ও অভ্রান্ত যন্থ হয়ে 
ওঠা, আর মূলতত্বের সাথে সঙ্ঞান একাত্মতা, এই উভয় 
একাত্মতাকে সংযুক্ত করে ধর; সুতরাং পরিশেষে মূলতত্বের 
সত্যধন্ম অন্থুসারে স্থির মধ্যে সচেতনভাবে হাদয়কে মনকে 
প্রাণকে ঢালাই করা, গঠন করা। 

এই রকমেই ত ব্যক্তিগত সত্তা পরম সত্য আর ব্যক্ত 
বিশ্বের মধ্যে সচেতন মধ্যস্থ হয়ে উঠতে পারে, প্রকৃতির যোগ 
-সাধনায় যে ধীর অনিশ্চিত গতি তার মধ্যে অবতীর্ণ হয়ে, 
তাকে দিতে পারে দিব্য যোগসাধনার ক্ষিপ্র প্রথর গতি ।৮১৪৩ 

বিবর্তনের গতিকে সঠিক দিকে এগিয়ে যাবার নির্দেশ 
দেওয়া,--প্রকৃতিকে প্রায় যেন নিয়মানুবতাঁ করে তোলাঃ-_- 
এবং অগ্রগতিকে আরও ক্ষীপ্র করে তোলাই হ'ল মহান 
যোগীদের, অষ্টাদের লক্ষ্য । তাদেরই মধ্যে শাশ্বত পাধিব 
জীবনের রূপ নিয়ে ধরা দেয় এবং যেহেতু তার যুগপৎ 
আমাদের সঙ্গে ও বাহিরে রয়েছেন, জড় প্রকৃতিকে অতি- 
প্রাকৃতে বিবর্তনের যে অপূর্ব নাটক চলেছে তাতে তার স্বীয় 
অংশ অভিনয় করাতে সমর্থ । 

গ্রীমা এরূপ দ্রষ্ট। যোগী এবং সর্ব্বসস্ভব। মধ্যস্থা। হয়ে ছুটি 
জগতের সংঘর্ষ অনুভব করেন এবং সেই সংঘাত ও কোলাহ- 
লের মন্থন থেকে তুলে ধরেন শাস্তি ও সৌবম্যের পুর্ণকুস্ত। 


১৪৩। 00556152150 70610861905 0, 234 


৮৮ শ্ীমা-প্রসঙ্গ 


আর্ত সম্ভানকে যেমন তেমনি সমগ্র পৃথিবীকে তিনি কোলে 
নেন, ঠিক সে “পীড়িত শিশু যেন,তাকে নিরাময় করতে হবে, 
দূর্বল বলেই তার উপর পড়েছে বিশেষ সেহ”১৪৪-_স্বেচ্ছায় 
ও সাগ্রহে শ্রীমা শাশ্বতের ভাকে সাড়া দিয়েছেন এবং অকর্মক 
ও চিস্তাপ্নুত ন1! থেকে কাধ্যকরী ও দিদ্ধিক্ষম যন্ত্রে নিজেকে 
রূপান্তরিত করলেন। যোগীর1 অবাস্তব কল্পনাবিলাসী এই 
সাধারণ ভ্রান্ত ধারণ। যোগীদের অনন্য জীবন-কাহিনী দিয়েই 
যুগে যুগে বারে বারে মিথ্যা প্রমাণিত হ'য়েছে। ডাঃ ই্গে 
চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন যে, “মহান যোগীদের 
সকলেরই থাকে কর্মমতৎপরতা ও প্রভাব এবং তাদের কন্মম- 
কুশলতা৷ বহুক্ষেত্রেই অভূতপূর্বভাবে পরিলক্ষিত হয়। 
উদ্দাহরণ £ 'প্লটিনাস'কে প্রায়শ ডাক হত অভিভাবক ও অছি 
হতে; “সেন্ট বাণণর্ড সংগঠক হিসাবে চমতকার কুশলতা 
দেখিয়েছেন; “সেন্ট তেরেসা? বনু কনভেণ্টের প্রতিষ্ঠাতা ও 
শাসক হিসাবে তার প্রথর বৈষয়িক বুদ্ধির ও যোগ্যতার পরি- 
চয় দিয়েছেন । "সাধারণত যোগীরা উচ্চাকাজক্ষী নন কিন্তু 
আমার মনে হয় যে বৈষয়িক জীবনে কখনে৷ ঢুকতে সম্মত হলে 
সেখানে তারা বড় একটা ব্যর্থতার দৃষ্টাস্ত দেখান ন1।৮১৪৫ 
তাহলে এ কোন মতেই আশ্চধ্যের বিষয় নয় যে আীম! স্থির 
প্রত্যয় নিয়ে এবং যুদ্ধে সানন্দে যোগদানের মনোভাব নিয়ে 
পুর্ণোন্মে সেই মহা-ক্ষণের সম্মুখীন হতে প্রত্তত। এত 
১৪৪ | 1১:8521:5 2150 1$0০015610175 70, 203 
১৪৫ | (5121156181) 15561015120 19, 201-5071 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ | ৮৯ 


শুরুমাত্র, কিন্তু এ থেকে স্ুত্রপাত হতে পারে এক অর্থপুণ 
কর্মের ধারা-পরম্পর1 যার প্র্ার তিনি দিব্য দৃষ্টি দিয়ে 
দেখতে পেলেন £ 

“একট আংশিক সীমাবদ্ধ সংগ্রাম যা হল পৃথিবীব্যাগী 
বিপুল সংগ্রামের প্রতিভূ, তার ভিতর দিয়ে তুমি আমার 
সামর্থ, আমার তৎপরতা, আমার সাহস পরীক্ষ। কর ; দেখতে 
চাও সত্যসত্যই আমি, তোমার সেবক হতে পারি কিন] । 
যদি যুদ্ধের ফল দেখায় যে তোমার বিশ্ব-প্লাবন কর্মের 
যন্ত্র হবার উপযুক্ত আমি, তাহলে কর্মের ক্ষেত্র তুমি আরো 
প্রসারিত করবে 1৮১৪৬ 

পরের দ্িনেই--১৮ই জানুয়ারী ১৯১৫ তারিখে- শ্রীমা 
তার আশার রূপটির আভাস দিলেন আরে! খানিকট। স্পষ্ট 
ভাষায়: 

«প্রেমের বিরুদ্ধে বিদ্বেষের, স্তায়ের বিরুদ্ধে অন্ঠায়ের, 
তোমার বিধানের কাছে আত্মসমর্পণের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের এই 
যে ছুঃসাহসিক সংগ্রাম তার মধ্যে আমি যেন এক মহত্তর 
শাস্তির জন্য মানবজাতিকে উপযুক্ত করে তুলতে পারি-_যখন 
মানুষে মানুষে আত্মকলহ সব থেমে গিয়েছে, যখন মানুষী 
প্রয়াস সমগ্রভাবে নিযুক্ত হতে পারে তোমার ইচ্ছাকে ক্রমে 
সুষ্ঠৃতর সমগ্রতর করে তোলবার, জন্যে, তোমার লক্ষ্যের ক্রম- 
বিকাশের জন্যে 1৮১৪৭ 

১৪৬। 01:8561:5 2180. 17/050109010159 0১. 222-23 

১৪৭। 702561:5 8150 14160109010159 10০. 223-24 


৯০ _ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


পূর্ণ যোগী ক্রীতদাসের মত মনগড়া স্ুত্রের, অচলায়তন 
প্রথার, আচার ব্যবহারের যাস্ত্রিক প্রথা বা রীতির ছ্বার। বদ্ধ 
হয়ে থাকতে অবশ্যই অস্বীকার করবেন। ছুঃখের বিষয় 
«আমরা য| ভাবিনা! কেন, যা বলিনা1! কেন, সত্য চিরকালই 
তার বাহিরে থেকে যায়।৮১৪৮ চরম ধারণা, স্ুক্মতম কল্পনা, 
মহত আবেদন বারবার এবং নীরসভাবে উচ্চারিত হলে শেষে 
«এক সময়ে তাদের শতদলের যৌবন বসম্ত হারিয়ে বসে” এবং 
আমাদের প্রয়োজনের পক্ষে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। পূর্ণ যোগী 
অতাঁত অভ্যাসের ও দুর্ববলকারী প্রচলিত প্রথার ধ্বংসাবশেষ 
দ্রুত অতিক্রম করে সম্মুখে এগিয়ে যান। তারই প্রাণবন্ত 
হর্বার যিনি শত রকমের বাধা মাড়িয়ে চলে যেতে পারেন, 
আদর্শের দিকে খজুভাবে অগ্রসর হতে পারেন, সন্দেহ দোলায় 
না ছলে ও মাঝপথে কোথাও বিশ্রামন্থুখে মগ্ন না থেকে 
আনন্দ-তোরণ সব আকস্মিক আক্রমণে জয় করে খুলে 
ফেলেন। মান্ুুষী মাপকাঠি দিয়ে বিচার করলে যুক্তিসঙ্গত 
ভাবে বল। যায় যে এ হল অত্যন্ত কঠিন ও বিপজ্জনক 
£সাহদিক কাজ; কিস্ত এ কাজ করতেই হবে, উর্দের 
নিয়োক্ত বাণী দ্বারা সুরক্ষিত হয়ে শ্রীমা করবেনই এ কাজ এবং 
লক্ষ্যে না পৌছান পর্যস্ত অবিচলিতও থাকবেন । 
“সাধারণ মানুষের মধ্যে সাধারণ মানুষ হয়ে কাজ করে 
চল তুমি ; এই বিশ্বপ্রকাশের মধ্যে তাদের চেয়ে অতিরিক্ত 
কিছুমাত্র তুমি নও,এই শিক্ষা লাভ কর তোমার জীবনধারায় 


১৪৮ | 085015 2150 7165010500159 0. 215 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৯১ 


তাদের জীবনধারার সঙ্গে সমগ্রভাবে নিজেকে মিলিয়ে ধর। 
কারণ তার! যতটুকু জানে, যতটুকু হয়ে আছে, সে-সব ছাড়িয়ে 
তোমার মধ্যে তুমি বহন করছ চির-ভাম্বর, অবিকম্পিত 
অগ্রিশিখা_ তাদের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে ধরে, এই শিখাকেই 
তুমি নিয়ে আসবে তাদের মধ্যে। তুমি যদি বিচ্ছুরণ কর 
আলো, তবে তা উপভোগ করবার প্রয়োজন আছে কি 
তোমার? আমার প্রেম যদ্দি তুমি বিতরণ করে চল, তবে 
প্রয়োজন আছে কি তোমার অন্তরে তুমি অনুভব করবে তার 
ক্পন্দন? তাদের সকলের জন্যে তুমি হবে আমাতে-নিহিত 
আনন্দের বাহক, তবে কি প্রয়োজন তোমার তাকে সর্ববতো- 
ভাবে আস্বাদন করবার 1১৪৯ 


কুড়ি 

€রেড্যু ছ্ গ্র। সাতেজ' আধ্যের ফরাসী সংস্করণ। ১৯১৫ 
সালে ফেব্রুয়ারী মাসে প্রকাশ বন্ধ হওয়া, পর্য্যস্ত এ পত্রিকাটি 
শ্রীমার মন অনেক খানি জুড়ে বসেছিল। মাত্র সাতটি 
সংস্করণ প্রকাশ হ'তে না হ'তেই মহাযুদ্ধের সন্কটকাল 
সম্পাদকদের পত্রিকাটি স্থগিত রাখতে বাধ্য করল; কিন্তু 
আর্য আরও সাড়ে ছয় বৎসর খুবই নিয়মিতভাবে প্রকাশ 
হ'তে লাগল এবং কেবল ১৯২১ সালে তার প্রকাশ বন্ধ হয়ে 
গেল। 

সম্পাদকীয় ও তত্বাবধায়কী দায়িত্ব থেকে অবশেষে মুক্ত 





১৪৯। 7185618 210. 115018010173 1, 221-22 


৯২ শ্রামা-প্রসঙ্গ 


হয়ে শ্রীমা কামো মার জাহাজে পণ্ডিচেরী পরিত্যাগ 
করলেন এবং ফ্রান্স অভিমুখে যাত্রা করলেন। তখনও পর্য্যস্ত 
শ্রীমা জানতেন ন1 যে তিনি এতে খুশী না হুঃখিত। বহির্মন 
শৃহ্যতায় পর্যবসিত হয়েছিল ও তিনি যেন একটি অন্ধকার 
সুড়ঙ্গের মধ্যে প্রক্ষিপ্ত হয়েছেন। পণ্ডিচেরী সহরে এমন 
একট] কিছু ছিল ব! তিনি পিছনে ফেলে চলে এসেছেন। 
সত্যই কি পণ্ডিচেরীর সব স্মৃতিটুকু মুছে গেল! তা অসম্ভব! 
কোথায় তাকে নিয়ে যাচ্ছে, এ ঘনঘোর কী, কোন প্রচণ্ড 
অজ্ঞানত। ঘনীভূত হয়ে আছে তার সামনে? জাহাজে ৩র! 
মার্চ ১৯১৫ সালে তার এই যাতনাগ্রস্ত চঞ্চল মানসিক 
অবস্থাকে বর্ণন৷ করার সঠিক ভাষ। পেলেন : 

“কঠোর নিঃসগতা-আর নিরস্তুর ভীব্র অনুভব যেন একট! 
অন্ধকারের নরকের মধ্যে আমাকে সোজ। ছুঁড়ে ফেলে দেওয়! 
হয়েছে ।'-.ভগবান, আমি কি করেছি যার জন্তে এমন আধার 
রাত্রির মধ্যে আমাকে ফেলে দিয়েছ ?”৯৪০পরের দিন আবার 
লিখলেন £ 

“সেই একই কঠোর নিঃসঙ্গতা...ভগবান, তুমি আমায় 
গাঢ়তম অন্ধকারে ডুবিয়ে রাখছ""'তবে কি তুমি আমায় 
নির্বাচিত করেছ তোমার মশালধারী হয়ে নরকের ঘৃ্িপাকের 
মধ্যে নেমে যাবার জন্যে 1১৫১ 

ক্রীম! অনুভব করলেন যেন তিনি “আত্মার ঠিক সম্পূর্ণ 

১৫০। 01856 ৪190 1/1501096101)5 10, 225, 

১৫১। 01856152180 70601680015 00, 226-27 





ভীমা-প্রসঙ্গ ৯৩. 


বিপরীত যে-সব ব্যবস্থা তারই দিকে”১৫২ যেন দ্রুতই অগ্রসর 
হয়ে চলেছেন এবং সবিশ্ময়ে ভাবলেন জীবনে তাঁর কেন এরূপ 
পরিবর্তন ঘটল, এ কি আত্মার তমসাচ্ছন্ন-রাত্রি অতিক্রমণের 
শিক্ষা? কেন তার এমন আধ্যাত্মিক নিঃস্বতার অভিজ্ঞতা, 
কেনই বা এ শুন্ততা, এ যাতনা, সমগ্র আধারের অলস 
আড়ষ্টতা? 

এ সব অবস্থ1 অস্থায়ী মাত্র-_শ্রীমা সমগ্র মানুষ ও প্রকৃতির 
ভূমিকা অভিনয় করলেন এবং এই বেপরোয়া ভাব নিয়ে 
উঠলেন যাতে সেই পরমকরুণাময় অনুকূল ও নিকটতম পথে 
এসে সাড়া দিতে পারেন । শ্রীমার সমতা অবিলম্বে ফিরে 
এক্স এবং তার সেই স্থৈর্য্যের স্থির কেন্দ্র ও প্রচণ্ড উদাসীনভার 
পুরানে! পথ খুঁজে পেলেন। তিনি কর্মের মধ্যে নিজেকে 
কঠিন বন্ধনে আবদ্ধ করলেন এবং উদ্বিগ্রতা ও ভীতিকে 
দিলেন নিব্বাসন। 

“জগৎ থেকে পলায়ন নয়-_-মলিনতার, কদর্য্যতার ভার 
শেষ অবধি ক্কন্ধেবহন করে চলতে হবে- ভগবানের সহায় 
থেকে বঞ্চিত হলেও দৃকপাত না করে। রাত্রির কোলের 
মধ্যে থাকতে হবে, চলতে হবে, দিক-যন্ত্র বিনা, আলো বিনা, 
আস্তর দিশারী বিনা।৮”১৫৩ 

নিবিড় আধার রাত্রি নিজেই নিজেকে নিঃশেষিত করে 
ফেলেছে। ধূনর উধার আগমনী দেখা দিয়েছে; এ হল 

১৫২। 01852152100 1160105610125 0. 227 

১৫৩। 0:25615 8100 005010500155 0. 229 


৯৪ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


প্রাণ-স্পন্দন শুরুর পূর্বেকার নিঃশব্দ মুহুর্ত; “এ নাস্তি বটে, 
কিন্তু এমন নাস্তি বা বাস্তব, চিরকাল যা বর্তে থাকতে 
পারে ।”১৫৪ পুর্বাকাশে যখন জ্যোতিকুণ্ডের আবির্ভাব হয়, 
তখনই কুয়াসা বিদুরিত হয়, আলো ও প্রাণের প্রাছুর্ভাব 
হয়, যদি সে প্রাণ একটু বেশ তীক্ষ ও বিভ্রান্ত : 

“ন্বর্গ জয় হয়েছে নিঃসন্দেহে- কোন জিনিষের কোন 
ব্যক্তির ক্ষমতা নাই তাকে আর আমার কাছ থেকে সরিয়ে 
নেয়। কিন্তু পৃথিবীর জয় এখনও বাকী; তার কাজ চলেছে 
বটে, তবে ছুর্ধোগের ভিতর দিয়ে আর জয় হলেও তা 
এখনে। হবে আপেক্ষিক মাত্র 1৮১৫৫ 

অবশেষে শ্রীমা প্যারিসে ফিরে গেলেন ; কিন্তু বিবর্তন- 
অভিযানের যে চরম বিজয় সে সম্বন্ধে আর কোন সন্দেহই 
রইল না। তাই তিনি ২রা নভেম্বর ১৯১৫ সালে দৃঢ় প্রত্যয়ের 
সঙ্গে বললেন যে: 

“ভ্রান্তি সব হয়ে উঠেছে সোপান-শ্রেণী, অন্ধ-অন্বেষণ হয়ে 
উঠেছে বিজয় সিদ্ধি। তোমার মহিম। পরাজয়কে শাশ্বত জয়ে 
পরিণত করে ; অন্ধকার সব অন্তর্ধান করল, তোমার প্রোজ্জল 
জ্যোতির সম্মুখে । 

“তুমিই ছিলে প্রেরণা ও লক্ষ্য, তৃমিই কন্মী ও কর্ম ।৮১৫৬ 

আধ্যাত্মিক আনন্দের জোয়ার দিক পরিপ্লাবী বেগে দেখা 

১৫৪। 7785515 2:00 24201090105. 232 

১৫৫। 70195615 2150. 10০91090015 0. 236 

১৫৬। চ1950:5 2100 71160109100193 20. 239 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৯৫ 


দিল এবং ১৯১৫ সালের ২৬শে নভেম্বর শ্রীমা এক পরম 
অনির্বাণ আনন্দের অভিজ্ঞত। লাভ করলেন £ 

“চেতন] সম্পূর্ণ ডুবেছিল ভগবানের ধ্যানে""স্থুল দেহ, 
প্রথমে তার নিয়তর অঙ্গ গুলি, পরে সমগ্রভাবে, একটা! পুণ্য- 
স্পন্দনে শিহরিত ; ক্রমে জড়তম অনুভবেরও সকল ব্যক্তিগত 
সীমানা খসে পড়ল। সত্তা বৃহৎ হতে বৃহত্তর হয়ে উঠল, 
ধাপে ধাপে,ম্থুনিয়মিতভাবে, সকল জাঙ্গাল ভেঙ্গে দিয়ে, সকল 
বাধ। কাটিয়ে, যাতে সে ধারণ করতে পারে, প্রকাশ করতে 
পারে, প্রসারে তীবত্রতায় নিরস্তর বদ্ধমান এক মহাবল, এক 
মহাশক্তি। এ যেন দেহের যাবতীয় কোষ ক্রমে স্ফীত হয়ে 
চলেছে, শেষে সমস্ত পৃথিবীর সঙ্গে এক হয়ে গিয়েছে। 
আকাশের প্রসারে সুসমপ্রসভাবে এই যে পৃথিবীমগণ্ডল ঘুরে 
চলেছে, জাগ্রত চেতনার দেহ যেন তাই হয়ে উঠেছে_তবে 
চেতন! জানে তার পাধিব-মগুলাকার দেহ এ রকমে চলেছে 
বটে, কিন্তু বিশ্বপুরুষের আলিঙ্গন-বদ্ধ হয়ে, তারই কাছে 
নিজেকে দিয়ে দিয়েছে, ছেড়ে দিয়েছে প্রশাস্ত আনন্দে 
বিভোর হয়ে। তখন চেতনার অনুভব হল, তার দেহ বিশ্বের 
দেহের মধ্যে মিশে গিয়েছে, এক হয়ে গিয়েছে; চেতনা 
তাই হয়ে উঠেছে বিশ্বের চেতনা, তার নিশ্চল সমগ্রত নিয়ে 
আবার তার আপনার অন্তর্গত সচল সব অনস্ত-বৈচিত্রয 
নিয়ে। বিশ্বের চেতন! আবার ছুটল ভগবানের দিকে, তীব্র 
আন্পৃহ! আর পূর্ণ সমর্পণ নিয়ে-_দেখল সে নিফলক্ক জ্যোতির 
প্রভামণগ্ডলে প্রজলস্ত পুরুষ বহুশীর্ধ এক সর্পের উপর দীড়িয়ে, 


৯৬ প্রীমা-প্রসঙ্গ 


সর্পটির দেহ পৃথিবীকে জড়িয়ে ধরেছে অনস্তভাবে। আর 
সে-পুরুষ তার সনাতনী বিজয়-ভঙ্গিতে সর্পটিকে ও সর্প হতে 
নিঃস্থত বিশ্বকে যুগপৎ দমনে রেখেছেন এবং স্থার্তি করছেন। 
সমগ্র বিজয়ী শক্তি নিয়েই তিনি সর্পটির উপর ীাড়িয়ে 
রয়েছেন--সে অঙ্গভঙ্গি বিশ্বগ্রাসী সর্পটিকে প্রতিহত করে 
রেখেছে যেমন, আবার তেমনি নিরস্তর পুনজবিত করে 
চলেছে। চেতন! তখন সেই পুরুষই হয়ে উঠল, দেখল তার 
রূপ আবার বদলে গেল, মিলে মিশে গেল এমন একট! 
জিনিসের মধ্যে যার নিজের.রূপ নাই, যাতে রয়েছে সকল 
রূপ, অব্যয় অক্ষয় জিনিস একট) দ্রষ্টামাত্র সাক্ষীস্বরপ। আর 
সে যা দেখে, তাই আছে। তারপর রূপের শেষ-চিন্ন লোপ 
পেয়ে গেল, চেতন! পধ্যস্ত ডুবে মুছে গেল অনির্ববচনীয়ের 
অবাচ্যের মধ্যে । ৯৫৭ 


একুশ 


১৯১৫ সালে প্যারিস সহরট1 নিশ্চিন্ত বসবাসের পক্ষে 
ততট! অনুকূল ছিল না এবং সেখানে শ্রীমার সমতা নিশ্চয়ই 
অতি কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়েছিল। সব সত্বেও তার 
অন্তরে ছিল শাস্তি এমন কি তার শক্তিও সব সময়েই 
থাকত প্রস্তত প্রত্যেক আহ্বানের প্রতুত্তর দেবার জন্ক এবং 
তাই বিজয় সম্বন্ধেও তিনি কখনই সন্দেহ পোষণ করেন নি। 
শ্রীমার অধ্যাত্বজীবনের ইতিকথ! প্রায় মাস চারেকের 

১৫৭। ৮5528 8170. 11০0120009 19.241.-42 


শমা-প্রসঙ্গ ৯৭ 


আলেখ্য--তাই একে আমর! শ্রীমার ধ্যান ও প্রার্থনা বলে 
অভিহিত করতে পারি। ইতিমধ্ো তিনি এবারে জাপানে 
শুরু করে দিয়েছেন তত্বান্ুসন্ধানের ও তত্বাবিষ্কারের অভিযান। 
৭ই জুন ১৯১৬ সালে টোকিওতে অবশেষে শ্রীমা লিখলেন : 
“দীর্ঘ কয়েক মাস কেটে গেল, তখন কিছু বল! সম্ভব হল 
না। কারণ সে গেল একটা অবস্থাস্তরের সময়, এ স্থিতি হতে 
আর এক বৃহত্তর পূর্ণতর স্থিতিতে উত্তরণ। বাহিরের অবস্থাও 
হয়েছিল জটিল, অভিনব-_আধারের প্রয়োজন যেন ছিল 
অনেক অন্ুভূতি, অনেক পর্যবেক্ষণ সংগ্রহ করা যাতে তার 
অভিজ্ঞত। পায় একটা প্রশস্ত ও বহুমুখী প্রতিষ্ঠা ।-.-হঠাৎ 
৫ই জুন তারিখে পরদ] ছি'ড়ে গেল, চেতনার মধ্যে আলো 
ফুটে উঠল।”১৫৮ পরবর্তী স্তরে পৌছিবার আগে প্রায় ছয় 
মাস কেটে গেল; সে সম্বন্ধে বলার সামান্তই আছে, কারণ 
“কোনরূপ উত্তেজনামূলক অভিজ্ঞতা ত নেই; এ সব 
অভিজ্ঞতাই মনে হয় এখন অতি সহজ, সাধারণ ।”১৫৯ কিন্তু 
এই যে আপাতশুন্ততা ও সরলতা তা কেবল অস্তরের বিপুল 
এই্বর্য্যকে ঢেকে রেখেছে । এরি জন্যে দৃষ্টি তাকে খুলতেই 
হবে এবং এক অপার আনন্দই ঘ! তাকে ঘিরে রেখেছে চারি- 
দিক থেকে তা হল £ 
«এই যে মলিন বিবর্ণ ধূসরতা, এই যে ওজজ্বল্যহার। 
আলো, তারই মধ্যে আমি লাভ করি যেন অন্তহীন প্রসারের 
১৫৮ 70195015 2150 7%029162610155 1১, 246 
১৫৯ 01:956:3 8100 70201690013 0. 248 


শ্রীমা-৭ 


৯৮ ্ীমা প্রসঙ্গ 


আম্বাদ। বৃহতের নিন্মল নিশ্বাস, মুক্ত শিখরের সবল হাওয়া 
আমার হৃদয় পরিপূর্ণ করেছে, জীবন পরিপুত করেছে। অন্তরের 
ও বাহিরের আমার সকল বাধ! ভেঙ্গে গিয়েছে । আমার মনে 
হয় পাখীর মত আমি যেন পাখ। মেলে দিয়েছি অবাধে উদ্্ে 
উড়ে চলবার জন্যে 1৮৯৬০ 
১৯১৬ সালের ৫ই ডিসেম্বরে শ্রীম৷ এক অভিন্ন একা ত্মতার 
মধ্যে পরমার্থ আনন্দের গভীরতার মাঝে নিঞ্জেকে নিয়ে 
.গিয়েছিলেন- এমন কি তার মন, চেতনা ও সবকিছুই তাতে 
বিলীন হয়ে গিয়েছিল। ভগবানকে পেতে হুলে দৃষ্টি ফেরাতে 
হয় সুদূর আকাশের দিকে, অগম্য আকাশের ওপারে নয়ন 
ফেরাই যখন বুঝি তখন নত্যের জ্ঞান আমাদের কতই ন! 
অকিঞ্চিংকর। আমর! বরং দৃষ্টি ফেরাব পৃথিবীর পানে এবং 
সেখানে দেখব সেই পরম তিনি আমাদেরই সামনে । এ সম্বন্ধে 
শ্রীমার এক জ্বলস্ত অভিজ্ঞতা আছে : 
জাপানের একটি রাস্তা, উজ্জ্বল বর্ণের সুসজ্জিত 
স্থশোভিত জাপানী উৎসবের লগ্নে রাস্তাটি আলোকিত। 
তার মধ্যে এই সচেতন সত্তা এগিয়ে চলতে চলতে দেখল 
প্রত্যেকের অস্তরে সমস্তের অন্তরে ভগবান দৃষ্টিগোচর হয়ে 
উঠেছে। একখান! ছোট্টে। হাক্কা ঘর দেখা! গেল, স্বচ্ছ তা, 
একটি মেয়ে তার ভিতরে টাটামীর১৬১ উপর বসে, পরিধানে 
উজ জ্বল সোনার রঙে কাজ করা একখানা বেগুনী কিমোনো । 


১৬০ | 0:825613 210 72016200185 ০. 249 
১৬১। অর্থ--গদি 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ৯৯ 


মেয়েটি সুন্দরী, বয়স প্রায় পয়ত্রিশ আর চল্লিশের মাঝামাঝি। 
সোনালী রঙের-“সামিসেন”-যন্ত্র বাজাচ্ছিল সে। পায়ের কাছে 
বসেছিল একটি ছোট ছেলে- মেয়েটির মধ্যেও দেখলাম 
ভগবান ।৮১৬২ 

শ্রীমার জাপানের রাস্তায় এই ভগবান-দর্শন আর 
ব্রীঅরবিন্দের রাষ্ট্রনৈতিক জীবনে আলিপুর জেলের আবেষ্টনীর 
মধ্যে-_'আশ্রমবাসের' সময়-_ সর্ববভূতে বান্ুদেব-দর্শনের 
লাথে রয়েছে এক অপূর্ব সাদৃশ্য : 

“যে-জেল আমাকে মানব-জগত থেকে আড়াল করে 
রেখেছে সেইদিকে আমি তাকালাম, কিন্তু দেখলাম আমি 
আর উচ্চ দেওয়ালের মধ্যে বন্দী নই; আমাকে ঘিরে 
রেখেছেন বাস্থদেব। আমার সেলের সন্মুখবন্তা বৃক্ষের ছায়ার 
তলে আমি বেড়াতাম, কিন্ত আমি যা দেখলাম তা বৃক্ষ নয়; 
জানলাম তা বাসুদেব, দেখলাম সেখানে শ্রীকৃষ্ণ দণ্ডায়মান 
রয়েছেন এবং আমার উপর তার ছাঁয়। ধরে রয়েছেন । আমার 
সেলের দরজার গরাদের দিকে তাকালাম, আবার বান্থাদেবকে 
দেখতে পেলাম। নারায়ণ দাড়িয়ে থেকে আমার উপর 
পাহার! দিচ্ছিলেন ।”১৬৩ 

এর পর থেকে ভগবানই হলেন শ্রীমার নিত্যসাথী ও 
প্রেমাস্পদ এবং যেমন শ্রীমার কাছে তেমনি শ্রীঅর- 
বিন্দেরও কাছে, প্রেরণ ও অন্তরের বিধি সব-কিছুরই উৎস 

১৬২। ৪5613 8100. 11060109010175 0,251 

১৬৩ | 060210816 9১66০1 


১০০ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


অস্তরস্থ ভগবান_যিনি সর্বভূতাস্তরস্থ ঈশ্বর এবং পরম 
সত্য। 

যতদিন যায়, দিন থেকে সপ্তাহ যায়, সপ্তাহ থেকে মাস 
যায় শ্রীমার সামনে তত তীব্রভাবে, এমন কি অনিবাধ্যভাবে, 
ফুটে উঠেছিল পাধিবলোকে তার ভবিষ্যৎ কর্ম্মধারা। 
সোপানাবলীর শেষ ধাপে তিনি পৌছেছেন, সীমান্তের উনুক্ত 
গহবরে-_অনির্ববচনীয় নিবাণের মধ্যে ঝাপ দিতে উদ্ভত)-_ 
তখনই তাকে ফিরতে হল পৃথিবীর পানে, পাথিব প্রকৃতির 
ভার বহন করতে ও তার “বিষাদের পথ অতিক্রম করতে”। 
কম্ম? সংঘ? কি তার রূপবা কি তার ভবিষ্যৎ-ভাবতেন 
শ্রীমা। যদি পরাজয় হয়? শ্রীমা পেলেন আশ্বাসবাণী 
এইভাবে ২ 

“ভয় নাই, প্রাণ সত্তাকে কর্ম শুরু করতে দেওয়। হবে না) 
তোমারও সংগঠন-সামর্ঘ্যের সমস্ত প্রয়াসকে প্রয়োগ করতে 
বল। হবে না, যতক্ষণ ন। প্রস্তাবিত কম্ম এতখানি বিশাল ও 
সম্পূর্ণাঙ্গ না হয়ে ওঠে যাতে সত্তার যাবতীয় গুণগুলি পূর্ণ- 
ভাবে যথাযোগ্যভাবে ব্যবহার করতে পারে। কাজটি ঠিক 
কি হবে, ত। তুমি জানবে যখন তা এসে উপস্থিত হবে । কিন্তু 
এখন থেকেই আমি তোমাকে জানিয়ে রাখি, যাতে তুমি 
তার জন্তে তৈরী থাকতে পার, তাকে ঠেলে না সরিয়ে দাও । 
আমি তোমাকে আর প্রাণসত্তাকেও- জানিয়ে রাখি 
অনুদ্ধেল সাম্যময় শাস্তিময় ক্ষুদ্র জীবনের দিন চলে যাবে, দেখা 
দেবে প্রয়াসের, বিপদের, অগপ্রত্যাশিতের, ব্যবস্থার অথচ 


'্রীমা-প্রসঙ্গ ১০১ 


তীব্রতার যুগ; এই ব্রতের জন্যই তুমি তৈরী হয়েছ ।...এরই 
জন্যে ত তোমাকে তৈরী করে তুলছি আমি, এরই জন্তে ত 
তুমি নিজেকে স্ুনম্য করে সমৃদ্ধ করে ধরবার একটা সাধনার 
ভিতর দিয়ে চলেছ। কোন রকম কষ্ট প্রয়াস করতে যেও 
না- প্রয়োজন অনুসারে শক্তি আসে ।-"অনস্ত কাল ধরেই ত 
তোমাকে আমি নির্বাচিত করে রেখেছি, পৃথিবীর উপর তুমি 
আমার অপ্রতিম প্রতিভূ হয়ে থাকবে, অদৃশ্যভাবে গোপন- 
ভাবে নয়, প্রত্যক্ষভাবে, সকল মানুষের চক্ষুর সম্মুখে । য! 
হবার জন্যে তুমি স্থ্ট হয়েছিলে তাই তুমি হবে ।”১৬৪ 

শ্রীমা, সেই মা, অলীম যিনি হয়েছেন সীম, ঘিনি মহা- 
কালকে কালের মধ্যে ধরেছেন, এমনি করেই তিনি সম্যক- 
রূপে তৈরী হলেন, তার উপর অপ্রিত বিবর্তনের প্রবাহ 
এগিয়ে নেবার কাজটি সুসম্পন্ন করার জন্যে । এই থেকেই 
শ্রীমা পরমাত্মা ও তার নান! বিভূতির সাথে নিয়তই নিরবচ্ছিন্ন 
আনন্দে যুক্ত । ১৯১৬ সালের ২*শে ডিসেম্বর মাসে করুণার 
পরাকাষ্ঠা প্রভ্‌ শাক্যমুনির কাছে থেকে শ্রীমা পান যে এক 
বাণী তা হলঃ 

“শোন তবে, আমিও ইতস্ততঃ করেছি দিনের পর দিন 
কারণ,ভবিষ্যৎ-দৃষ্টি দিয়ে আমি স্পষ্ট দেখছিলাম আমার বাণী, 
আমার বাণীর পরিণাম কি হবে শেষে-__বুঝাবার ও বুঝবার 
ক্ষমতালোপ। কিন্তু তবুও ত আমি পৃথিবীর দিকে মানুষের 
দিকে ফিরেছি, আমার বাণী ভাদের আমি দিয়েছি। “পৃথিবীর 

১৬৪। ১৬৪ । 75565 2190 7/1০0162010059 70. 253-55 


১০২ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


দিকে, মানুষের দিকে ফিরে দাড়াও--এই আদেশই কি 
সর্ববদ] তুমি শুনছ না তোমার হৃদয়ের মধ্যে ?”১৬৫ 

আবার ১৯১৬ সালের ২৫শে ডিসেম্বরের আগের দিনের 
সন্ধ্যায় নীরবতার মাঝে যে বাণী শুনেছিলেন তারও প্রি- 
লিপি শ্রীমা রেখেছেন : 

“সব তুমি ত্যাগ করেছ, জ্ঞান পর্য্যস্ত, চেতন পর্ধ্যস্ত, তাই 
তোমার হৃদয়কে তুমি তৈরী করে তুলতে পেরেছ যে ভূমিকায় 
তোমাকে নামতে হবে তার জগ্তে_সে ভূমিকায়, দেখতে মনে 
হয়, লাভের অঙ্ক শূহ্য-_ প্রশ্রবণ-উৎসের মত সে কেবল ঢেলেই 
চলেছে তার সমস্ত ধার সকলের জন্, কিন্তু তার দিকে কোন 
ধারাই ফিরে উঠে চলে না; তার অফুরস্ত সামর্থ্য সে গভীর 
অতল থেকে টেনে তোলে, বাহিরে থেকে কোন কিছুর 
অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু তুমি ত এরই মধ্যে অনুভব করতে 
শুরু করেছ এই যেপ্রেমের অফুরস্ত প্রসার তাতে রয়েছে 
কি পরমানন্দ। কারণ প্রেমই ত আপনাতে আপনি সম্পূর্ণ 
পরস্পরের বিনিময় প্রয়োজন তার নাই."'তোমার সিদ্ধির 
পুরস্কার হবে অমূল্য রত্ব এক। ১৬৬ 

এই ম] যেন সুন্দর স্বচ্ছ স্ফটিক-_্বয়ংসম্পুর্ণ ও ভবিষ্- 
কর্মের জন্য প্রস্তুত; মর্ত্যের উপর দিব্যজীবনের জ্যোতির্ময় 
সিদ্ধি সংসাধনের উদ্দোশ্টে সকল শ্রম গ্রহণে প্রস্তত। 

১৬৫ | 01585215 2130 10201090023 0. 260 

১৬৬ | 01985913 2180 10201680101 02, 264-265 


বাইশ 


একদিকে স্বার্থ ও অন্য দিকে নিংন্বার্থ কর্ম, একদিকে 
ব্যক্তিগত উন্নতি সাধনের জন্য কর্ম ও আর একদিকে ঈশ্বরের 
উদ্দেশে যজ্ঞরূপে কর্ম-সমর্পণ-_মধ্যে রয়েছে কি এক বিপুল 
বিস্তার ও উধর ভূমি, কতন। গোঁজামিল ও আপোষ-রফা, 
নিরুদ্ধিগ্নতার কত ন1 মরগ্ভান ও পাস্থশাল! | কিন্তু এ সম্বন্ধে 
কোন সন্দেহ যেন না থাকে : পরেই হোক আর আগেই 
হোক স্বার্থপূর্ণ কর্ম আত্মবিরোধী এবং শুধু সেই কর্মই কর্ণ 
যা হবে “সহজ ও সরল, যার উদ্দেশ্য তোমার করুণ। 
বিকিরণ।৮১৬৭ কর্মের মূল-স্ত্রটি সৌন্দর্যের লীলা ও আনন্দ 
বিচ্ছুরণ বাদ দিয়ে নয়। পুরুষোত্তম কেবল সত্য নন, সুন্দর 
এবং আনন্দও বটে। ১৯১৭ সালের ২৭শে মার্চ নিত্যনৈমিত্তিক 
ধ্যানের মধ্যে এক অপুর্ব “সংলাপ আকারে বাণী” পেলেন 
শ্রীমা। ভক্ত ও ভগবান 'ীড়িয়ে মুখোমুখী; দীর্ঘস্থায়ী 
সর্বশেষ কুয়াস1া অপসারিত হল, আকাশ হল উজজ্বল, 
মেঘমুক্ত এবং নূ্যদেব তার পূর্ণ মাধ্যাহিক দীপ্তি নিয়ে 
উদ্ভাসিত হলেন এবং সঙ্কল্প ও ভবিব্যদ্বাণী সব তৃপ্তির ও 
সম্ভাব্য আশায় পরিপূর্ণ হল: 

“তুমি হবে কাঠুরে, ইন্ধনের জন্ত কাঠের আটি বাঁধবে বলে। 

“তুমি হবে হংসরাজ, পাখা মেলে উড়ে চলবে, তার 
মুক্তাশুভর ছটায় দৃষ্টি সব শুদ্ধ করে দেবে, তার পালকের শ্বেত 
আভায় হাদয় সব তপ্ত করে তৃূলবে। 


১০৪ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


“তুমি সকলকেই পথ দেখিয়ে নিয়ে যাবে তাদের পরম 
সার্থঘকতার অভিমুখে ।৮১৬৮ 

প্রসন্নত1 ও স্বাচ্ছন্দ্য হল তারই, নিদ্রাভঙ্গের পূর্বেকার 
বিশ্রামের মুহুর্ধ তারই, প্রতিবেদনশীল জাপান শ্রীমাকে যে 
অর্ধ্য দিয়েছিল সেই সদিচ্ছার মূল্যবান আভরণ সেও তার। 
আত্মমমাহিত ধ্যানে চিত্ত নিয়ে--যা এখন স্বভাবের মত 
মুদ্রাগত হয়ে দাড়িয়েছে শ্রীমা অসীমকে ক্ষুদ্র বালুকণার 
মধ্যে উপলব্ধি করলেন, মুহুর্তের ক্ষুদ্র পাত্রে চিরস্তনকে 
সংগৃহীত করলেন : 

“আমি দেখতে পেলাম একটি চেরী ফুলের সঙ্গে আমি 
একাত্ম হয়ে গিয়েছি। তারপর এ ফুলটির ভিতর দিয়ে 
যাবতীয় চেরী ফুলের সঙ্গে মিলিত হয়ে গেলাম। তারপর 
চেতনার আরো গভীরে নেমে গিয়ে, একট। নীলাভ শক্তির 
শোতে চলে, আমি হয়ে উঠলাম একেবারে চেরী-গাছটিই, 
আকাশের দিকে আমার বাছুরই মত শাখ! সব পুষ্পার্ঘ্যভার 
নিয়ে প্রসারিত।-*"মান্ুষের দেহ আর গাছের দেহে কি 
প্রভেদ? কোনই প্রভেদ নাই বস্তত--যে চেতনা উভয়কে 
অনুপ্রাণিত করে তা এক অভিন্ন ।৮১৬৯ 

“আকাকুরা” সহরের বিরাট পর্বত ও তাদের অসীম 
শাস্তির পরিবেশে, তাদের মনোরম নীরবতা ও অথগ্ড 

১৬৭। 19250152150 11201620015 0. 271 
১৬৮। 59052158110 71120129610189 0. 277 
১৬৯। 10125515 2130. 1120109001)5 190. 281-82 


ভ্রীমা-প্রসঙ্গ ১০৫ 


সৌষম্যের সঙ্গে অপূর্ব একাত্মতায় শ্রীমার হৃদয় স্পন্দিত 
এবং এইরূপে তিনি “তোমার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন একাত্মতার 
অখণ্ড আনন্দ” অনুভব করেন । স্ূর্ধয-কিরণের মাঝে শীকর- 
সম্পাতের মত, উৎফুল্ল শিশুর মত, তিনি হাসেন, কাদেন 
এবং তার পরমেশ্বর ও প্রেমিকের সাথে অনস্তকালের জন্য 
একাত্মতায় আবদ্ধ । 


তেইশ 


ওইওয়েক, ৩র! সেপ্টেম্বর, ১৯১৯ 

সেদিনটি হল ভাগ্য-নির্দেশের দিন। শ্্রীমা লিপিবদ্ধ 
করলেন যে, “এত অনুরাগ দিয়ে, এত যত্ব দিয়ে যে ভোজ্য 
আমি তৈরী করলাম, মানুষ তা চাইল ন, তাই ভগবানকে 
ডাকলাম গ্রহণ করতে ।৮”১৭০ কিছুক্ষণ থেকেই শ্রীমা আবার 
লিখলেন এই প্রসঙ্গে, “ভগবান তুমি ত গ্রহণ করলে আমার 
আমন্ত্রণ, আমার পাতা আসনে এসে বসলে আর আমার 
এই তুচ্ছ অকিঞ্চিংকর নৈবেছ্ের পরিবর্তে আমায় দান করলে 
শেষ মুক্তি-'-ধাপে ধাপে আমি উঠে গিয়েছি শেষ চূড়ায় 
যেখানে রয়েছে নবজন্ম। সমস্ত অতীতের যতটুকু এখনে। 
অবশিষ্ট তা হল বিপুল এক প্রেমাবেশ, তা আমায় দিয়েছে 
শিশুর নির্মল হৃদয় আর দেবতার ভার-হার! মুক্তচিস্তা ।”১৭৯ 

ঠিক এর পরের প্ধ্যান ও প্রীর্ঘথন।” হল পণ্ডিচেরী থেকে 

১৭০ | 19120152150. 1০316561015 0১. 291. 

১৭১ | 1919501:3 2150. 1০016201013 0. 292 


১০৬ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


২২শে জুন ১৯২০ সালে। শ্রীম। শ্রীঅরবিন্দ আশ্রমে অবস্থান 
করতে এলেন, তাতে তার “সস্তানেরা” খুবই খুশী এবং 
গুরুদেব আশ্বাস দিলেন যে তারই কর্ৈষণার উদ্দেশ্ঠ শ্রীমাকে 
আকর্ষণ করে এসেছে । ঠিক এই দিব্যকর্মের জন্তই তাকে 
বিভিন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে নিয়ে আসা, ক্রমে গড়ে তোলা 
ও দীর্ঘ বংসর ধরে আত্ম-কর্তৃত্ব ও আত্ম-শুদ্ধির ক্রমোন্নতির 
জন্যে শিক্ষা প্রদান । মনে হয় যেন শ্ত্রীমা ঠিক এই উদ্দেশ্টু- 
সিদ্ধির জম্তই জগতে আবিভূতি1 এবং ধীরে ধীরে তার দেবত্বকে 
সংযত করে বিবর্তনের ধারার পথে নামভূমিকায় প্রধানার 
কাজ করে যাবেন; এর প্রমাণ রয়ে গেছে শ্রীমার ২২শে জুন 
১৯২০ সালের লেখাতে--“কোন ভাষায় প্রকাশ কর যায় 
না, করুণ করে তুমি আমায় দিয়েছিলে এমন আনন্দ, হে 
আমার দয়িত ভগবান; এখন তুমি দিয়েছে আবার পরীক্ষা 
যুদ্ধ, কিন্ত একেও আমি হাসিমুখে গ্রহণ করেছি, তোমার 
মহান বার্তাবহরূপে। একদিন ছিল যখন সংঘর্ষকে আমি ভয় 
করতাম--শাস্তির উপর সম্মেলনের উপর আমার যে আস্তরিক 
অনুরাগ ত1 ব্যাহত হয় বলে। কিস্তু এখন, ভগবান, আমি 
ওকে সানন্দে বরণ করে নিয়েছি***1৮১৭২ 

কর্মবছুল জীবন থেকে অবসর নেওয়ার পর প্রথম দিকে 
শ্রীঅরবিন্দের সঙ্গী ছিলেন মাত্র চার পাঁচজন, যারা আজীবন 
আম্ুগত্যের রেশমী সুতার বন্ধনে বাধা ছিলেন, যে সম্পর্কের 
তুলনা অতি বিরল। একে একে অনেকেই পগ্ডিচেরী মুখে 

১৭২। [১:8618 21) 11০31200199 ১. 272 


শ্রীমা প্রসঙ্গ রর 


আকধিত হলেন এবং তারা সকলেই শ্রীঅরবিন্দের অধ্যাত্ম 
পথ অনুসরণ করতে লাগলেন ; “আর্য” পত্রিকার বাণী ও 
তার অন্তরালে যে ব্যক্তিত্ব ছিল তা অনেক অধ্যাত্-অন্ু- 
সন্ধিৎস্কে পণ্ডিচেরীর দিকে প্রলোভিত করল । ক্রমশঃ 
গ্রীঅরবিন্দকে ঘিরে গড়ে উঠল একটি কেন্দ্র। ১৯২০ সালে 
এই কেন্দ্রে যোগ দিলেন শ্রীমা। তিনিও দেখতে পেলেন 
তার ভগবদ্দত্ত ভবিষ্যৎ কর্মধারা এবং এই সময় থেকেই 
গ্রীমরবিন্দের আদেশে আশ্রম সংগঠনের দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব 
গ্রহণ করলেন স্বহস্তে। ধীরে ধীরে নব আগস্তকের সংখ্যা 
বন্ধিত হতে লাগল, নূতন নৃতন বাসস্থানও সংগ্রহ হতে 
লাগল । আহারের সুব্যবস্থার জন্য, সুন্দরভাবে, স্বাস্থ্যকর- 
ভাবে বাস করার জন্ত আশ্রমের সকলের ভৌতিক, আধি- 
ভৌতিক উন্নয়নের জন্ত বন্দোবস্ত করার প্রয়োজনীয়তা 
ঘটল। এ সব কাজের দায়িত্ব গ্রীমার হস্তে অপিত হল ও 
ক্রমশঃ কর্মবহুলতার আয়তন ও জটিলতাও বদ্ধিত হয়ে 
চললে।। যখন চিত্ত করি কিরূপে তিনি এ ভার বহন করে 
চলেছেন, কিরূপে তিনি কতকগুলি সুক্ষ অদৃশ্য চক্রকে বিন! 
সংঘর্ষে ও একত্রে চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, কিরূপে তিনি তার 
অলৌকিক বহুবিধ একমুখিতা ও শতমুখী কর্ম্ধধারাকে প্রতি- 
নিয়তই পুনরাবৃত্তি করেন তখন মনে হয় এ সবই আমাদের 
সাধারণ ধারণাশক্তির অতীত। 

যখন সাধকমগ্ডলীর সংখ্যা কম ছিল তখন তার শ্রীমার 
সাথে নানাবিধ মূল্যবান আলোচনায় যোগ দিত; এর উপর 


১০৮ শ্রমা-প্রসঙ্গ 


তার! গুরুর সাথেও নিয়মিত পত্রালাপ বজায় রাখত। এই 
“আলোচনা?” ও “আলাপ” গ্রন্থাকারে সংকলন করে স্থয়ংপূর্ণ 
“মায়ের আলাপ” নামে অভিহিত হয়েছে__এটি শ্রীঅরবিন্দ 
ও শ্রীমার পূর্ণযোগের এক সহজ ও প্রত্যয়জনক অবতরণিক]। 
কোন কোন গৃুঢ় রসাত্মক “মাতৃবাণী” জবলস্ত চিত্রের মত 
পরিবেশিত রয়েছে যার মধ্যে তাদের যোগসাধনার মূল সত্রটি 
উদ্ভাসিত, যেমন : 

“স্ুখই জীবনের লক্ষ্য নয়। 

সাধারণ জীবনের লক্ষ্য হল আপন কর্তব্যসাধন ; 

আধ্যাত্মিক জীবনের লক্ষ্য হল ভগবৎ-উপলন্ধি।৮১৭৩ 


“ভগবৎ চেতনায় লুপ্ত হয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য নয় ঃ 

আমাদের লক্ষ্য হল দিব্য চেতনাকে জড়ের মধ্যে অন্ভু- 
'প্রবেশ ও রূপান্তরিত করতে দেওয়া ।৮১৭৪ 

এই “মায়ের আলাপ”-এর বিষয় ক্ষেত্র বিস্তৃত, তার 
নানাবিধ বক্তব্যের কতকগুলি হল: যোগের প্রস্ততি; 
অলৌকিক দর্শন ও আধ্যাত্মিকতা; জোয়ান অব আর্কের 
অলৌকিক দর্শন; ধ্যান ও সমর্পণ; মুক্তি ও অনৃষ্টবাদ; 
আস্ুরিক শক্তি; যুক্তি ও বিশ্বাস; রক্তশোষক বাছড় ; 
চিন্তার শক্তি; আত্মিক জগতের সর্তীবলি; মানবীয় ও 
ভগবং-প্রেম ; ধর্মের প্রকৃত রূপ ; যৌগিক চেতন; শিল্পকল! 

১৭৩। ড/01:05 ০ 1,077 4১৪০ 2. 22 

১৭৪। ৬৬/০:৫$ ০0: 14038 480 7. 82 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ১৩০৯ 


ও যোগ সমর্পণ ও যজ্ঞ, ইত্যাদি। স্থপরিচিত, বন্ধুবৎ, 
কথোপকথনছলে এই যে সব শ্রীমায়ের কথা তা আমাদের 
অন্তরে ধীরে ধীরে ও অকাট্যভাবে আলাপের অর্থটি চিরতরে 
পৌছে দেয়। প্রমাণ স্বরূপ ব্যাখ্যাপুর্ণ ছুই একটি বাক্যের 
উল্লেখ করা যায় এখানে,__-“প্রেম সে এক পরমাশত্বি, অনস্ত 
চেতন! যাকে পুবিবীর তমসাচ্ছন্ন ও নিবিড় অজ্ঞানতার মাঝে 
নামিয়ে দিয়েছেন যাতে সে আবার পৃথিবী ও তার সব 
জীবদের ভগবানের দিকে পুনরুখিত করতে পারে । জড়জগৎ 
তার অন্ধকার গু অজ্ঞানতার মাঝে ভগবানকে বিস্তৃত করে 
ফেলেছে । প্রেম স্পর্শ করল তিমিরকে, জাগিয়ে তুলল তাদের 
সকলকেই যার! ছিল ঘুমিয়ে, রুদ্ধ কানের আবরণ দিল খুলে, 
আর বলল তাদের কানে কানে-“এমন একটা কিছু আছে 
যার জন্ত সজাগ থাকা, বেঁচে থাকার মূল্য আছে, সে হল 
প্রেম। আর সেই প্রেমের জাগরণে ভগবানের কাছে 
প্রত্যাবর্তন করার সম্ভাবনাও অনুপ্রবিষ্ট হল। স্যপ্টির এই যে 
উদ্ধ গতি সে তো৷ হল ভগবানের উপর ভালবাসার মাধ্যমেই। 
তারই প্রত্যুত্তরে ভগবৎ-প্রেম ও করুণা পৃথিবীর উপর প্লাবিত 
হল স্থট্টির সাথে মিলন-অভিসারে ।৮১৭৫ 

“শিল্পকলার সুশুহখলার মাঝে যে মৌলিক আদর্শ আছে, 
তা যোগের স্থশৃঙ্খলারই লমপর্ধ্যায়তুক্ত। এ ছুয়েরই লক্ষ্য 
হল আরও বেশী করে সচেতন হওয়া । এ ছয়েরই মাধ্যমে 
সাধারণ দৃষ্টি ও অনুভূতির অতীতে য। আছে তাকে দৃষ্টি ও 

১৭৫। ড/০0:45 ০৫ 5০ 7100561: 0০, 14445 


১১০ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


অন্থভবের মধ্যে আনা, আর এ সবেরই অন্তরে প্রবেশ করে 
তার ভিতর থেকে গৃট় রহস্ত উদ্ঘাটন করতে হবে-*"ত1 যদি 
হয় তবে এই যৌগিক চেতন! শিল্পীর স্যপ্টিকে সাহায্য করবে 
না কেন 1১৭৬ 

গুরুদেবের পত্রাবলীর ন্যায় (“যোগসাধনার ভিত্তি” 
«“যোগের পথে আলো? «গ্রীঅরবিন্দের পল্রাবলী” নামে যে 
সব পত্র পুস্তকাকারে সংকলিত হয়েছে ) “মাতৃবাণী” ও দিব্য- 
জীবন সাধনাকে শতছন্দে ছন্দায়িত করবার আমন্ত্রণ জানায় । 


চবিবশ 


শ্রীমা যখন পগ্ডিচেরীর যোগাশ্রমে যোগদান করেন 
তারপর প্রায় বত্রিশ বছর (১৯৬ সালে আশ্রমবাস ৪০ বতমর 
পুর্ণ হল) অতিবাহিত হল। না, এক মুহূর্তের জন্যেও না, 
তার বিশ্বাস কখনও টলেনি। তমিভ্রা যেমনি এসেছে কাছে, 
তেমনি দূরে সরে গিয়েছে, এবং বিলুপ্তও হয়েছে, বিশ্বাসের 
পথের উপর পড়েছে সন্দেহের ছায়া এবং তা-ও আবার 
আপনিই নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে এবং নব পৃথিবী, নব ত্বর্গের 
রচন। প্রতিনিয়তই হয়ে চলেছে অবাধে, নিংশবকে । মাঝে 
মাঝে সচরাচর নববর্ষের প্রারস্তে, কালের সম্কটমুহুর্তে সারা 
মানবের এষণাকে প্রতিমূর্ত করে শ্রীমা “প্রার্থনা” গুলি 
সুত্রাকারে পরিণত করেছেন এবং এই প্রার্থনাগুলি-_-বিশেষ 
করে নববর্ষের যেগুলি-__ব্যধিত মানবের আশ ও তৃষাকে 

১৭৬ | ০:45 0£ 006 11060610191 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ১১১ 


দিয়েছে আকার ও তীব্রতা, লক্ষ্য ও গতি। যুদ্ধের প্রাক্কালে 
ও অবসানে রচিত কতকগুলি প্রার্থনার ব্যঞ্জন! ও শ্য্টিশক্তির 
এশ্ব্যে প্রত্যক্ষ £ 

“১৯৪০ 

এ বছর হল নীরবতার ও প্রতীক্ষার বৎসর." 

হে ভগবান, আমরা যেন খুঁজে পাই আমাদের পূর্ণ 
অবলম্বন একাস্তভাবে তোমার করুণায় |” 

১৯৪৪ 

হে ভগবান, পৃথিবী তোমার কাছে মিনতি জানায় যাতে 
সর্বদাই সেই একই নিরুদ্ধিতার মাঝে বারে বারে প্রত্যাবর্তন 
না করে। 

আশীর্বাদ কর, বর দাও যেন স্বীকৃত ভুল নৃতন করে 
পুনরাবৃত্ত না হয়। 

সর্বশেষ আশীর্বাদ কর যেন এদের কর্মাবলী সঠিক হতে 
পারে এবং প্রচারিত আদর্শের আন্তরিক অভিব্যক্তি হতে 
পারে।” 

+“১৬ই আগস্ট), ১৯৪৫ 

তোমার বিজয়, ভগবান, তোমার বিজয় হয়েছে, সেজন্চো 
তোমাকে আমাদের অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই। 

কিন্ত এখন আমাদের প্রজ্বলস্ত প্রার্থনা উঠে চলেছে, 
তোমার দিকে । বিজয়ীরা জয় করে শুধু তোমারই শক্তিতে 
ও তোমার শক্তির দ্বারা। আশীর্বাদ কর, বিজয়ের সময়ে 
তারা যেন তোমায় ভুলে ন। যায় এবং বিপদের উদ্ছিগ্নরতার 


১১২ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


সময়ে তোমার কাছে যে প্রতিজ্ঞা তার করেছিল তাও যেন 
রাখে । তারা তোমার নাম নিয়ে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়েছিল, আর 
তারা যেন শান্তি স্থাপনের সময়ে তোমার করুণার কথা ভুলে 
না যায়।” 

১৯৪৭ সালে ১৫ই আগষ্টে “ভারতমাতাকে আবাহন+ 
বিশেষ অর্থপুর্ণ নু 

*মা আমাদের ভারতের আবত্মশক্তি মা তুমি, তোমার 
সম্তানদের কখন ছেড়ে যাওনি তুমি, গাঢতম অবসাদের দিনেও 
এমন কি যখন তার তোমার কথায় কর্ণপাত করেনি, সেব। 
করেছে অন্ত ইষ্ট, অস্বীকার করেছে তোমায় তখন পর্য্যস্ত-_ 
এখন তার! ফিরে -উঠে দাড়িয়েছে, তাই তো! এই মুক্তি- 
উধায়, এই দিব্য মুহুর্তে যখন জ্যোতি ফুটে উঠেছে তোমার 
মুখমণ্ডলে, প্রণতি জানাই তোমায়। পথ দেখিয়ে নাও 
আমাদের-_যাতে মুক্তির উন্মুক্ত প্রসার নিয়ে যায় সত্যকার 
মহত্তর প্রসারে, নিয়ে যায় জ্যোতি-সমূহের সম্মেলন ক্ষেত্রে, 
তোমার সত্যকার জীবনধারায়। পথ দেখিয়ে নাও যাতে 
আমরা সর্ধ্ধদ1! যেন মহৎ আদর্শের পথে দীাড়াই, মানব- 
জাতিকে দেখাতে পারি তোমার সত্যকার স্বরূপ,__অধ্যাত্ম 
সাধনার পথে দিশারী, সকল লোকের মিত্র ও সহায়।” 

শ্রীঅরবিন্দ আশ্রম আজ হয়ে উঠেছে পৃথিবীর ক্ষুত্র 
সংস্করণ একটি। আশ্রমবাসীর সংখ্যা প্রায় ১৮০০ এবং “শ্বেত 
সহরটি” জুড়ে ও এমন কি তাকে ছাড়িয়ে অসংখ্য বাসভবনে 
তার। বাস করে। 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ১১৩ 


“গোলকুণ্ডা” আশ্রমের একটি অতিথিভবন, মহাকায ও 
খুবই চিত্তাকর্ষক । ছাপাখানা, দণ্তরীখানা, হঞ্ধকেন্দ্র, রুটির 
কারখানা, ভাক্তারখানা, গ্রন্থাগার, পাঠঘর, বিদ্ভালয়--*অনেক 
প্রাণবস্ত বিভাগের মধ্যে এগুলিও আশ্রমের সৌন্দর্য্য ও 
সজীবতা বৃদ্ধির সহায়তা করে । 

মহীশ্‌র বিশ্ববিষ্ভালয়ের সহকারী-অধ্যক্ষ ডাঃ সি, আর, 
রেড্ডী বলেন : 

*-...**এই অপুর্ব আশ্রমে, জীবন ও জীবন-আনন্দের 
সাথে আধ্যাত্মিকতা ও আধ্যাত্মিক উন্নতির এক আনন্দপুর্ণ 
একত্বতা ঘটেছে । যেন বেদের অস্থায়ী আবাসটিকে পগ্ডি- 
চেরীতে পুনবর্ববন করা হয়েছে । 

কিন্তু অপুর্ব মা, জাগ্রত প্রতিভা এবং মহান প্রভু-সম্ুন্ধ, 
অনুপ্রাণিত আত্মা : এখানেই আমর! পাই পুরুষ ও প্রকৃতির 
অন্ুভবনীয় প্রতীক, ধারা জীবন, আলো ও সামগ্রিক আনন্দ 
বিচ্ছরিত করেছেন ।-*-যদি কেউ মনে করে থাকেন যে পরম? 
প্রীম! সন্গ্যাসীর নির্মমতা এবং অবিরাম ভ্রকুটির অনুশীলন 
করবেন, তা হলে তার! ভূল করবেন। তিনি সন্ন্যাদিনী নন। 
তিনি টেনিস খেলেন! দেবদেবীর সর্বদাই জ্যোতির্ঘায়। 
এবং এই মহামিলনের উৎসবে এসে মিলেছে পুরুষ, নারী ও 
বালখিল্যেরা--তাদের হৃদয়ে ভক্তি, চোখে ব্যবহারে কথা- 
বার্ত।য় প্রেম, আলো ও আনন্দ ।৮১৭৭ 

আশ্রমে রুক্ষ সন্ন্যাসীভাবের স্থান সামান্তই, প্রায় নেই 
১৭৭ । 2100001: 17019. 3:0. 92661001১21 1949, 
শ্রীমা-৮ 


১১৪ শ্রীমা-গ্রসঙ্গ 


বললেই চলে। রত্বগিরির নিরাল। পল্লপবছায়ায় বসে সিদ্ধার্থ 
বুঝেছিলেন বিষ যোগী ও ভিক্ষুদের জীবন নিরানন্দ ও 
অদিব্য। এরপ স্ব-কৃত নরকের তুলনায় কবি দাস্তের “ইন- 
ফার্ণো” যেন একটি স্বাস্থ্যনিবাস । *্শ্রীমা কেন মুল্যবান ও 
সুন্দর পোষাক পরিহিত করেন” এ প্রশ্থের মুখে পাণ্টা প্রশ্ন 
করে শ্রীঅরবিন্দ বলেন, “এই কি তোমার অভিমত যে 
ঈশ্বরের প্রকাশ হবে এ পৃথিবীতে দারিদ্র্য ও কুৎসিতের 
প্রতীক হয়ে 1১৭৮ ঈশ্বর যদি পরম সত্যই হন, তাহলে তিনি 
পরাশক্তি, পরাজ্ঞান, আনন্দ, পরমন্ুন্দর ; সৌন্দর্য্য ও 
আনন্দকে জোর করে চেপে রাখলে সত্য হারায় গৃঢ় অর্থ, 
দীপালী তার আলোকজ জল শুভ্রতা। নিরাশাবাদীর ভাণ্ড ও 
চার্বাকীর কুপ্ত ছুই-ই নিয়ে যায় বিপথে । অনশন আত্মহত্যার 
পথ দেখায় এবং তার. চেয়েও গ্রুব বিনষ্টির দিকে ঠেলে দেয় 
অতিভোজন-লালসা। একমাত্র মধ্যপথটি, হিরক-খচিত 
মঙ্গলময় পথটি পথ দেখিয়ে নিয়ে যেতে পারে “নিষ্ষম্প 
কেন্দ্রের দিকে । সত্যকার সাধকের চিন্তা প্রচেষ্টা, আনন্দ এ 
সবই যজ্ঞ হিসাবে অর্পণ করে এবং আম্পুহার প্রজলস্ত শিখায় 
রূপান্তরিত হয়ে কম্বুরেখ! রচন1 করে অরুণোদ্দীপ্ত ন্বর্গে উঠে 
চলে। মহা আনন্দের পথ খুলে দেয় যা তা হল শাস্ত 
প্রসারতা,, প্রদীপ্ত সমতা জীবন্ুক্তের সমৃদ্ধ প্রসন্নত1। গ্ীঅর- 
বিন্দ তার অনেকগুলি পত্রে খুবই পরিষ্কার করে দেখিয়ে 


১৭৮ | [20065 0 511 £101150 07511006 70001761, 
0. 152 


এরপরও হাতা ও 


শ্মা"প্রসঙ্গ ১১৫ 


দিয়েছেন আশ্রমজীবনে এবং বিবর্তমান পাধিব চেতনার 
বিরাট নাট্যশালায় দিব্যমানবী শ্রীমার ভূমিকা: 

“ভগবান মানবী তন্থু পরিগ্রহণ করেন যা"তে মানুষ পরে 
দিব্য চেতনায় উঠে যেতে পারে ।৮১৭৯ 

“একটি মাত্র দৈব শক্তি আছে যা বিশ্বে, ব্যগিতে কাজ 
করে চলেছে এবং সে শক্তি ব্য ও বিশ্বেরও অতীতে । স্ত্রী! 
এ-সবেরই জন্তে নির্বাচিত প্রতিনিধি । কিন্তু তিনি এখানে 
কাজ করেন মান্ুষী তনু নিয়ে-_-এমন এক শক্তি যা আজও 
পধ্যস্ত জড়জগতে প্রকট হয়নি তাকে অবতরণ করাতে, যাতে 
এ জীবন এখানেই রূপান্তরিত হয় ৮১৮০ 

আশ্রমে যে সব শিক্ষাকেন্ত্র আছে এবং সে-দসব দেখে 
অন্যদের মতে ডাঃ রেড্ডীও বলেছেন যে প্রাচীন তপঃশক্তি 
তেজ ও আনন্দ তাদের ঘিরে রেখেছে”। শ্রীমার উদ্দ্ধ 
পরিচালনায় আশ্রমের ছেলেমেয়েদের দেহের গঠনের জন্য 
বিভিন্ন শ্রেণীর বিভিন্ন ধরনের ব্যায়াম অনুশীলন করান হয় 
এবং “বুলেটিন অব শ্রীঅরবিন্দ ইণ্টারন্তাশানাল সেপ্টার অব 
এডুকেশন” দ্বি-ভাষিক পত্রিকায় আশ্রমজীবনের নানারূপ 
অসামান্ত কার্যযাবলীর বিবরণী.ও ছবি পরিবেশন করা হয়। 

ডাঃ রেডী গুরুদেব ও শ্রীমাকে পুরুষ ও প্রকৃতির প্রত্যক্ষ 
প্রতীক বলে অভিহিত করেছেন এৰং বাস্তবিকই শ্্রীম। 

আশ্রমে বিশ্বের আগ্ভাশক্তিরই অনুরূপ স্থান অধিকার করেন। 

১৭৯। 1,266215 01 511 21201010500 01811021106: ০. 142 
১৮০ | [660215 0: 50 2981:0010060 01006 11001079100, ০-৫ 


১১৬ ৃ শ্রমা-প্রন্ঙ্গ 


যে ভাবেই হোক না কেন, সাধকের কাছে শ্রীমা হলেন 
পরমারাধ্য। মা, ঈশ্বরী মা; যোগাশ্রম বলতে শ্্রীমা, আবার 
শ্রীমরবিন্দেরও সেই আশ্রম । আশ্রম অর্থে যা-কিছু তাই-ই 
শ্রীমা ও শ্রীঅরবিন্দ। 

এখন অবশ্য শ্রীঅরবিন্দ সব কিছুরই অস্তরাঁলে,আর শ্রীম। 
হলেন সাধক সাধিকাদের আস্তর ও বহিজীঁবনের প্রত্যক্ষ 
পরিচালিকা। তার আধ্যাত্মিক মাতৃরূপ আমাদের আর 
সন্দিপ্ধ করে না, কারণ শ্রীঅরবিন্দ জনৈক পত্রলেখককে এ 
বিষয়ে পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন £ 

“গ্রীমা ও যার! তাকে গ্রহণ করে এই উভয়ের সম্বন্ধ হল 
নিগৃঢ় ও আধ্যাত্মিক মা-ছেলের ; এ সম্পর্ক পাধিব মায়ের 
সঙ্গে সম্ভানের যা তার চেয়ে অনেক মহান; মান্ুষী মায। 
দেন ইনি তা দেন, কিন্তু অনেক মহত্তর ভাবে এবং এর মধ্যে 
আছে সম্পদের অফুরস্ত'"" | এই যে, আধ্যাত্মিক মাতৃত্ব তা এ 
আশ্রমেরই নূতন স্ষ্টি নয়; এ হল চিরস্তন সত্য যাকে 
পাশ্চাত্য ও এশিয়া! বুযুগ আগে থেকেই মেনে নিয়েছে। 
পাঁধিব সম্বন্ধ এবং চেত্যপুরুষ ও আধ্যাত্মিক সম্বন্ধের 
মধ্যে যে পার্থক্য আমি দেখিয়েছি তাও নৃতন আবিফ্ষার 
নয়; এ ভাব সর্বস্থানে জানা আছে ও উপলব্ধি কর! 
হয়েছে, সম্পূর্ণ সহজ ও সরল ভাবে সকলেই স্বীকার করে 
নিয়েছে ।”১৮১ 


১৮১ । [96615 0: 9101 20109015700 00106 1001)21, 0, 
95-96, 


শ্রীমা-গ্রদঙ্গ ১১৭ 


পণ্ডিচেরীর যোগাশ্রমে শ্রীমা সাধকদের যা বলতে চান 
তা তার। আকাশ বাতাসের পরিবেশের মধ্যেই অনুভব করে 
কিন্ত সে অনুভূতিকে কোনরূপ যুক্তি দিয়ে শ্রেণীভুক্ত করা 
যায় না। কোন ক্ষণিকের অতিথির যদি চোখ, কান সক্রিয় 
থাকে তা হলে তিনি তা নিজেই অনুভব করতে পারবেন। 
যদি আমাদের কল্পিত দর্শকটি শ্রীমাকে সশরীরে দেখতে ন। 
পান কিন্বা দেখেও তার মধ্যে অলৌকিক কিছু না পান, তা 
হলে তিনি যেন সাধকদের দিকে নজর দেন। সাধকদের 
গ্রীমায়ের উপর একান্ত ভক্তি_-যখন তার! শ্রীমাকে দর্শন 
করে, প্রণাম করে, তখন তাদের মধ্যে অনেকেই এক অভূত- 
পূর্ব প্রফুল্ল আত্ম-বিন্মৃতির ভাব প্রকাশ পায়__যে সংযত 
আগ্রহ ও মন্ত্রমূদ্ধ নীরবত] নিয়ে মায়ের সামনে প্রতি সন্ধ্যায় 
তার! ধ্যানে বসে-_এ সবই আমাদের অতিথিটির চিস্তাঁর 
খোরাক যোগাবে । আর চিন্তা দৈব অশ্বের মত বাহন হয়ে 
পৌছে দেবে দূর বিশ্বাসের রাজ্যে। একজন চীন! পণ্ডিত, 
প্রফেনর তান ইয়ুন সান, অল্প কয়েক দিন আশ্রম পরিদর্শনের 
পর তার মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন এই ভাবে £ 

“আশ্রমের শ্রীমা কি মধুর! তিনি যে শক্কিময়ী তা 
প্রত্যেকেই অনুভব করতে বাধ্য। আমি অনুভব করলাম 
যেন, এই ধার সঙ্গে কথা বলছি তিনি আত্মার সম্পর্কে 
আমার নিকটতম। বাস্তবিকই তিনি সকলেরই ম 
এবং আশ্রমে যা-কিছু রূপায়িত হয়েছে মে সবই তার 
পরিচালনায় ।* 


১১৮ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


আর একজন দর্শক, ইংরাজী সাহিতোর অধ্যাপক, এ 
প্রবন্ধের লেখককে বলেছিলেন যে শ্রীমাকে প্রণাম নিবেদন 
করার পর তিনি হৃং-পুরুষের এমন প্রবল উত্তেজনা ও আনন্দ 
অনুভব করলেন যে সারারাত জেগে কাটাতে হল। বিশ্ব- 
ভারতীর ভূতপূর্বব অধ্যাপকও এখন আশ্রমবাসী, শ্রীশিশির 
কুমার মিত্র মহাশয় যখন প্রথম গ্রীমাকে দর্শন করেছিলেন 
১৯৩৯ সালে তখন অভিভূত ও মোহিত হয়ে আবেগভরে 
লিখেছিলেন £ 

“তিনি (শ্রীমা) অনস্তযৌবনা! ও চিরতারুণ্যের মূর্ত 
প্রতীক। তিনি রাজরাজেশ্বরী, সবদেবতার উপাস্ত তার 
দিব্যসাথী, যিনি সব্বক্ষণই আর্ত সন্তানদের অভয়দান করছেন 
এবং তার স্বগাঁয় মৃছ হাসির মধ্যে আছে তাকে গ্রহণ করা ও 
অমরত্ব লাভ করার সম্সেহ মৌন আহ্বান ।৮১৮২ 

শ্রীঅরবিন্দের ম্যায় তিনিও পবিত্রতম শুদ্ধতায় দ'প্ত 
ভক্তিমূলক কবিতা লেখার জন্ভ অনেককে অনুপ্রাণিত 
করেছেন__-একজন পুঞ্জালাল, আর একজন নিশিকাস্ত, একজন 
দিলীপ কিংবা একজন নীরদবরণ, একজন আণর্জব বা আর 
একজন অমল--এর1 সকলেই কবিতাকে মাধ্যম করে আত্ম- 
প্রকাশে নিযুক্ত এবং কবিতাগুলিকে শ্রীমা ও শ্রীঅরবিন্দের 
চরণে অর্ধ্য হিসাবে নিবেদন করে। পূর্ণ যোগ সাধনার মুল : 
কথা হলঃ “ম্মরণ কর, অর্পণ কর,” এই ভাবে শ্রীমার 


হও ড চ হ ওভ ৪৪ ৪ 5৩৫৩ ০ এজ 60০ ও জজ জর ৪ জব 


১৮২। 914 400101100--4 17070886021 


০২১৬৬১৬০৯০৯ 


শ্রীমা-গ্রসঙ্গ ১১৯ 


ইঙ্গিতে ১৮৩ সম্পন্ন, আত্মসমর্পণ হিসাবে সব কিছুই তাকে 
অর্পণ কর। হয়। 


পঁচিশ 


বছুদিন আগে ১৯১২ সালে শ্রীমা লিখেছিলেন “জড় 
প্রকৃতির বূপাস্তর ও সৌষম্য ঘটান যেতে পারে ছুটি উপায়ে, 
সে-ছুটি দেখতে যদ্দিও সম্পূর্ণ বিপরীত, তবু তাদের একসঙ্গে 
হতে হবে--পরস্পরের উপর কাজ করতে হবে, পরস্পরের 


প্রতিপূরক হয়ে। 

(ক) ব্যগ্টিগত রূপাত্তর, এক আত্তর বিকাশ যা নিয়ে 
যাবে দিব্য সান্নিধ্যের ভিতরে । 

(খ) সমাজগত রূপান্তর, এমন এক পরিবেশের স্থটি যা 


হবে ব্যট্টির প্রস্ফুটন ও উদ্ধায়নের অনুকূল । 
যেহেতু পরিবেশ ব্যগ্টির উপর প্রতিক্রিয়া করে আর 


১৮৩। শ্রীঅরবিন্দের কোন কোন চিঠিতে আশ্রমে শ্রীমার স্বান 
সম্বন্ধে উল্লেখ আছে। কোন একজনের কাছে তিনি ঘোষণ1 করলেন 
যে *শ্রীমায়ের চেতনা ও আমার চেতন1 এক, একই দিব্য-চেতনার ঠঘত 
প্রকাশ, কারণ লীলার জন্তে তা প্রয়োজন,” আর এক চিঠিতে তিনি. 
বলেছেন যে সাধকদের, শ্রীমায়ের কাছ থেকে আলো ও শক্তি গ্রহণ 
করার বন্দোবস্ত তিনি নিজেই করেছেন এবং “সরাসরি আমার কাছ 
থেকে নয়- এব্যবস্থা যে আমি করেছি তা কোন ক্ষণস্থায়ী উদ্দেশ্য 
নয়, বরং এই--এ একমাত্র কার্ধকরী লত্য ।” (17206515 0£ 921 
4১000150001 0006 0100061 20. 10711) 


১২০ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


অপরপক্ষে পরিবেশের মূল্যও নির্ভর করে ব্যপ্টিজীবনের 
মূল্যের উপর, তাই ছুটিরই কাজ চলবে যুগপৎ ও পাশা- 
পাশি।”১৮৪ এ সব প্রতিপুরণ প্রতিক্রিয়াগুলি শুরু করতে, 
তাদের কধ্যকরী করতে, শাসনাধীনে আনতে ও সুমংবদ্ধ 
করে তুলতে পারার আগে শ্রীমার হয়তো কয়েক বংসরই 
কেটে গেল । শ্রীঅরবিন্দ শ্রীমার ম্যায় ছজন অপূর্বব শক্তিশালী 
আধ্যাত্মিক শাক্তকে একত্র হতে হয়েছিল প্রথম ১৯১৪ সালে 
ও দ্বিতীয়বার ১৯২০ সালে এবং হুজনেই দিব্য-জীবনের 
মহিমা্বিত প্রাসাদের ভিত্তি স্থাপন, ভিত্তির উন্নতি সাধন ও 
নিন্মাণের জন্য যেন পূর্বব-নির্ধারিত। তাদের পূর্ণযোগের মূল 
উদ্দেশ ও লক্ষ্য হল “এক আস্তর আত্োন্নতি যার দ্বারা যে 
কেউ এই পথ অনুসরণ করে থাকে সেই-ই কালে অদ্বিতীয় 
সদবস্তকে প্রত্যেকের মধ্যে আবিষ্কার করতে পারবে এবং 
মানসচেতনার চেয়ে এক উদ্ধতর চেতনার বিবর্তন হবে য। হল 
আধ্যাত্মিক, যা সেই অতিমানস চেতনা যে মানস প্রকৃতিকে 
রূপান্তরিত করে দ্বিব্যে পরিণত করবে ।”১৮৫ পণগ্ডিচেরীর 
আশ্রমকে নিঃসন্দেহে বল! যায় একটি প্রধান বীক্ষণাগার 
যেখানে বিরাট গবেষণা চলছে । একভাবে বিশ্বটাই শ্রীঅরবিন্দ 
আশ্রমের অন্তর্গত বল! যায়। শ্রীমা ও শ্রীঅরবিন্দের কাছে 
কত অদৃশ্য হাত প্রসারিত হয় পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে, 
তার৷ শুধু ডাকে, নেরাষ্টের স্কেত পাঠায় বারে বারে এবং 
১৮৪ | ৬৬০: 0৫ 602 1100061, 0, 2 
১৮৫1 5101 40100100 850 [715 4১812189) 0, 62 


শ্রীমা-প্রসঙ্ক ১২১ 


তাদের নিবেদন যদি আন্তরিক ও জরুরী হয় তখনই এ'দের 
কাছ থেকে সাড়াও পাওয়া যায় সুনিশ্চিত ও অব্যর্থ- 
ভাবে ।১৮৩ 

শ্রীঅরবিন্দ ও শ্রীমা উভয়েই আমাদের সতর্ক করে 
দিয়েছেন এই বলে যে আসল কাজ শুরু হয়েছে মাত্র । অতি- 
মানসের অবতরণ, মানবের দেবত্লাভ, জড়গ্রকৃতির অতি- 
প্রাকৃতে রূপাস্তর-_-এ লবই অভিপ্রেত ; এর চেয়ে বেশী কিছু 
বল বিপজজনক | শ্রীমরবিন্দ বলেন, “একাস্ত নিঃসন্দেহে 
আমি জানি অতিমানস শক্তি হল এক সত্য, প্রকৃতির প্রতিটি 
স্তরে তার আবির্ভাব অনিবার্ধ। প্রশ্ন হলশুধুকবেওকি 
ভাবে। তাও উদ্ধের কোন এক স্তর থেকে ,সন্কল্পিত ও 
সুনির্দিষ্ট হয়ে আছে; কিন্তু এখানে বিরুদ্ধ শক্তির কঠিন 
বিরোধিতার মধ্য দিয়ে তাকে সংগ্রাম করতে হচ্ছে ।****** 
তবে এ নিশ্চিত যে অনেক পুণ্য আত্মাকে এ জগতে পাঠানে। 
হয়েছে যাতে এখনই এখানে সে-বূপাস্তর কার্যকরী হয়। 
এই হল অবস্থা । আমার বিশ্বাস ও ইচ্ছা হল এখনই হোক 
এর সংসিদ্ধি”।১৮৭ নূতন সমন্বয়ের মধ্যে জড় ও আত্মার ছুই 
শ্রেণীকে গ্রহণ করে নিতে হবে, আবার অতিক্রম করতে 
হবে তাদের: 

১৮৬ | 02. (10, 960018915 4১ 051501221012180651 00 119 

4১052150016 0৫ 61১০ 4১0008151956 


১৮৭ | [,66051:5 0৫6 911 £0101500 € 210 82163 ) 1019. 
67-68 


১২২ শ্রীমা-প্রলঙ্গ 


ওই দেখ, ঈশ্বরের ছুটি বিশাল জগৎ_ 
আত্ম! ও অন্ুভূতির__ 
তাদের পরিণয় হল 
এই সঙ্কীর্ণ বাসর-সজ জায়; 
হ্যা, ক্ষুদ্র পতঙ্গের গুন উঠল 
দেবদুতের উত্তর নিয়ে 
তোমার দেহের প্রাঙ্গণ পার হয়ে। ১৮৮ 
এ ভাবে মনকেও অতিক্রম করতে হবে এবং এক নৃতন 
তত্বকে-_অতিমানস শক্তিকে--অবতরণ করাতে হুবে ও তাকে 
জড় চেতনার সাথে অঙ্গাঙ্গী সম্বন্ধে বাধতে হবে | এ কি মিথ্যা 
স্বপ্ন ছাড়া আর কিছু নয়? অন্থুরের। বিজয়ী, আর দেবতারা 
পশ্চাদপনরণই করে চলেছে। বিশ্বাস ফুরিয়ে গিয়েছে, 
কৃতজ্ঞতার জন্ম হয় নি”; ক্ষুত্র বৃহতের দায়িত্ব পালন করে 
চলেছে ; পশ্চাদপসরণই হল কালের নীতি । কিন্তু শ্রীমার 
আকাশভেদী বাণী উঠেছে দ্বিধাহীন নির্ভীক 
“এগিয়ে চল, এগিয়ে চল নিরস্তর ! 
সুড়ঙ্গের শেষপ্রান্তে আছে আলো '"' 
যুদ্ধের অস্তে বিজয় |” 


শেষ অধ্যায় 


পূর্বের অধ্যায়গুলি লেখা হয়েছিল ১৯৪৯ সালে নভেম্বর 
মাসে এবং যদিও তারপর মাত্র ছুটি বছর কেটে গিয়েছে কিন্তু 


১৮৮ | 1815015 11002019501 


শ্রীমা"প্রসঙ্গ ১২৩ 


তারই মধ্যে শ্রীমার বিস্তীর্ণ কর্্মরাজি আশ্রমে ও তার বাইরে 
আরো প্রসারিত ও প্রশংসিত হয়েছে । তবে এরি মাঝের 
একটি ঘটন। সার বিশ্বকে প্রচগ্ডভাবে আলোড়িত করেছে। 
৫ই ডিসেম্বর সকালে খবর ছড়িয়ে পড়ল আকাশে বাতাসে 
শ্রীঅরবিন্দের মহাসমাধির। অদৃষ্টের কঠোর পরিহাস যা 
তা “সাবিভ্রী”তে পৃর্বের্বেই বলা ছিল, অবশেষে তার বিকাশ 
হল এই মর্ত্যে : 
অনস্ত নিশীথের মধ্যে প্রবেশ করতে হবে তাকে, 
যেমন জানে তার সৃর্ধ্যকে তেমনি জানতে হবে 
বিধাতার অন্ধকাঁরকে 
এরই জন্যে গহ্বরের তলায় নেমে যেতে হবে তাকে, 
এরই জন্যে সে ছুঃখের অসীম ছুর্গ সব আক্রমণ করবে । 
অক্ষয়, জ্ঞানী, অসীম 
মর্তবকে ত্রাণ করতে সে নরকেও প্রবেশ করবে। 
শাশ্বত জ্যোতি নিয়ে আবিভূতি হবে সে 
যেখানে বহু বিশ্বের সীমানা! এসে মিশেছে"*" 
তখন উৎপাটিত হবে সব যাতনার মূল... 
এ মরজীবন হবে অমীমের আনন্দ-নিবাস। 
অন্নময় পুরুষ পাবে অমৃতের স্বাদ 
বিশ্বত্রাতার তখনি হবে কর্মের সমাপ্তি। ১৮৯ 
শীতের সম্ভারের আপাত প্রত্যাহারের পর পূর্বনির্ধারিত 
সমৃদ্ধ বসন্তের. পদক্ষেপ অবশ্থাস্ভাবী। তবুও সাধারণ মানুষ এ 
১৮৯ | 59851180901 ৬7, 08130 2. 


১২৪ শ্রীমা-প্রসঙ্গ 


ঘটনাটির নিজের মতন অর্থ অনুমান করে নিল, শোকাদ্িত 
হতবুদ্ধিও পরে শাস্ত হয়ে উঠল-_কিন্তু একেবারে আশ্রমের 
মধ্যে এক স্বচ্ছ নিস্তরঙ্গ ভাব ছিল। যদ্দিও আপাত দৃষ্টিতে 
জীবনদীপ নিব্র্বাপিত হয়েছিল রাত ১-২৬ মিনিটে, কিন্তু 
কয়েকদিন শ্রীমরবিন্দের দেহ নিশ্চল হয়ে ছিল, “বিজয়ের 
শাস্তির বিশালতা নিয়ে, যা সহ সহত্র দর্শানার্থী দর্শন 
করেছিলেন ।” ১৯০ শ্রীমা ঘোষণা করলেন যে প্গ্রীমর- 
বিন্দের দেহ অতিমানস-জ্যোতির বর্ণচ্ছটায় উদ্ভাসিত এবং 
পচনের কোন চিহ্ছই নেই,” তাই প্রকৃতির স্বাভাবিক 
গতিকে বাহা রাসায়নিক প্রক্রিয়ার দ্বারা ব্যাহত কর! হয়নি । 
৯ই ডিসেম্বর বিকাল ৫টার সময় গ্রীঅরবিন্দের দেহ আশ্রমেরই 
প্রাঙ্গণে সমাধিস্থ করা হয়েছিল ।১৯১ 

মানুষ অদম্য শোকে শোকাতুর যখন তখন শ্রীমায়ের 
সাম্তবনাপুর্ণ এই সব বাণী এসেছিল নব-জীবন-দীপ্তি সঞ্চারণ 
করে। ৭ই ডিসেম্বর বললেন £ 

“ভগবান আজ প্রাতে আমায় কথ দিয়েছ নিশ্চয় করে, 


১৯০ | [, 0). 9901)15815 "71)5 52551075 0£ 911 2010৭ 
011500” 0, 5 
১৯১। লেখক নীরদ্বরণের “ভ্রীঅরবিন্দ £ এই যে আমি এখানে, 
এই যে আমি এখাঁনে” ও কে, ডি, সেঠনার *শ্রীঅরবিন্দের মহাসমাধি ও 
নিগুঢ় তথ্য ও পরিণতি” শীর্ষক বই দুইখানির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ 
করেছেন, ঘটনাটির মানবিক ও বিশ্বজনীন পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ণ অর্থের 
'জন্যে। 


শ্রীযা-গ্রসঙ্ ১২৫ 
যতদিন তোমার কাজ পূর্ণ না হবে ততদিন তুমি থাকবে 
আমাদের কাছে, শুধু দিশারী আলোকারী চৈতন্থরূপে নয়, 
তুমি উপস্থিত থাকবে কর্মেরও মধ্যে জাগ্রতভাবে। অভ্রান্ত 
কথায় তুমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তোমার সবখানি থাকবে 
এখানে, পৃথিবীমণ্ডল পরিত্যাগ করবে না যতদিন পৃথিবী 
রূপাস্তরিত না হয়।” 

৯ই ডিসেম্বর বললেন £ 

“হে, আমাদের ভগবানের জড় আবরণ, তোমাকে 
আমাদের অশেষ কৃতজ্ঞতা নিবেদন করি । তুমি যে আমাদের 
জন্য এত করেছ--এতখানি কাজ করেছ, যুদ্ধ করেছ, কষ্ট 
করেছ, আশ। করেছ, সহ্য করেছ, তুমি যে সব কিছু সন্কল্প, 
করেছ, চেষ্টা করেছ, তৈরী করেছ, সংসিদ্ধ করেছ আমাদের 
জন্য ; তোমার সম্মুখে প্রণত আমরা, আর এই প্রার্থন৷ তোমার 
কাছে, আমর! যেন কখন তুলে না যাই, এক মুহুর্তের জন্যেও, 
তোমার কাছে সবকিছুর জন্যে কত আমরা খণী”। 
১৪ই ডিসেম্বর আবার জানালেন £ 

“্রীঅরবিন্দের জন্য শোক কর] অর্থ শ্রীঅরবিন্দকে 
অপমান করা-তিনি এখানে রয়েছেন আমাদের সঙ্গে জাগ্রত 
জীবস্ত |” 

এবং ২৮শে ডিসেম্বর ১৯৫০ সালে বললেন ; 

“আমর! তার সান্িধ্যে দাড়িয়ে, যিনি আপন স্থূল জীবন 

বলি দিয়েছেন তার রূপান্তর কাজটি আরো! িনিঃগর সম্পর় 

করবার জন্যে। 


১২৬ ভ্রীমা-প্রণঙ্গ 


তিনি সর্বদা আমাদের সঙ্গে রয়েছেন, জানছেন আমরা 
কি করি, জানছেন আমাদের প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি অনুভব, 
প্রতিটি কর্ম ।* 
শ্রীঅরবিন্দ কথ! দিয়েছেন নিশ্চয় করে, যখন তিনি 
ছিলেন “দৃষ্টত;৮ আমাদের সঙ্গে, যে তার এবং শ্রীমায়ের 
চেতন! এক ও অভিন্ন এবং বাস্তবিকই যদি «কেউ শ্রীমার 
চেতন। অস্তরে অন্রুভব করে তবে তার জান! উচিত যে তার 
পিছনে আমিও আছি ।”১৯২ 
সেই এক জ্যোতিকে অবতরণ করাবার জন্ত যত সব 
বিরুদ্ধ তামসী শক্তির বিরুদ্ধে যে একক সংগ্রাম শ্রীম! 
চালিয়েছেন সে দৃশ্য সব প্রত্যক্ষবাদী মনের কাছে দিব্য- 
সংগ্রামের প্রতিরূপ পরিগ্রহ করে, যে সংগ্রামের কথা 
গুরুদেব নিজেই ভবিষ্যদ্বাণী করে গেছেন নিম্নলিখিত প্রচণ্ড 
নগ্নত৷ ও প্রদীপ্ত বাণীর মারফতে £ 
এ বিরাট বিশ্বে একলা ধাড়িয়ে 
নীরব আত্মার প্রবল এষণায় 
মুর্তত্যাগী অস্তরাত্মার তীব্র আবেগে 
নিঃসঙ্গ এক সে-ই তার কন্মের যোগ্য ।১৯৩ 
শীঅরবিন্দের এই আপাত “প্রত্যাহার” এক অদ্ভূত ফলে 
পরিণত হয়েছে য1 তার অপূর্ব উপস্থিতির বাস্তবতাকে আরও 
প্রকট করে তুলেছে। নীরদবরণ লিখলেন এই প্রসঙ্গে ঃ 


১৯২। 14866215 01 911 20101017700 0127175 0100561, 
০. 29 


শ্রীমা-প্রসঙ্গ ১২৭ 


*গ্্রীমরবিন্দের সমাধিবক্ষ বিদীর্ণ করে আগুনের সহতআ্র জিহবা 
উঠেছে, চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে আশ্রমকে আবৃত করে, তা 
প্রত্যেক সাধকের বক্ষে জ্বলছে এক অনিব্বাণ উদ্ধমুখী 
আহ্বানে । আর শ্রীমার অন্তর ও বাহির ঘিরে, চেতনায় 
প্রদীপ্ত হয়ে, দেহে এক হয়ে রয়েছে তার বিদেহ। শুনতে 
পাই আমরা তার সদা-জাগ্রত নিঃশব্দ পদসঞ্চার এ মাটিতে, 
দেখতে পাই তার উজ জ্বল সুবর্ণ দেহ, শুনতে পাই তার মৃছ 
গম্ভীর ভাষা 1৮১৯৩ 

ইতিমধ্যে রূপান্তরের কাজ অবিচলিতভাবে এগিয়ে 
চলেছে £ শ্রীমায়ের শক্তি এখন পৃথিবীতে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের 
যে সহত্রাধিক কর্মাবলী তার উপর পূর্বের চেয়েও সক্রিয়ভাবে 
নিযুক্ত । আশ্রমের নানাবিধ কার্যাবলী ও শ্রীঅরবিন্দ ও 
শ্রীমায়ের আদর্শানুযায়ী পূর্ণযোগের পথানুসরণের সঙ্গে সঙ্গে 
আত্তর্জাতিক «বিশ্ববিষ্ভালয় কেন্দ্র” সংগঠিত হচ্ছে এবং তার 
দ্বার পরিচালিতও হচ্ছে । 

২৪শে এপ্রিল ১৯৫১ সালে শ্রীঅরবিন্দ স্মৃতি সম্মেলনে 
শ্রীমা! বাণী দিলেন £ 

“জ্রীঅরবিন্দ আমাদের মধ্যে উপস্থিত এবং এই বিশ্ব- 
বিচ্ভালয় কেন্দ্র স্থাপনে তিনি তার সমগ্র সজনী শক্তি দিয়ে 
পৌরহিত্য করছেন এবং তিনি বহুদিন ধরে স্থির করেছিলেন 
যে এরূপ কেন্দ্রই প্রস্ততির একমাত্র উপায় যার দ্বার সমগ্র 


১৯৩। *9101 40100117930 ১ 1 800 17616) 1:81 11616 
০, 24 


১২৮ শমা-প্রস্থ 


মানবজাতি অতিমানস জ্যোতিকে গ্রহণ করতে পারে, যে 
জ্যোতি মানবসমাজের প্রবুদ্ধ মানবের রূপান্তর ঘটাবে এবং 
যা স্থট্রি করবে এক নব জাতি, প্রকাশ করবে এক নব জ্যোতি, 
শক্তি ও জীবন।” 

পণ্ডিচেরীতে বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রের উদ্বোধন শ্রীমা 
করেছেন এবং এই নৃতন শিক্ষার গবেষণার কাছেই মানুষের 
আকাঙজিক্ষিত অতিমানস রূপান্তর লাভের চাবিকাঠি । এখানকার 
পাঠক্রমে কিছু বাদ নেই বা ভ্রান্ত একদেশদশিতা নেই ; 
কঙ্াবিদ্যা ও বিজ্ঞানের মধ্যে অযথা পরস্পরবিরোধ ভাবের 
আনুকৃল্যও নেই ; তবুও তার1 পরস্পরে অখণ্ভাবে অবিচ্ছিন্ন 
এবং এখানে যে শিক্ষা দেওয়] বা নেওয়া হয় তা আধুনিক 
নির্লজ্জ ব্যবসায়ী ভাবাপন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক 
উন্নততর প্রকৃতির। বুদ্ধিগত ও বিজ্ঞানগত নিয়মানুব্থী 
অনুশীলন থাকবেই ; আবার কলাবিদ্যার মানুষীকরণের 
প্রভাবও থাকবে; তবে সকলে একযোগে শ্রীঅরবিন্দ 
উৎস থেকে আক পান করে আত্মার প্রসারতা ও স্যজন- 
শীল একত্বতার বৈশিষ্ট্য উপভোগ করবে । নলিনীকাস্ত 
গুপ্তের ভাষায় বলা যায় যে এ বিশ্ববিদ্যালয়-কেন্দ্রের' উদ্দেশ্য 
হল “পৃথিবীতে নৃতন মানবের .প্রস্তাবন1-নূতন জীবন, নৃতন 
চেতন! নিয়ে । এ সব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব এবং সম্পন্নও 
হবে এ প্রতিশ্রতিও দেওয়া হয়েছে । শ্রীমা আমাদের মধ্যে 
আবিভূতা, তিনিই প্রতিশ্রুতির সার্থক পরিপূর্ণত। দান 
করবেন ।৮ -ব্যর্থতার দীর্ঘ রাত্রি নিশ্চয়ই শীঘ্র সমাপ্ত হবে £ 


'ভ্রীমা-গ্রসঙ্গ ১২৯ 
অধস্তন জ্ঞানের অর্ধ-আলে! উদ্ধতার শুভ্র দীপ্তির বারা অতি- 
ক্রাস্ত হবে ; তারপর শক্তি জ্ঞান সৌন্দর্য্য ও আনন্দের সাথে 
মিশে হবে দিগুণ বদ্ধিত 

এ ভাবে মর্ত নিজেকে খুলে ধরবে দেবতার কাছে 

এবং সাধারণ প্রকৃতি বিরাট উদ্ধায়ণ অন্থভব করবে ; 

সাধারণ কর্ম আত্মার দীপ্তিতে হবে উত্ভতানিত 

এবং ইষ্টকে দর্শন করবে সাধারণ বস্তর মাঝে। 

প্রকৃতির অস্তিত্ব হবে গুপ্ত দেবতাকে প্রকাশ করতে, 

আআ! গ্রহণ করবে মানবলীল। 

এই মর্ত্য জীবনই হবে দিব্য-জীবন।৯৯৪ 


১৯৪ | 92510018901 41, ০8৪6০ ]. 
শ্রীমা-»